আদালতের প্রতি আসামির অনাস্থায় পিছিয়ে গেল লাল চাঁদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ
· Prothom Alo

রাজধানীর পুরান ঢাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী ৩ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন আদালত। আজ সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালত এই দিন ধার্য করে আদেশ দেন।
Visit rouesnews.click for more information.
এই আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। সেই আবেদনের ওপর শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রার্থনা করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক শুনানি পিছিয়ে আগামী ৩ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
১৯ জুলাই ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালতের প্রতি অনাস্থা জানান মাহমুদুল হাসান মাহিন নামের এক আসামি। মাহিনের পক্ষে তাঁর আইনজীবী মাশরুর হোসাইন এই আবেদন জমা দেন। তবে ওই আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২১ জন আসামি। তার মধ্যে ৯ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাঁরা হলেন মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম ও মো. সাগর।
অন্যদিকে আসামি মো. রুমান ব্যাপারী, মো. আবির হোসেন, মো. পারভেজ ও সজীব ব্যাপারী উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। এ ছাড়া জহিরুল, মো. ইমরান, মো. শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউদ্দিন রাজীব, মো. হোসেন চৌকিদার, মো. সারোয়ার হোসেন টিটু, মো. মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন ও অপু দাস পলাতক।
গত বছরের ৯ জুলাই সন্ধ্যায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে একদল ব্যক্তি ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদকে পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে হত্যা করেন।
পরদিন নিহত ব্যক্তির বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারে ১৯ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
প্রায় ছয় মাস তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আদালতে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ থানা) তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
পুরান ঢাকায় লাল চাঁদ হত্যা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুতবে তদন্তে ত্রুটি থাকায় আদালত আবার তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ পুনঃ তদন্ত শেষে ওই ২১ জনের বিরুদ্ধেই সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
নিহত লাল চাঁদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারির ব্যবসা করতেন।