কাল ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সফরসূচিতে যা রয়েছে
· Prothom Alo

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফেনী সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফেনীতে এটিই তাঁর প্রথম সফর।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল সকাল সাড়ে আটটায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছাবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
ফেনীর তিন উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে, যা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বেলা ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর বেলা দুইটায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।
বেলা তিনটায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি শেষে বিকেল পাঁচটায় তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ত্যাগ করবেন। রাত নয়টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
১৫০০ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প
পরশুরামে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক যে প্রকল্পের উদ্বোধন হবে, সেটি চলতি বছরের ১৬ জুন একনেকে অনুমোদন হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখানে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরই প্রস্তুতি চলছে। গত সোমবার তোলাভবনের সৌর প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ
ফেনীর তিন উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে, যা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনাক্রমে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় সরকারি ভবনগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজস্ব অর্থায়ন থেকে তিন উপজেলায় ৯৬২ কিলোওয়াট বা প্রায় ১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট ও ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার স্থাপন করা হয়।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (রিনিউয়েবল এনার্জি) মো. শাহিনুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘সরকারিভাবে সরকারি ভবনের ছাদে সোলার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এটিই প্রথম। ফেনীর তিন উপজেলায় স্থাপিত প্রতিটি সোলার সিস্টেম সচল রয়েছে। অনলাইনে প্রতিটি সাইটের জেনারেশন তাৎক্ষণিক দেখা যাচ্ছে। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোর্ডরুম থেকে এটি সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিজস্ব স্থাপনায় সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ১৫ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল সিস্টেম বসানোর প্রাথমিক নির্দেশনা দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ২৬ জুন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘ন্যাশনাল রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে ধারাবাহিক তদারকি নির্দেশনাসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে পরিপত্র বা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
সফর ঘিরে প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ফেনীতে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। পরশুরামের মুহুরী নদী–সংলগ্ন ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থলের অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। উদ্বোধনী ফলকও এরই মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভাস্থলে পানির ট্যাংক, পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ স্যানিটেশন–ব্যবস্থার কাজ চলছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও চলছে।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে সৌর প্যানেল। সোমবার দুপুরে তোলাসড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি বিভাগের পক্ষ থেকে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, ‘সভাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে তিনটি জোনে ভাগ করা হবে। এগুলো হলো রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট জোন। রেড জোনে যাঁরা প্রবেশের সুযোগ পাবেন, তাঁদের বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্য থাকছে আলাদা কার্ড। যাঁরা এই কার্ড পাবেন, তাঁরাই কেবল ইয়েলো জোনে যেতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে যে এলাকা থাকবে, সেটি বিবেচিত হবে হোয়াইট জোন হিসেবে। এই জোনে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তায় এসএসএফ, পিজিআর ছাড়াও সীমান্ত এলাকা হওয়ায় নয় প্লাটুন বিজিবি, তিন হাজারের মতো পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, এসআরবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী প্রধানমন্ত্রীর নানার বাড়ি। এই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফেনীর মানুষ প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় রয়েছেন।