তিনি ফিরবেন, নাকি ফিরবেন না

· Prothom Alo

মিঠু মিয়া আর হিটু মিয়া—এই দুই দাগি জুয়াড়ির মাথায় বাজি ধরা ছাড়া কিচ্ছু নেই। বিশ্বকাপের প্রতিটা ম্যাচে তারা বাজি ধরেছে। দেখা গেল, প্রথম দশ মিনিটে গোল হওয়ার পক্ষে মিঠু পাঁচ শ টাকা বাজি ধরল। হিটু বিপক্ষে পাঁচ শ টাকা ধরল। গোল হলে মিঠুকে হিটু দিল পাঁচ শ টাকা। আবার যেমন ঠিক হলো: আগামী কুড়ি মিনিটে ফাউল হলে একজন পাবে এক হাজার, ফাউল না হলে অন্যজন পাবে এক হাজার।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

 বিশ্বকাপের বাইরেও মিঠু-হিটুর বাজি বন্ধ থাকে না। যেকোনো কিছু নিয়ে তারা বাজি ধরতে পারে। ধরা যাক, তারা একটা রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। রাস্তার দুই পাশে ঘন ঝোপ আর বড় বড় গাছ। হাঁটতে হাঁটতে তারা একটা মোড়ের কাছে এল। ঝোপ আর গাছের কারণে মোড়ের ওপাশটা দেখা যাচ্ছে না। ফট করে মিঠু বলল, ‘মোড়ের মাথা থেকে প্রথম কী আসবে? বাস, নাকি প্রাইভেট কার, নাকি সিএনজি? বাসে পাঁচ শ, প্রাইভেট কারে এক হাজার, সিএনজিতে দেড় হাজার।’ মিঠু বাসে বাজি ধরল। হিটু ধরল সিএনজিতে। মিনিট কয়েক পর দেখা গেল, মোড়ের মাথা থেকে একটা সিএনজি উঁকি মারছে। হিটু হেসে হাত বাড়াল। মিঠু মন খারাপ করে সেই হাতে দেড় হাজার টাকা তুলে দিল।

এ ধরনের বাজি মিঠু-হিটু প্রতিদিনই ধরে।

তবু আমারে দেব না ভুলিতে

২ 

পানের দোকানের বেঞ্চিতে দুটো সুপারি রাখা। পাকা সুপারি। ভেজা সুপারি। খোসা ছাড়ানো হয়নি। বয়স্ক মানুষ যাতে সহজে চিবুতে পারে, সে জন্য পাকা সুপারি পানিতে দু–তিন দিন ভিজিয়ে রাখা হয়। তাতে খোসা পচে যায়। পানি থেকে তোলার পর সেই সুপারি থেকে দুর্গন্ধ ছোটে। সেই গন্ধে সুপারির ওপর মাছি এসে বসে।

বেঞ্চির ওপর পাশাপাশি দুটো এ-ফোর সাইজের কাগজ বিছিয়ে সেই কাগজের ওপর সুপারি দুটো রেখেছে মিঠু-হিটু। প্রথম কাগজে লেখা, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরবেন।’ দ্বিতীয় কাগজে লেখা, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরবেন না।’ বাজির শর্ত হলো, যে সুপারিতে প্রথম মাছি এসে বসবে, সেই সুপারি জয়ী হবে।

প্রথম সুপারিতে মিঠু পাঁচ শ এবং দ্বিতীয় সুপারিতে হিটু পাঁচ শ টাকা রাখল। বেঞ্চির চারপাশে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। একটা বৃত্তাকার জটলা দেখা যাচ্ছে। রেফারি আয়নাল মিয়া বলল, ‘স্টার্ট!’

সব চোখ তাকিয়ে আছে ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরবেন’ এবং ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরবেন না’র দিকে। মিনিটখানেকের মধ্যে দেখা গেল, একটা মাছি উড়ে আসছে। বড় নীল মাছি। সে সুপারি দুটোর ওপর চক্কর খাচ্ছে। একবার সে ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরবেন’-এর ওপর বসতে গেল। মিঠু আনন্দে প্রায় চিৎকার দিয়ে উঠতে যাচ্ছিল। কিন্তু মাছিটা নামল না। সে আবার উড়ে ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরবেন না’র ওপর বসতে গেল।

হিটু আনন্দ-উত্তেজনায় দাঁত কিড়মিড় করতে লাগল। কিন্তু সেখানেও মাছিটা নামল না। সে আবার প্রথম সুপারির দিকে গেল। কিন্তু নামল না। আবার ফিরে এল।

মাছিটা পনপন শব্দ করে সুপারি দুটোর ওপর চক্কর খাচ্ছে। নামতে যাচ্ছে, কিন্তু নামছে না। সবাই সেদিকে চেয়ে আছে। একজন বিরক্ত হয়ে বলল, ‘এ তো নিরপেক্ষ না, এ তো দেখি পুরাই পলিটিক্যাল মাছি।’ একজন বলল, ‘মার শালারে!’

মিঠু দুই হাতের পাঞ্জা এক করে চাপা চড় দিয়ে মাছিটাকে মারতে গেল। আচমকা মাছিটার জবান খুলে গেল। সে পনপন করা আওয়াজের মধ্যে বলে উঠল, ‘তোরা ডিসেম্বর পর্যন্ত সুপারি দুইটা ভিজায়ে রাখ, থার্টি ফার্স্ট নাইটে খবর দিস; তারপর আইসা দ্যাখব কোনটায় বসা যায়!’

Read full story at source