খুলনায় রান্নার পর গরুর মাংস সবুজ হয়ে গেল কেন, পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ
· Prothom Alo

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় সবুজ হয়ে যাওয়া গরুর মাংসের কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে নমুনা কোন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Visit casino-promo.biz for more information.
গত বুধবার পাইকগাছা পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য কেনা গরুর মাংস রান্না করতে গিয়ে সেটি সবুজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। পরে রান্না করা মাংসভর্তি কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও থানায় যান তাঁরা। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এ সম্পর্কে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। বিষয়টি আমাদের কাছেও নতুন। কাঁচা ও রান্না করা—দুই ধরনের মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে নমুনা কোন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
মোকলেছুর রহমান জানান, রোববার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন ল্যাবে পরীক্ষা করা সম্ভব এবং কী কী বিষয় পরীক্ষা করতে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো নমুনা পরীক্ষার জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট পরীক্ষার বিষয় (প্যারামিটার) ঠিক করে দিতে হয়। কিন্তু এ ঘটনায় কী পরীক্ষা করা উচিত, সেটিই আগে নির্ধারণ করতে হবে।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের বিষয়ে মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘মাংস পচে গেলে এভাবে সবুজ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। আমার ধারণা, কোনো একটি পদার্থ মাংসের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সবুজ রঙের সৃষ্টি করেছে। সেটি রান্নার সময় ব্যবহৃত কোনো উপাদান, পাতিল বা অন্য কোনো উৎস থেকেও হতে পারে। লক্ষ করার বিষয় হলো, শুধু মাংসের রং পরিবর্তিত হয়েছে, ঝোলের রং কিন্তু সবুজ হয়নি। যদি মাংসেই সমস্যা থাকত, তাহলে একই গরুর মাংস কেনা অন্য ক্রেতাদের কাছ থেকেও অভিযোগ আসত। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু একটি পক্ষই অভিযোগ করেছে। তাই পরীক্ষার ফল ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।’
পাইকগাছা উপজেলা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) উদয় কুমার মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে মাংস ফেলে দেওয়ার আগেই তিনি রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে মাংস বিক্রেতার দোকানের ফ্রিজে থাকা প্রায় ৬০০ গ্রাম কাঁচা মাংসও জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার কাঁচা ও রান্না করা—দুই ধরনের নমুনা খুলনার জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রান্নার সময় সবুজ হয়ে যাচ্ছিল গরুর মাংস, কড়াই নিয়ে গেলেন থানায়গত বুধবার সকালে পাইকগাছা বাজারের এক মাংস বিক্রেতার কাছ থেকে আগের দিন জবাই করা গরুর চার কেজি মাংস কিনে রান্না শুরু করেন মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, কিছুক্ষণ পর মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হয়ে যায়। পরে রান্না করা মাংস নিয়ে তাঁরা প্রথমে মাংস বিক্রেতার দোকান, পরে ইউএনওর কার্যালয় এবং শেষে থানায় যান।
মডার্ন বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেন বলেন, ‘আমরা ওই মাংস আর খাইনি। প্রশাসনকে জানিয়ে ফিরে এসে ফেলে দিয়েছি। কয়েকজন কৌতূহলবশত রান্না করা মাংসের কিছু অংশ দেখতে চেয়েছিলেন। যেহেতু মাংস ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তাই তাঁদেরও কিছুটা দিয়েছিলাম। এখন শুনছি নমুনা পরীক্ষা হবে। দেখি, ফল কী আসে।’
মাংস থেকে বের হচ্ছিল দুর্গন্ধ, অভিযানে বের হয়ে এল আসল কারণ