‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘এইসব দিনরাত্রি’র নির্মাতা মুস্তাফিজুর রহমানের বিদায়

· Prothom Alo

দেশের টেলিভিশন অঙ্গনের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, নির্মাতা ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান আর নেই। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। প্রথম আলোকে মুস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তাঁর স্ত্রী রওশন আরা মুস্তাফিজ।

রওশন আরা মুস্তাফিজ জানালেন, মুস্তাফিজুর রহমান ভালোই ছিলেন। শুধু খেতে অনীহা ছিল। ডায়াবেটিস ছাড়া তাঁর অন্য কোনো রোগ ছিল না। গতকালও ঠিকঠাক ছিল। কথাবার্তা বলছিল। হঠাৎ করে বাসায় তিনি মারা যান। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, আরও আগেই তিনি মারা গেছেন।

Visit freshyourfeel.org for more information.

মুস্তাফিজুর রহমানের দুই সন্তান—বড় ছেলে তানভীর রানা মুস্তাফিজ কানাডার টরন্টো আর ছোট ছেলে রাজিন অভি মুস্তাফিজ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে থাকেন। দুজন দুই দেশের ব্যাংকে চাকরি করছেন। তাঁরা দেশে ফিরলেই বাবার সমাহিত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন মুস্তাফিজুর রহমানের মরদেহ মহাখালীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে।

মুস্তাফিজুর রহমান ১৯৪৩ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
মুস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সোনালি সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা ও প্রযোজক ছিলেন। তাঁর প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে বাংলা টেলিভিশনের কালজয়ী বহু নাটক। এর মধ্যে ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘এইসব দিনরাত্রি’ এবং ‘শঙ্খনীল কারাগার’ দর্শকমহলে আজও সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর সৃজনশীলতা, দূরদর্শিতা ও নির্মাণশৈলী দেশের টেলিভিশন নাটকের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে মুস্তাফিজুর বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে দেশের বেসরকারি টেলিভিশনশিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রেখে বাংলাভিশন ও গাজী টিভি (জিটিভি) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর হাত ধরেই আধুনিক সম্প্রচার ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। গণমাধ্যমের অসংখ্য কর্মী, নির্মাতা ও উপস্থাপকের পেশাগত জীবনের শুরু হয়েছিল তাঁর দিকনির্দেশনায়। তিনি শুধু একজন প্রশাসক বা প্রযোজকই ছিলেন না, ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক, অভিভাবক ও প্রজন্ম গড়ার কারিগর। নতুনদের সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রতিভা বিকাশে তিনি সব সময় আন্তরিক ছিলেন।

Read full story at source