আদালতের নির্দেশ না মানায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরকে আবার গ্রেপ্তার
· Prothom Alo

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে (৫২) আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও তিনি তা পালন করেননি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের রাজধানীর কল্যাণপুর ইউনিটের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম আজ বেলা সোয়া একটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে হাফিজুর রহমানের কুমিল্লার আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। আমরা আদালতের নির্দেশনার কপি হাতে পেয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল আটটার দিকে কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আজই কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হবে। তিনি এখন আমাদের হেফাজতে আছেন।’
Visit somethingsdifferent.biz for more information.
২৪ ঘণ্টা পেরিয়েছে, আত্মসমর্পণ করেননি সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরদুপুরে পিবিআই রাজধানীর দক্ষিণ কল্যাণপুরের (অর্গানাইজড ক্রাইম-উত্তর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও হাফিজুর রহমানকে আবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান হাফিজুর রহমান। পরে ৪ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে।
ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চেম্বার আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে আবেদনটি মুভ (পরিচালনা) করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক জামিন স্থগিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরহাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর আদালতে হাজির করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৫ এপ্রিল তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ৪ আগস্ট জামিনে মুক্তির আগপর্যন্ত তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন।
সোহাগী জাহান তনু২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরদিন তাঁর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
এই হত্যাকাণ্ডের শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ প্রতিবেদন। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। এ ছাড়া তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তবে ওই সময়ে তাঁদের নাম গণমাধ্যমকে জানায়নি সিআইডি।
চলতি বছরের মে মাসে পিবিআই জানায়, তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনায় আরেকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা মিলেছে। আগের তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য সামনে এলেও নতুন করে তথ্য আসা ব্যক্তির রক্তের নমুনা মিলেছে তনুর পোশাকে।