থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও দরকার সেলেনিয়াম, যেসব খাবারে পাবেন এই ক্ষুদ্র খনিজ
· Prothom Alo

আমাদের সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের জন্য একটি অপরিহার্য ট্রেস মিনারেল বা ক্ষুদ্র খনিজ হলো সেলেনিয়াম। শরীরের জন্য এর চাহিদা সামান্য হলেও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা, প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কোষকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে এ বিষয়ে সচেতনতা কিছুটা কম হলেও সুষম খাবারের মাধ্যমে শরীরের এই চাহিদা মেটানো সম্ভব।
সেলেনিয়ামের প্রধান উপকারিতা
এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে শরীরকে ফ্রি র্যাডিকেলের আক্রমণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। এটি দ্রুত ক্ষত সারাতে ভূমিকা রাখে। শরীরের অন্য যেকোনো অঙ্গের তুলনায় থাইরয়েড গ্রন্থিতে সেলেনিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। এটি থাইরয়েড হরমোন সক্রিয় করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে, যেমন হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস বা গ্রেভস ডিজিজ-সংশ্লিষ্ট থাইরয়েড আই ডিজিজে এটি উপকারী হতে পারে। তবে নিজে থেকে এটি সেবন করা নিষেধ।
Visit rouesnews.click for more information.
উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ উভয় উৎস থেকেই সেলেনিয়াম পাওয়া যায়সেলেনিয়ামের উৎস কী
উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ উভয় উৎস থেকেই সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। প্রধান উৎসগুলো হলো সামুদ্রিক মাছ (যেমন স্যামন, টুনা, সার্ডিন), চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার; ডিম, দুধ ও বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবার; মুরগি ও গরুর মাংস; বিভিন্ন ধরনের ডাল ও শস্যদানা; কাজুবাদাম, আখরোট ও সূর্যমুখীর বীজ ও ব্রাজিল নাট (এটি সবচেয়ে সমৃদ্ধ উৎস হলেও বাংলাদেশে এটি সচরাচর পাওয়া যায় না)।
সাধারণত আমাদের দেশের নিয়মিত খাবার—মাছ, ডিম, দুধ, ডাল ও বাদাম থেকেই অধিকাংশ মানুষের সেলেনিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।
দৈনিক কতটুকু প্রয়োজন
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রায় ৫৫ মাইক্রোগ্রাম। গর্ভবতী নারী প্রায় ৬০ মাইক্রোগ্রাম। স্তন্যদানকারী মা প্রায় ৭০ মাইক্রোগ্রাম। সুষম খাবার গ্রহণকারী সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কোনো সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয় না।
৭ মাসে ৩৭ কেজি ওজন কমিয়ে র্যাম্পে ফিরেছেন মডেল মাশিয়াত, কীভাবে সম্ভব করলেনঅতিরিক্ত সেলেনিয়ামের ঝুঁকি
বেশি সেলেনিয়াম গ্রহণ করলেই বেশি উপকার পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। অতিরিক্ত সেলেনিয়াম গ্রহণের ফলে ‘সেলেনোসিস’ নামক সমস্যা হতে পারে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, বমিভাব ও ডায়রিয়া; চুল পড়ে যাওয়া ও নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া; মুখে রসুনের মতো গন্ধ হওয়া; ত্বকের নানা সমস্যা এবং স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেওয়া। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই সাপ্লিমেন্ট সেবন করা উচিত নয়।
ডা. শাহজাদা সেলিম, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়