কানাডায় তরুণদের বেকারত্ব ১৪.১%, সংকটে দক্ষিণ এশীয় ও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
· Prothom Alo

কানাডার শ্রমবাজারে বর্তমানে এক অস্থির সময় পার করছে তরুণ প্রজন্ম। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটিতে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের বেকারত্বের হার বেড়ে ১৪.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি জাতীয় গড় বেকারত্বের (৬.৭ শতাংশ) চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর তরুণের মধ্যে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
Visit amunra.qpon for more information.
জাতিগত বৈষম্য ও বেকারত্বের চিত্র
প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো জাতিগত সংখ্যালঘু তরুণদের বেকারত্বের উচ্চ হার। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে—
• কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ: সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণেরা, যাঁদের বেকারত্বের হার বর্তমানে ২৩.২ শতাংশ। গত এক বছরে এই হার ৪.৬ শতাংশ বেড়েছে।
• চীনা তরুণ: চীন থেকে আসা বা চীনা বংশোদ্ভূত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৭.৪ শতাংশ।
• দক্ষিণ এশীয় তরুণ: বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশীয় তরুণদের বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
• নেটিভ বা শ্বেতাঙ্গ তরুণ: এর বিপরীতে যাঁরা জাতিগত সংখ্যালঘু নন বা শ্বেতাঙ্গ, তাঁদের বেকারত্বের হার মাত্র ১১.২ শতাংশ।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে তুরস্কের শিক্ষার্থীর জয়, যেভাবে শেষ করলেন পিএইচডিএই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট যে কানাডার শ্রমবাজারে স্থানীয় ও শ্বেতাঙ্গ তরুণদের তুলনায় অভিবাসী বা সংখ্যালঘু তরুণেরা অনেক বেশি বৈষম্য ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
কেন এই অস্বাভাবিক বেকারত্ব
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। এগুলো হলো—
১. সুদের হার ও বিনিয়োগে স্থবিরতা: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গত কয়েক বছরে কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়েছিল। বর্তমানে ২০২৬ সালে তা কমে ২.২৫ শতাংশে নামলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখনো নতুন নিয়োগ দিতে বা বড় প্রজেক্ট শুরু করতে দ্বিধাবোধ করছেন।
বেকারত্ব২. অভিজ্ঞদের প্রাধান্য: অর্থনৈতিক মন্দার ভয়ে অনেক কোম্পানি এখন নতুনদের বদলে অভিজ্ঞ কর্মীদের খুঁজছে। এতে নতুন স্নাতক হওয়া তরুণেরা কাজ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
৩. নেটওয়ার্কিং ও বৈষম্য: দক্ষিণ এশিয়া বা অন্যান্য দেশ থেকে আসা নতুনদের শক্তিশালী প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক না থাকায় তাঁরা অনেক সময় যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ইন্টারভিউর ডাক পাচ্ছেন না। শ্বেতাঙ্গ তরুণদের স্থানীয় পরিচিতি বেশি থাকায় তাঁরা দ্রুত কাজ খুঁজে পাচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপে ৬০০ বৃত্তি, বিনা মূল্যে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডিবাংলাদেশি ছাত্রের চোখে বাস্তব চিত্র
ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি ছাত্র আশিক জামান নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘কানাডায় যখন আসি, তখন ভেবেছিলাম পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ পাওয়া সহজ হবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরো উল্টো। শ্বেতাঙ্গ সহপাঠীরা রেফারেন্সের মাধ্যমে দ্রুত কাজ পেয়ে গেলেও আমাদের মতো দক্ষিণ এশীয়দের শত শত জায়গায় সিভি দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। একটা সাধারণ গ্রোসারি শপে কাজের জন্য এখন শত শত মানুষের লাইন লাগে। আমরা যাঁরা বাংলাদেশ থেকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে কানাডায় পড়তে এসেছি, তাঁদের জন্য বর্তমান কানাডা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ।’
চিকিৎসক-প্রকৌশলীর বাইরে: বাংলাদেশের মেধাবীদের জন্য অ্যাকচুয়ারি পেশার অজানা সম্ভাবনাবছরের শুরুতেই ১ লাখের বেশি কর্মসংস্থান হ্রাস
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই কানাডা প্রায় ১০৯,০০০টি কর্মসংস্থান হারিয়েছে, যার অর্ধেকই ছিল ফুল-টাইম কাজ। এর মধ্যে শুধু তরুণদের কর্মসংস্থান কমেছে ৬৪,০০০টি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কোভিড-১৯ মহামারিকাল বাদ দিলে গত ১৫ বছরের মধ্যে এটিই এখন তরুণদের জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়।
টরন্টো, মন্ট্রিয়াল, এডমেন্টন, ভ্যানকুভার, ক্যালগেরির মতো বড় শহরগুলোতে অভিবাসীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতা এখন আকাশচুম্বী। অন্যদিকে ছোট শহরগুলোতে চাকরির সুযোগ কম।