জাপানে ভেন্ডিং মেশিন এত জনপ্রিয় কেন
· Prothom Alo
জাপান মানেই ভেন্ডিং মেশিনের দেশ। তাজা ফুল, গরম রামেন থেকে শুরু করে ছাতা বা খামারের তাজা ডিম—সবকিছু কেনার জন্যই সেখানে ভেন্ডিং মেশিন রয়েছে। ১২ কোটি ২০ লাখ মানুষের এই দেশে প্রায় ২৬ লাখের বেশি ভেন্ডিং মেশিন রয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪৫ থেকে ৫০ জনের জন্য একটি করে ভেন্ডিং মেশিন আছে।
তবে জাপানে জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে এই যন্ত্রগুলোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এশিয়ার এই দেশে কীভাবে ভেন্ডিং মেশিন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল—এই প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছেন ডেভিড উইজায়। তিনি আগে ভেন্ডিং মেশিনে কাজ করতেন। বর্তমানে জাপানের ভেন্ডিং মেশিন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘জাপানটোগো এলএলসি’র মালিক।
Visit sportbet.rodeo for more information.
১৮ বিলিয়ন ডলারে মেটার বড় সমঝোতা, আসছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বড় পরিবর্তনভেন্ডিং মেশিনের ইতিহাস
বিশ্বের প্রথম ভেন্ডিং মেশিন তৈরি হয়েছিল প্রায় দুই হাজার বছর আগে, প্রাচীন মিসরে। আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রিক বিজ্ঞানী হিরো এটি বানিয়েছিলেন মন্দিরে পবিত্র পানি বিক্রির জন্য। যন্ত্রের ভেতরের ফাঁকা দিয়ে মুদ্রা ফেললেই মুদ্রার ওজনে একটি লিভার হেলে পানি বের হয়ে আসত।
তবে সেই উদ্ভাবনের দীর্ঘদিন পর, উনিশ শতকে আবার নতুন করে ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবহার শুরু হয়। প্রথমে লন্ডনের রেলস্টেশনে পোস্টকার্ড ও খাম বিক্রির জন্য। পরে ১৮৮৮ সালে নিউইয়র্কে চুইংগাম বিক্রির জন্য এই মেশিন ব্যবহার করা হয়। ধীরে ধীরে স্যান্ডউইচ ও দুধের মতো খাবারও এতে পাওয়া যেতে থাকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে ভেন্ডিং মেশিন খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জাপানিদের জীবনধারা বেশ দ্রুতগতির। তাই কেনাকাটায় সময় বাঁচানো তাদের কাছে খুবই জরুরি। দোকানে গিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে ভেন্ডিং মেশিন থেকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই প্রয়োজনীয় যেকোনো জিনিস কিনে নেওয়া যায়।
ভেন্ডিং মেশিন কীভাবে কাজ করে
ভেন্ডিং মেশিনের ভেতরে থাকে একটি ছোট কম্পিউটার বা মাইক্রোকন্ট্রোলার। এটি পুরো মেশিনের মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে নানা ধরনের সেন্সর ও মোটর। যখন কোনো পণ্যের বোতাম চাপা হয় এবং টাকা দেওয়া হয়, তখন এই মাইক্রোকন্ট্রোলারটি টাকা যাচাই করে এবং নির্দিষ্ট মোটর চালু করে পণ্যটি বাইরে বের করে দেয়।
জন্মদিনে ফুঁ দিয়ে মোমবাতি নেভানোর প্রথা এল কোথা থেকেটাকা ও পেমেন্ট যাচাই করার উপায়
মেশিনের ভেতরে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সেন্সর থাকে। ধাতুর ওপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাব পরীক্ষা করে এটি বুঝে নেয় মুদ্রাটি আসল নাকি নকল। একই সঙ্গে অপটিক্যাল সেন্সর দিয়ে মুদ্রার আকার, পুরুত্ব ও গতিবেগ মেপে আসল মুদ্রা নিশ্চিত করা হয়।
আর ব্যাংকনোটের বিশেষ চৌম্বকীয় কালি ও গোপন নিরাপত্তা ছাপ পরীক্ষার জন্য ইনফ্রারেড ও আলট্রাভায়োলেট (ইউভি) সেন্সর ব্যবহার করা হয়। ডিজিটাল পেমেন্ট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে যন্ত্রটি এনক্রিপ্টেড ডেটা সরাসরি ব্যাংকের নেটওয়ার্কে পাঠিয়ে মুহূর্তের মধ্যে পেমেন্ট করে নেয়।
পণ্য বের করার পদ্ধতি
পেমেন্ট সঠিক হলে মাইক্রোকন্ট্রোলার একটি সংকেত পাঠায়। কিছু মেশিনে থাকা স্পাইরাল স্প্রিং ঘুরতে শুরু করে ও পণ্যটিকে ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। আবার কিছু আধুনিক মেশিনে রোবোটিক হাত বা লিফট থাকে, যা বোতল বা ক্যানটিকে ধরে আস্তে নিচে নামিয়ে আনে, যাতে ঝাঁকুনি না লাগে। এ ছাড়া কিছু সাধারণ মেশিনে পণ্যটি ঢালু তাক দিয়ে গড়িয়ে সরাসরি ক্যাচ বক্সে এসে পড়ে।
১৬৫ মিলিয়ন বছর আগের জুরাসিক বনের শব্দ তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরাজাপানি ভেন্ডিং মেশিন কেন আলাদা
সাধারণ ভেন্ডিং মেশিনে পণ্য ঠান্ডা রাখার ছোট রেফ্রিজারেশন ইউনিট থাকে। কফি বা চা গরম রাখার জন্য থাকে বিল্টইন হিটার ও মাইক্রোওয়েভ। তবে একই মেশিন থেকে একই সঙ্গে গরম ও ঠান্ডা জিনিস বিক্রির প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে খুব একটা দেখা যায় না। জাপানে এগুলো অত্যন্ত পরিচিত।
জাপানের এই বিশেষ মেশিনগুলোয় আলাদা দুটি তাপ নিরোধক অংশ থাকে। একটি গরম পানীয়ের জন্য, অন্যটি ঠান্ডার জন্য। এগুলো আধুনিক হিট পাম্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে। পানীয় ঠান্ডা করার সময় যে তাপ বের হয়, তা ফেলে না দিয়ে গরম পানীয়ের অংশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কমে যায়।
জাপান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হওয়ায় ভেন্ডিং মেশিনগুলোর নিচের অংশ খুব ভারী করে তৈরি করা হয়। নিচে বেশি ওজন থাকার কারণে শক্তিশালী কম্পনেও এগুলো সহজে উল্টে পড়ে না। বড় কোনো ভূমিকম্প হলে বা শহরের কেন্দ্রীয় প্রশাসন থেকে বার্তা এলে এই ভেন্ডিং মেশিনগুলোর বিশেষ সেন্সর বা রাউটার তা ধরে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে মেশিনটি ‘ফ্রি মোড’–এ চলে যায়। তখন জরুরি পরিস্থিতিতে যে কেউ বিনা মূল্যে পানীয় নিয়ে ব্যবহার করতে পারে।
জাপানে এখন ভেন্ডিং মেশিনের সংখ্যা কিছুটা কমলেও নিরাপদ পরিবেশ ও সময় বাঁচানোর সুবিধার কারণে এগুলো এখনো মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
সূত্র: পপুলার সায়েন্সপচনশীল পরিবেশবান্ধব নতুন বেলুন ‘বায়োলুন’