নাতির অভিভাবক হয়ে এসেছিলেন কলেজে, সমাবেশে বক্তব্যের মাঝেই ঢলে পড়লেন
· Prothom Alo
কলেজের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তখন অভিভাবকদের বক্তব্য চলছিল। নাতির অভিভাবক হিসেবে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন মো. শাহজাহান আলী (৬৫)। কথা বলতে বলতেই হঠাৎ ঢলে পড়লেন তিনি। দ্রুত সবাই উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া মো. শাহজাহান আলী পেশাগত জীবনে পল্লী বিদ্যুতের একজন প্রকৌশলী ছিলেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ছিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে। তিনি বর্তমানে নিজের বাড়ি করেছেন কুষ্টিয়া সদরের মঙ্গলবাড়িয়া এলাকায়।
Visit newssport.cv for more information.
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে অনুষ্ঠান চলছিল কলেজের সম্মেলনকক্ষে। অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল বেলা সোয়া ১১টার দিকে। অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ মনির উদ্দিন আহমেদ ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বায়েজিদ বোস্তামীসহ কলেজের শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে অভিভাবক পর্যায়ের বক্তব্য চলছিল। এরপর সিনিয়র শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বক্তব্য বাকি ছিল। এই অবস্থায় শাহজাহান আলী বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে ঢলে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে পরে সংক্ষিপ্ত আকারে সমাবেশ শেষ করা হয়।
মো. শাহজাহান আলী ঢলে পড়ার পর সংক্ষিপ্ত আকারে সমাবেশ শেষ করা হয়। আজ রোববার রাজশাহী সিটি কলেজেশাহজাহান আলীর জামাতা ইমদাদুল হক কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক। রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ছেলের সঙ্গে থাকার জন্য তিনি রাজশাহী শহরে একটা বাসা ভাড়া করে দিয়েছেন। সেখানেই তাঁর শ্বশুর শাহজাহান আলী ও শাশুড়ি থাকতেন। আবার কখনো কুষ্টিয়ায়, কখনো ঢাকায় থাকতেন। তার ছেলের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সে জন্য কলেজের অভিভাবক সমাবেশে গিয়েছিলেন।
ইমদাদুল হক বলেন, তাঁর শ্বশুর পেশাগত জীবনে পল্লী বিদ্যুতের একজন প্রকৌশলী ছিলেন। অনেক দিন আগেই তিনি অবসরে গেছেন। তাঁর হার্টের বাইপাস সার্জারি করা ছিল। অভিভাবক সমাবেশে কথা বলতে বলতেই তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।