যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা, ৮ বছর পর স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
· Prothom Alo

আট বছর আগে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন এলাকায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শাহানুর আক্তারকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
Visit iwanktv.club for more information.
রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। এই মামলায় মোট ছয়জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে। যদিও এ মামলার সাজা মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা, কিন্তু ১৬১ ধারা অনুযায়ী সব তথ্য পাওয়া গেছে, তাই সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।’ তিনি বলেন, এদিন রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রায় এক যুগ আগে মোসা. শাহানুর আক্তার প্রথম স্বামী মো. হারুনের মৃত্যুর পর আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বিয়ে করেন। আসামি (জাহাঙ্গীর আলম) ও শাহানুর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দিনমজুরের কাজ করতেন। পাশাপাশি মানুষের বাড়ি থেকে ময়লা টানার কাজ করতেন। জাহাঙ্গীর আলম নেশা করতেন এবং শাহানুরের কাছে যৌতুক দাবি করতেন। তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত।
আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর শাহানুরের মেয়ে ঘুম থেকে উঠে নাশতা খাওয়ার জন্য তার মাকে ডাকতে ঘরে গিয়ে দেখে, ঘরের দরজা বাহির থেকে আটকানো। এরপর সে তার ভাই মো. হৃদয়কে ডাকে। পরে তারা দুজন দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর শাহানুরের গলাকাটা রক্তাক্ত মৃতদেহ কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তবে ওই সময়ে ঘরের মধ্যে আসামি ছিলেন না।
ওই ঘটনায় নিহত শাহানুরের ভাই জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর মামলাটি করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জুন আসামি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম।
চার্জশিটে বলা হয়, আসামি যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় শাহানুরকে শোবার ঘরে খাটের ওপরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। শাহানুরকে হত্যার পর মৃতদেহ কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যান তিনি।
এরপর আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারকালে ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।