বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক ত্রুটি, ‘স্যাবোটাজ’ কি না প্রশ্ন রিজভীর
· Prothom Alo

দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক কারিগরি ত্রুটির ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, এসব ঘটনা ‘স্যাবোটাজ’ (নাশকতা) কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে।
Visit newsbetting.bond for more information.
শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। ১২–দলীয় জোট এ সভার আয়োজন করে।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশে গ্যাস–সংকট রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে। মহেশখালীতে রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রমেও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আবারও খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ছয় মাসে এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। রিজভী বলেন, ‘আজকে এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রকামী মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে তা যেন সীমালঙ্ঘন না করে।
ইসলামি উত্তরাধিকার আইন নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানেরা মা–বাবার যথাযথ খোঁজখবর রাখেন না। এ বিষয়ে যে আইন করা হয়েছে, তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ১২–দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, সরকারকে ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে গঠনমূলক সমালোচনা করা হবে। তবে বর্তমান বিরোধী দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন মহিউদ্দিন ইকরাম, মো. শামসুদ্দিন পারভেজ, আহসান হাবিব লিংকন, মাওলানা আবদুল করিম, কারি আবু তাহের, আমিনুল ইসলাম, এম এ বাশার, ফিরোজ মোহাম্মদ লিটন প্রমুখ।