ছেলে আইসিইউতে, মেয়েকে ভর্তি করাতে মেঝেতে অপেক্ষা বাবার

· Prothom Alo

হামে আক্রান্ত পাঁচ বছর বয়সী বড় ছেলে তাহসিন ভর্তি আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র)। অন্যদিকে এক বছর দুই মাস বয়সী ছোট মেয়ে বিবি আয়েশাকে নিয়ে হাসপাতালের পরিত্যক্ত সিঁড়িতে অপেক্ষায় আছেন বাবা বিল্লাল হোসেন। সিঁড়িতে বিছানো মাদুরে ঘুমাচ্ছে শিশু আয়েশা। সে-ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। কিন্তু ছেলে আইসিইউতে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকায় মেয়েকে কোথাও ভর্তি করাতে পারেননি অসহায় এই বাবা।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

আজ বুধবার রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় এমন অসহায় দৃশ্য।

বিল্লাল হোসেন প্রথম আলোকে জানান, নিউমোনিয়া ধরা পড়লে পাঁচ দিন আগে ভোলার লালমোহন থেকে ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসা করান। সেখানে তার হামের উপসর্গ দেখা দেয়। শিশুটির জ্বরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে বেসরকারি ওই হাসপাতালের ব্যয়ভার বহন করাও তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বাধ্য হয়ে তাহসিনকে নিয়ে আরও দুটি হাসপাতাল ঘুরে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে আসেন বিল্লাল। সেখানে তার হাম শনাক্ত হয়। তাহসিনের অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকেরা দ্রুত তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেন। দুদিন ধরে সেখানেই চলছে তার চিকিৎসা। অন্যদিকে ছেলের পাশে উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন মা শারমিন বেগম।

বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমার দুই সন্তান, দুজনেরই নিউমোনিয়া। ছেলেটারে তো আইসিইউতে রাখছি, ওর অবস্থা খুবই সিরিয়াস। মাইয়াডার হাম নাই। ওরে তো এখানে ভর্তি করাইতে পারি না। তাই ওরে লইয়া আমি বাইরে বাইরেই থাকি।’

সারা জীবনের জমানো সব সম্বল ছেলের চিকিৎসায় শেষ করেছেন জানিয়ে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি অনেক চিন্তিত। ছেলেটার ছোট থেকেই নিউমোনিয়া। আমি নদীতে মাছ ধরি। আমার জীবনে যত টাকা ইনকাম করছি, সবকিছু আমি এর পেছনে উড়াইছি। ঢাকায় আওনের সময় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ করে আনছি। এখনো ৪ লাখ টাকার ওপরে ঋণে আছি।’

হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত আট মাস বয়সী নাতনি জান্নাত বেগমকে কোলে নিয়ে আইসিইউর দিকে ছুটছেন নানা আবদুর রব। শিশুটির মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা; ২০ মে ২০২৬

একই হাসপাতালে নোয়াখালী সদর থেকে আট মাস বয়সী নাতনি জান্নাত বেগমকে নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে এসেছেন নানা আবদুর রব। আজ সকালে নাতনিকে কোলে করে তাঁকে আইসিইউতে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন শিশু জান্নাতের মা রুনা বেগমও।

আবদুর রব প্রথম আলোকে জানান, জান্নাতের প্রথমে নিউমোনিয়া হয়েছিল। নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে কয়েক দিন চিকিৎসা করান। এর মধ্যেই তার হাম ধরা পড়ে। কিন্তু টাকার অভাবে শিশুটিকে দ্রুত ঢাকায় আনতে পারেননি তাঁরা। টাকা জোগাড় করতে কয়েক দিন দেরি হয়ে যায়। ততক্ষণে শিশুটির অবস্থা আরও খারাপের দিকে যায়।

জান্নাতের নানা বলেন, ‘কিছু টিয়া (টাকা) জোগাড় কইরছি। হরে (পরে) কাইলগা অ্যাম্বুলেন্স এক্কান লই সরাসরি ঢাকা চলি আইছি। আসার পর ডাক্তারেরা অক্সিজেন লাগাইছিল। আইজগা (আজ) সকালে আইসিইউতে লই (নিয়ে) আইছে। ভেতরে চিকিৎসা চলতাছে, জানি না কী অয় (হয়)। অবস্থা খুব খারাপ।’

ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসিফ হায়দার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৪ জন শিশু হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটির আইসিইউতে ৫১ শিশু ভর্তি রয়েছে।

Read full story at source