যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেতে হলে অস্থায়ী ভিসাধারীদের দেশে ফিরতে হবে

· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) আবেদন করতে হলে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

বর্তমান বৈধ অভিবাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।

Visit biznow.biz for more information.

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ নীতির উদ্দেশ্য হলো, গ্রিন কার্ডের আবেদনগুলো যেন অভিবাসনের স্বাভাবিক ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে সম্পন্ন হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থার ‘আইনি ফাঁকফোকর’ ব্যবহার করে স্থায়ী মর্যাদার আবেদন করার সময় বিদেশি নাগরিকেরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

গতকাল মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়, বরং এটি কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেছে, ‘যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ও গ্রিন কার্ড চান, তাঁদের আবেদন করার জন্য নিজ দেশে অবশ্যই ফিরতে হবে। মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থাকে আইনি ফাঁকফোকরের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আইন অনুযায়ী কাজ করতে সহায়তা করবে এ নীতি।’

গতকাল শুক্রবার মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়, বরং এটি কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থা সাধারণত এমনভাবে তৈরি, যেখানে সাময়িক ভিসাধারীদের সফরের উদ্দেশ্য শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে (কেস বাই কেস) মূল্যায়ন করবেন। এর অর্থ, গ্রিন কার্ডের নতুন নিয়ম সবার জন্য ঢালাওভাবে কার্যকর করা হবে না। প্রত্যেক আবেদনকারীর নিজস্ব পরিস্থিতি ও কাগজপত্র একজন অভিবাসন কর্মকর্তা আলাদা ও স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখবেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ফেমা ন্যাশনাল রেসপন্স কো–অর্ডিনেশন সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সিল

অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদন মূল্যায়নকালে কিছু বিষয় কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান, অনুমতি ছাড়া চাকরি করা, জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া ও আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় দেওয়া শর্তগুলো ঠিকমতো মেনে চলেছেন কি না ইত্যাদি।

তবে ইউএসসিআইএস কিছু ব্যতিক্রমের কথাও স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত কিছু ভিসার ক্যাটাগরি। অর্থাৎ কিছু সাময়িক ভিসাধারীর ক্ষেত্রে আইনিভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পাশাপাশি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড খোঁজার অনুমতি রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। তা ছাড়া সফরের উদ্দেশ্য শেষ হলে বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে—কংগ্রেসের এই প্রত্যাশাকেও এটি পরিবর্তন করে না।

যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ও গ্রিন কার্ড চান, তাঁদের আবেদন করার জন্য নিজ দেশে অবশ্যই ফিরতে হবে। মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থাকে আইনি ফাঁকফোকরের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আইন অনুযায়ী কাজ করতে সহায়তা করবে এ নীতি।

সংস্থাটি আরও জানায়, এ নতুন ও পরিমার্জিত নির্দেশনার ফলে অন্যান্য অভিবাসন মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদ পাওয়া যাবে।

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিন্দা

অভিবাসী অধিকার রক্ষাবিষয়ক সংগঠনগুলো সরকারের এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এ নিয়মের কারণে অনেক অসহায় মানুষ তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার সময় ঝুঁকিপূর্ণ বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হতে পারেন।

শরণার্থী ও অন্য অভিবাসীদের সহায়তাকারী অলাভজনক সংস্থা ‘এইচআইএএস’ বলেছে, এ নীতির কারণে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং নির্যাতিত ও অবহেলিত শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়ার কিছু অংশ সম্পন্ন করার জন্য তাদেরও এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে।

তবে ইউএসসিআইএস কিছু ব্যতিক্রমের কথাও স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত কিছু ভিসার ক্যাটাগরি। এর অর্থ, কিছু সাময়িক ভিসাধারীর ক্ষেত্রে আইনিভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পাশাপাশি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড খোঁজার অনুমতি রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন আইন কঠোর করা এবং দেশটিতে দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ সীমিত করার যে বড় ধরনের চেষ্টা চলছে, এ নির্দেশনা তারই সর্বশেষ পদক্ষেপ।

এর আগে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন কিছু শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় পরিদর্শক ও গণমাধ্যম কর্মীদের ভিসার মেয়াদ কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছিল। গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করে যে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

Read full story at source