হলান্ডের পাতা ‘ফাঁদ’ বুঝে ফেলেছে ইংল্যান্ড

· Prothom Alo

আর্লিং হলান্ড যে ইংল্যান্ডের জন্য একটা ‘ফাঁদ’ পেতে রেখেছেন, সেটা কি হ্যারি কেইনরা বুঝতে পেরেছেন?

Visit biznow.biz for more information.

আপনি বলতে পারেন, ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচ তো এখনো শুরুই হয়নি। হলান্ড আবার তার আগে কী করে ফেললেন?

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগেই সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন হলান্ড। নরওয়ে স্ট্রাইকার সাংবাদিকদের সামনে মুচকি হেসে বললেন, ‘অবশ্যই এই ম্যাচে ইংল্যান্ড ফেবারিট। বিশ্বকাপের যদি পরিষ্কার ফেবারিট কেউ থাকে, তাহলে ইংল্যান্ড তাদের একটি। আমার তো মনে হয়, ইংল্যান্ড–সমর্থকদের এই ম্যাচ জেতার ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী থাকার কথা’

তবে হলান্ডের এই ‘মিষ্টি’ কথায় যে ইংল্যান্ড ভুলছে না, সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন হলান্ডেরই আরেক সতীর্থ। ম্যান সিটির ইংলিশ ডিফেন্ডার নিকো ও’রাইলিকে সংবাদ সম্মেলনে মনে করিয়ে দেওয়া হলো হলান্ডের এ কথা। ও’রাইলি সরাসরি বলে দিলেন, ‘এগুলো ওর “মাইন্ড গেম”। হলান্ড তাই যতই চাপ সব ইংল্যান্ডের ওপর দিতে চেষ্টা করুন না কেন, ইংল্যান্ড তা নিতে চাইছে না!’

কিন্তু না নিয়েই–বা উপায় কী? ইংলিশ মিডিয়া এই ম্যাচ নিয়ে যে মাতামাতি শুরু করেছে, চাপ এড়িয়ে যাওয়াটা কঠিন। বিশেষ করে মেক্সিকোর ম্যাচের পর তো থ্রি লায়ন্সদের নিয়ে আশার পারদটা চড়ছেই। আজতেকা দুর্গ জয় করে আসা কেইনদের নিয়ে আশার বেলুনটা এতটাই ফুলেছে, ইংলিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলে দিয়েছেন, ফাইনালে জিতলে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হবে।

আর্লিং হলান্ড, স্ট্রাইকার, নরওয়েঅবশ্যই এই ম্যাচে ইংল্যান্ড ফেবারিট। বিশ্বকাপের যদি পরিষ্কার ফেবারিট কেউ থাকে, তাহলে ইংল্যান্ড তাদের একটি। আমার তো মনে হয়, ইংল্যান্ড–সমর্থকদের এই ম্যাচ জেতার ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী থাকার কথা।

তবে আপাতত ইংল্যান্ডের ভাবনাজুড়ে হলান্ডই। ও’রাইলিরা জানেন, এ কথার লড়াইটা হলান্ড খেলেছেন ব্রাজিল ম্যাচের আগেও। হলান্ড বলেছিলেন, ব্রাজিলই সেই ম্যাচে পরিষ্কার ফেবারিট। এরপর কী হয়েছে, তা সবারই নিশ্চয় জানা। আর হলান্ড মাঠে নামলে কী করতে পারেন, সেটা নিকো ও’রাইলি, জন স্টোনস, মার্ক গেহিরা ভালোমতোই জানেন। ইংল্যান্ডের এই তিন ডিফেন্ডারই খেলেন ম্যান সিটিতে। আজকের ম্যাচে হলান্ডকে ঠেকানোর বুদ্ধিটা তাঁদের মাথা থেকেই সবচেয়ে বেশি আসার কথা।

ইংল্যান্ড-নরওয়ের লড়াইয়ে এমন পুনর্মিলনী আরও হবে। আর্সেনালে সতীর্থ ডেকলান রাইস, বুকায়ো সাকাদের বিপক্ষে আজ নামতে হবে নরওয়ে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডকে। অবশ্য ও’রাইলি, সাকারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুধু হলান্ড-ওডেগার্ডকে নিয়ে ভাবলে ইংল্যান্ড ভুল করবে। এই নরওয়ে দলে আছেন পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো অনেক খেলোয়াড়। ব্রাজিল ম্যাচে যেমন সামনে হলান্ডের পর পোস্টের নিচে দুর্ভেদ্য হয়ে গিয়েছিলেন গোলকিপার নিল্যান্ড।

মেসি যত দিন চাইবে, তত দিনই সেরা থাকবে: স্কালোনি

সেটা নরওয়ে এই বিশ্বকাপজুড়েই প্রমাণ করে এসেছে। নরওয়ে দলের পরিকল্পনা, কৌশল—সবকিছুতেই আছে সময়ের আগে চিন্তা করার ছাপ। এ কারণে ফ্রান্সের ম্যাচে মূল একাদশের প্রায় সবাইকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্তটা নিয়ে কথা হলেও সেটির যৌক্তিকতা নরওয়ে প্রমাণ করেছে আইভরিকোস্টের পর ব্রাজিলকে হারিয়ে দিয়ে।

অনুশীলনে ইংল্যান্ড

নরওয়ে মিডফিল্ডার মর্টেন থর্সবি যেমন বলছিলেন, এই দলের সবাই এখন এক আত্মা। অনেক দিন ধরেই তাঁরা একসঙ্গে খেলছেন, সবার সঙ্গে সবার বোঝাপড়া দুর্দান্ত। নরওয়ে কোচ স্তালে সলবাকেন বলছেন, নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই এককাট্টা হতে পারাটাই এই নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি।

দল হিসেবে এই নরওয়ে যে কতটা ঐক্যবদ্ধ, তা বোঝা গেছে নরওয়ের প্রতিটি জয়ের পরেই। সমর্থকদের নিয়ে হলান্ডদের ভাইকিং রোর এতটাই ‘ভাইরাল’, নরওয়ে ছাড়িয়ে নানা দেশে ছড়িয়ে গেছে সেই উদ্‌যাপন। আজ সেই বইঠা হলান্ডদের নিশ্চয় আরেকবার বাইতে দিতে চাইবেন না কেইনরা!

Read full story at source