স্ত্রীসহ কয়েকজন মারধর করে ফেলে রাখেন, পরে মৃত্যু: পুলিশ

· Prothom Alo

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে স্ত্রীসহ কয়েকজন মারধর করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ মারধরের এক পর্যায়ে তাঁকে সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হাশেম (৩৭)। তিনি উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশাপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে উপজেলার বরুমতি সেতু এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।

Visit sportbet.rodeo for more information.

গ্রেপ্তার স্ত্রীর নাম আয়শা আকতার (৩৫)। নিহত মোহাম্মদ হাশেমের বাবা বানু মিয়ার করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকালে চন্দনাইশ থানায় এ মামলা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকালে ওই ব্যক্তি সড়কের পাশে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তাঁর ডান পা থেকে রক্ত পড়ছিল। সড়ক দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন যানবাহনের দিকে তিনি হাতে ইশারা করে বাঁচার আকুতি করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে কয়েকজন পথচারী হাশেমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মোহাম্মদ হাশেম হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আয়শা আকতারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিহত হাশেমের মেজ ভাই মোহাম্মদ মোস্তাক প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ১৬ বছর আগে একই উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর এলাকার বাসিন্দা ও ফুফাতো বোন আয়শা আকতারের সঙ্গে হাশেমের বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

সড়কের পাশে কাতরাচ্ছিলেন রক্তাক্ত ব্যক্তি, হাতের ইশারায় বাঁচার আকুতি

মোস্তাক বলেন, চার ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগির পর হাশেম বাবার কাছ থেকে পাওয়া নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। সেখানে স্ত্রীর নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতেন। প্রায় চার বছর আগে হাশেম সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন।

মোস্তাকের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর হাশেমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিরোধ বেড়ে যায়। এ সময় স্ত্রী ও তাঁর স্বজনেরা হাশেমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। অন্য লোকজন দিয়েও তাঁকে মারধর করানো হতো। গত মাসেও তাঁর স্ত্রী মারধর করে হাশেমের মাথা ফাটিয়ে দেন। গত বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে হাশেমকে মারধর করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁকে চন্দনাইশের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি সেতুর পাশে ফেলে যাওয়া হয়।

জানতে চাইলে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, মোহাম্মদ হাশেমকে তাঁর স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে মেরেছে বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। এ মারধরে তাঁর ডান পা ভেঙে গিয়েছিল। এ ঘটনায় মোহাম্মদ হাশেমের বাবা বানু মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

Read full story at source