পদ্মার পাড়ে পদ্মাকে নিয়ে ‘জলযুদ্ধ’ ব্রহ্মপুত্রকে দেখে লুকায় শীতলক্ষ্যা

· Prothom Alo

‘এ তো নিশ্চয়ই ব্রহ্মপুত্র। না, চিনি না। ওরে বাবা, এ তো আমাকে খোঁজ করছে? না, আমি চিনি না, কী প্রশস্ত তার বুক, প্রমত্ত যৌবন, চোখে তার মিলনের তৃষ্ণা, না আমি পারব না, আমার লজ্জা করে, আমি পালাই, কিন্তু কোথায় পালাই, এ তো আমাকে খুঁজে পাবেই। বুড়ির রূপ ধারণ করি, তাহলে আর আমাকে খুঁজে পাবে না।’

Visit afnews.co.za for more information.

এটি ‘জলযুদ্ধ’ নাটকে ব্রহ্মপুত্রের উদ্দেশে শীতলক্ষ্যার সংলাপ। ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার রাতে রাজশাহী নগরের বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদীর ধারে নাটকটি মঞ্চস্থ করে পঞ্চগড়ের নাট্যদল ভূমিজ। নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন, রাজশাহী এটির আয়োজন করে।

নাটকের মাত্র দুটি চরিত্র। কেউ একবার গঙ্গার রূপ নিচ্ছে, কেউ পদ্মা নদীর রূপ ধারণ করছে। কেউ একবার নারী আবার পুরুষ রূপ ধারণ করে পালা করে কাহিনি পরিবেশন করেন। সঙ্গে রয়েছে নেপথ্য সংগীত। সংগীতের সঙ্গে তবলা আর দোতারা বেজেছে।
কথকের ভঙ্গিতে একজন বর্ণনা করেন, ‘গঙ্গার ওপারে বাঁধ দিয়ে আটকে দিয়েছে গঙ্গার গতি। তাই তুমি-আমি আজ গতিহীন। শুনেছি, বাংলাদেশের এক কবি নাকি দেখে এসেছেন সেই ফারাক্কা বাঁধ। অসংখ্য সৈনিক পানি পাহারা দিচ্ছে। ওই যে বিশাল মিছিল আসছে। সামনের ওই মানুষটা কে? একমুখ দাঁড়ি। তিনি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি পৃথিবীতে নদীর বুকে বাঁধবিরোধী প্রথম মানুষ। তিনিই প্রথম নদীর কান্দন শুনতে পেয়েছিলেন।’

৮০তম প্রদর্শনীর পথে ‘দমের মাদার’

নাটকের দুই চরিত্রের একজন এক পর্যায়ে দানবের মতো গর্জন করতে থাকে। অন্যজন তাকে দেখিয়ে দিয়ে বলে, এই সেই স্ফিংস। এই সেই জীবন্ত প্রেত। যে নদী খায়, বায়ু খায়, আলো ও অন্ধকার খায়।

দেড় ঘণ্টার নাটকটি রাজশাহীতে ৪৫ মিনিট পরিবেশন করা হয়। শেষ পর্যন্ত নাটকটি দেখে নিজের মুগ্ধতার কথা জানালেন গবেষক শহিদুল ইসলাম।

নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন সরকার হায়দার। অভিনয় করেছেন সোহাগ সোহরাব ও রনি শীল। মিউজিক করেছেন বাউল রইস উদ্দিন ও আনোয়ার হোসেন। সেট ডিজাইন করেছেন হাজ্জাজ তানিন। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মুস্তাক আহমেদ, বদিউজ্জামান মিলন, ফাহিম আহমেদ।

Read full story at source