সৌদি আরব ও কাতারে বাড়তি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ইঙ্গিত দিচ্ছে
· Prothom Alo

সৌদি আরব ও কাতারে বাড়তি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে আবার হামলা চালানো হবে কি না, সম্প্রতি এমন প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের খবর এল।
Visit casino-promo.biz for more information.
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার সুরক্ষায় সৌদি আরবে একটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার সুরক্ষায় আরেকটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠানো হয়েছে কাতারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার সেনা আর নতুন মার্কিন রণতরি, ইরান যুদ্ধ কি আবার শুরু হচ্ছেবর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশে বাড়তি প্যাট্রিয়ট মোতায়েনের ঘটনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিশ্বজুড়ে আকাশ সুরক্ষায় প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির চাহিদা অনেক বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এর সরবরাহ সীমিত।
অলাভজনক সংস্থা মিসাইল ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিজ দেশে মাত্র ৩৩টি এবং বিদেশে ২৭টি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি মোতায়েন রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার সুরক্ষায় সৌদি আরবে একটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার সুরক্ষায় আরেকটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠানো হয়েছে কাতারে।
কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিজস্ব প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার সবচেয়ে বেশি চাপ তাদের ওপর পড়ায় অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য তারা ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করছে।
বিশেষ করে সৌদি আরব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও শহরগুলো ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের হামলার শিকার হচ্ছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইরানপন্থী।
বিমানবাহী মার্কিন রণতরি ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টসৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার জন্য ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে। আর হুতিরা দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি বন্দর ইয়ানবুতে হামলা চালিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব দেশ মনে করে, ইরান যখন উপসাগরীয় দেশগুলোতে তীব্র হামলা চালায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের যথেষ্ট সতায়তা দেয়নি।
এই যুদ্ধের ফলে জ্বালানি-সমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো ভূমিকা এবং এসব দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা সম্পর্ক নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানানোর পর সর্বশেষ এসব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করা হলো। বৃহস্পতিবার তিনি নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ‘সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘এখন আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে; তারা হয় খুব ন্যায্য একটি চুক্তিতে সই করবে, নয়তো আর টিকেই থাকবে না।’
এ সময় ট্রাম্প ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা এবং তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশবিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট গত রোববার সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা করে। আর ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ পরদিন সোমবার যাত্রা করেছে। এতে তিনটি উভচর জাহাজ রয়েছে, যেগুলোতে প্রায় ১০ হাজার মেরিন সেনা রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন আগে থেকেই ওই অঞ্চলে রয়েছে। নতুন করে আরেকটি রণতরি পাঠানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরির সংখ্যা দাঁড়াবে তিনটিতে, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
ইরানের আশপাশে নতুন করে তিন রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র