বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নতুন ক্রাশ আনলকড, এই স্টাইলিশ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের বয়স কত জানেন কি

· Prothom Alo

এবার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এ তিনিই সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। মেক্সিকোর সুপার স্টাইলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরার বয়স কত জানেন?

খুব অল্প বয়সেই মেক্সিকোর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ফুটবলারদের একজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। নাম তাঁর গিলবার্তো মোরা। অনেকে বলেন তাঁকে মেক্সিকান পেদ্রি। মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে আলোচনায় থাকলেও, ভক্তদের আগ্রহ এখন তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, জীবনযাপন, ফ্যাশন, ফিটনেস এবং নেট ওয়ার্থ নিয়েও।

Visit sport-tr.bet for more information.

এবার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এ তিনিই সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়

এবার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এ তিনিই সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। মেক্সিকোর সুপার স্টাইলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরার বয়স কত জানেন? মাত্র ১৭ বছর। জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা আর ইন্সটাগ্রামে তাঁর স্টাইলিশ ছবিগুলো বলছে, তিনিই বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নতুন ক্রাশ।  

মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া গিলবার্তো মোরা এমন এক পরিবেশে বড় হয়েছেন যেখানে ফুটবল ছিল জীবনেরই একটি অংশ। ছোটবেলা থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে করতে তিনি নিজের দক্ষতা গড়ে তোলেন। তার পরিবারও সবসময় তাকে সমর্থন দিয়েছে এবং কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব শিখিয়েছে। জনপ্রিয়তা বাড়লেও তিনি এখনো নিজেকে বেশ সংযত ও মাটির কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করেন।

শৈশবের ছবি দিয়ে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নের কথা লিখেছেন মোড়া ইন্সটাগ্রামে

গিলবার্তো মোরা ২০০৮ সালের ১৪ অক্টোবর মেক্সিকোর তুক্সতলা গুতিয়েরেজ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। গিলবার্তোর বাবা, যার নামও গিলবার্তো মোরা, ছিলেন একজন পেশাদার ফুটবলার। একজন সাবেক ফুটবলারের ছেলে হিসেবে ছোটবেলা থেকেই তিনি ফুটবলের পরিবেশে বড় হয়ে উঠেছেন। মাত্র ৬ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে তিজুয়ানায় চলে যান। বর্তমানে মোরাকে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফুটবলপ্রেমী পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই গিলবার্তোর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ফুটবল। বাবাই তাকে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক একাডেমিতে খেলার সুযোগ করে দেন এবং জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করলেও সবসময় তাকে বাস্তবতার মাটিতে পা রেখে চলার পরামর্শ দেন।

ছোটবেলা থেকেই গিলবার্তোর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ফুটবল

ছোটবেলায় নিজ শহর তুক্সতলা গুতিয়েরেজ থেকে তিজুয়ানায় চলে আসার পর গিলবার্তো মাত্র ১০ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাব তিজুয়ানার যুব একাডেমিতে যোগ দেন। ২০১৯ সালে ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৩ দলে তার অভিষেক হয়, আর সেই দলের কোচ ছিলেন তার নিজের বাবা।

দারুণ গতিতে এগিয়ে যেতে থাকা মোরা পরে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেক্সিকোর শীর্ষ লিগ লিগা এমএক্সে অভিষেক করেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেক্সিকোর শীর্ষ লিগ লিগা এমএক্সে অভিষেক করেন

সমসাময়িক তরুণ তারকাদের মতো মোরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবন খুব বেশি প্রকাশ করেন না। তাঁর দৈনন্দিন জীবন মূলত অনুশীলন, বিশ্রাম, শিক্ষা এবং নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যপূরণের পথচলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

কম বয়সে খ্যাতি পাওয়া সহজ নয়, কিন্তু মোরা বিষয়টি বেশ পরিণতভাবেই সামলাচ্ছেন। বিলাসবহুল জীবনযাপনের চেয়ে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দিকেই বেশি মনোযোগী। পেশাদার ফুটবলের কারণে মোরাকে বিভিন্ন শহর ও দেশে ভ্রমণ করতে হয়। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়।

তাঁকে দেখা যায় স্পোর্টি স্ট্রিটওয়্যার পোশাকে ও স্টাইলিশ স্নিকার্সে

জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পোশাক-পরিচ্ছদও ভক্তদের নজর কাড়ছে। গিলবার্তো মোরার ফ্যাশন স্টাইল আধুনিক, আরামদায়ক এবং পরিমিত।
সাধারণত তাকে দেখা যায়—

স্পোর্টি স্ট্রিটওয়্যার পোশাকে

স্টাইলিশ স্নিকার্সে

পরিচিত ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ক্যাজুয়াল পোশাকে

একরঙা ও সাধারণ পোশাকের সমন্বয়ে

দলীয় পোশাকের সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনের মিশেলে

দলীয় পোশাকের সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনের মিশেলে নিজেকে উপস্থাপন করেন মোরা

চমকপ্রদ বা অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকের বদলে তিনি সাধারণ ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

একজন পেশাদার ফুটবলারের জীবনে ফিটনেস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর গিলবার্তো মোরাও এর ব্যতিক্রম নন। নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি শরীরকে সর্বোচ্চ অবস্থায় রাখতে তিনি বিশেষ যত্ন নেন।

তাঁর ফিটনেস রুটিনের মধ্যে আছে—

শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম

শরীরের শক্তি, ভারসাম্য এবং চোট প্রতিরোধে ওজন নিয়ে ব্যায়াম

গতি ও ক্ষিপ্রতা বাড়ানোর অনুশীলন

হাইড্রেশনের দিকে খেয়াল রাখেন মোরা

দ্রুত দৌড়ানো ও দ্রুত দিক পরিবর্তনের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ড্রিল

বিশ্রাম ও রিকভারি

স্ট্রেচিং, ফিজিওথেরাপি, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ভালো ঘুমের মাধ্যমে শরীরকে সতেজ রাখা

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন মোরা। প্রোটিন, শর্করা, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাকসবজি সমৃদ্ধ খাবার তার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।

গিলবার্তো মোরা এখনো ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকলেও তার আয় ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অনেক বড়। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে খেলোয়াড়রা শুধু ক্লাবের বেতন থেকেই নয়, আরও নানা উৎস থেকে আয় করেন।
যেমন—

ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট

স্পোর্টসওয়্যার কোম্পানির চুক্তি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

মোরা একজন প্রভাবশালী ইয়ুথ আইকন হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন

তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ক্ষেত্র থেকেও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভবিষ্যতে তিনি মেক্সিকোর সবচেয়ে পরিচিত ও বাজারমূল্যসম্পন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের একজন হয়ে উঠতে পারেন।

গিলবার্তো মোরা নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদ। শুধু খেলাধুলায় নয়, ব্যক্তিত্ব, ফ্যাশন, ফিটনেস ও পেশাদার আচরণের মাধ্যমেও নিজেকে পরিচিত করে তুলছেন তিনি।মোরার ফুটবল ক্যারিয়ার এখনো শুরু পর্যায়ে থাকলেও, মাঠের বাইরের জীবন নিয়েও মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতে তিনি শুধু একজন সফল ফুটবলারই নন, একজন প্রভাবশালী ইয়ুথ আইকন হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

Read full story at source