মাত্র ১২ মিনিটে ব্রেন টিউমার শনাক্ত করবে এআই

· Prothom Alo

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবার এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মরণঘাতী ব্রেন টিউমার বা মস্তিষ্কের ক্যানসার নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে যেখানে আগে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেত, সেখানে নতুন একটি এআই প্রযুক্তি মাত্র কয়েক মিনিটে এই রোগ নির্ণয় করতে পারছে বলে দাবি করেছেন জার্মানির হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এবং জার্মান ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নতুন এআই সিস্টেমটির নাম হেটাইরস। এটি মাত্র ১২ মিনিটে ব্রেন টিউমার শনাক্ত এবং এর ধরন নির্ধারণ করতে পারে। বর্তমানে প্রচলিত জটিল পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করতে গড়ে প্রায় ১২ দিন সময় লাগে। সেই তুলনায় এই প্রযুক্তি অবিশ্বাস্য রকমের দ্রুতগতিতে কাজ করায় বিশ্বজুড়ে ক্যানসার চিকিৎসার গতি ও চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার ক্যানসারে প্রকাশিত গবেষণা ফলাফলে বলা হয়েছে, ব্রেন টিউমারের সঠিক চিকিৎসা শুরু করার জন্য আণবিক বা মলিকুলার বৈশিষ্ট্যগুলো জানা জরুরি। তবে এই আণবিক পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত জটিল এবং এর জন্য দামি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। ফলে সব জায়গায় এসব পরীক্ষা করতে না পারায় ফলাফল আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। জার্মানির বিজ্ঞানীরা এই জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ করতে হেটাইরস নামের এআই সিস্টেমটি তৈরি করেছেন। সিস্টেমটি তৈরির আগে বিজ্ঞানীরা ৪টি মহাদেশের ৯ হাজার ৬০৬ জন রোগীর ১১ হাজারের বেশি ডিজিটাইজড টিস্যু সেকশন বা কোষের নমুনা ব্যবহার করে এআইকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। আর তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃত সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা মস্তিষ্কের টিউমারের প্রায় সব কটি ধরনসহ মোট ১০২টি আলাদা আণবিক সাবটাইপকে নিখুঁতভাবে আলাদা করতে পারে এআই সিস্টেমটি।

Visit turconews.click for more information.

জার্মান ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের দলনেতা মরিটজ গার্স্টুং বলেন, ডিজিটাল প্যাথলজিতে এআই-সমর্থিত এই সিস্টেমের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব জটিল পরীক্ষা আগে অনেক বেশি প্রযুক্তিগত চেষ্টা ও খরচের মাধ্যমে করা হতো, তা এখন অত্যন্ত দ্রুত এবং সহজেই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব।

গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক দারুই জিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাধারণ টিস্যু সেকশন বা কোষের নমুনা থেকেই সরাসরি ক্যানসারের আণবিক তথ্য বের করতে সক্ষম। এটি ক্যানসার নির্ণয়পদ্ধতিকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিচ্ছে।

হেটাইরস এআই সিস্টেম রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি নিজের দেওয়া ফলাফলের বিষয়ে কতটা নিশ্চিত, তা–ও জানিয়ে দেয়। প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে এআই সিস্টেমটির তৈরি ফলাফলের নির্ভুলতার হার ছিল ৮৭ থেকে ৮৮ শতাংশ। এমনকি রোগনির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই এআই সিস্টেমের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে একে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেন্টারের ৫ জন অভিজ্ঞ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের মুখোমুখি করা হয়েছিল। ২১০টি জটিল নমুনা বিশ্লেষণ করতে দেওয়া হলে মানববিশেষজ্ঞরা মাত্র ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে পেরেছিলেন। সেখানে হেটাইরস এআই একাই ৬৮ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ফলাফল দিয়েছে।

হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফেলিক্স সাহম বলেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে আধুনিক এআই সিস্টেমগুলো এখন কোষের ভেতরের এমন কিছু সূক্ষ্ম প্যাটার্ন বা নকশা চিনে নিতে সক্ষম, যা অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পক্ষেও আলাদা করা কঠিন। বর্তমান চিকিৎসায় সম্পূর্ণ আণবিক পরীক্ষার ফলাফল আসতে যেখানে প্রায় ১২ দিন লাগে, সেখানে স্লাইডটি ডিজিটাল করার পর হেটাইরস সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহার করেই মাত্র ১২ মিনিটে তার ফলাফল জানিয়ে দেয়। টিস্যু বা নমুনা প্রস্তুত করার সময়টুকু হিসাব করলেও সর্বোচ্চ ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অনেক সময় অস্ত্রোপচারের পর পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত টিউমার টিস্যু বা উপাদান পাওয়া যায় না। জিনগত পরীক্ষার জন্য সেই নমুনা কম হলেও এই এআই সিস্টেমটি সামান্য উপাদান থেকেই ক্যানসারের রূপ ধরে ফেলতে পারে। যেহেতু এই প্রযুক্তিটি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত সাধারণ বা স্ট্যান্ডার্ড টিস্যু সেকশনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, তাই এর জন্য কোনো অতিরিক্ত দামি বা জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না।

সূত্র: দ্য সান

Read full story at source