জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ
· Prothom Alo

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে এক ছাত্রীর বিনা অনুমতিতে ছবি তোলা ও পরে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে রাজধানীর বঙ্গবাজারগামী বাসে এ ঘটনা ঘটে।
Visit esporist.org for more information.
অভিযুক্ত ছাত্রের নাম মো. হাসানুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচ ও নবাব সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, হেনস্তার শিকার ওই নারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী। শনিবার বিকেলে তিনি টিউশনের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাগামী বাসে করে যাচ্ছিলেন। বাসটি সাভারের পাকিজা এলাকায় দাঁড়ালে তিনি জানতে পারেন, বাসে থাকা অভিযুক্ত হাসানুর রহমান গোপনে তাঁর ছবি তুলেছেন। তিনি হাসানুরের কাছে ছবি তোলার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অস্বীকার করেন এবং তর্কে জড়ান। ফোনে তাঁর ছবি তোলা আছে কি না, নিশ্চিত হতে ওই ছাত্রী হাসানুরের হাত থেকে মুঠোফোন নিয়ে নেন। হাসানুর তাঁর ডান হাত চেপে ধরে জোর করে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাঁর আসন থেকে পড়ে যান। এ সময় বাসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা হাসানুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বাসটি ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন। তাঁরা ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে আসেন। সেখানে আসেন সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ আবদুল রাজ্জাক ও শামীমা নাসরীন। তাঁদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এ ছাড়া অভিযুক্ত ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি লিখিত স্বীকারোক্তি জমা দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘তাকে (হাসানুর) যখন আমরা জিজ্ঞাসা করি, সে ছবি তোলার ব্যাপার অস্বীকার করে। সে বলে যে ওই মেয়ের না, তাঁর পেছনের সিটে এক ভাইয়ের ছবি তুলছিল। তবে ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়, সে ওই মেয়েকেই ফোকাস করে ছবি তুলেছে।’
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ছাড়া প্রশাসনের সহায়তায় থানায় জিডিও করব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষের স্টেটমেন্ট (বিবৃতি) ভিসি স্যারের কাছে জমা দেব। তিনি একটি কমিটি গঠন করে দেবেন। হয়তো সাত দিনের মধ্যে কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’