রোজ সকালে আদা, মধু ও কালিজিরা খেলে কী হয়? কাদের খাওয়া বারণ?

· Prothom Alo

স্বাস্থ্যকর কোনো চর্চার মাধ্যমে দিন শুরু করতে চান অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট দেখে কেউ হয়ে ওঠেন অতি উৎসাহী। কেউ আবার বহু বছর ধরে পরিচিত উপকরণগুলোকে কাজে লাগাতে চান। এমনই তিনটি উপাদান আদা, মধু ও কালিজিরা। রোজ সকালে এই তিন উপাদান গ্রহণের উপকারিতা কী? এসব উপাদান কি সব মৌসুমে ও সবার জন্য ভালো? এসব বিষয়ে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

Visit tr-sport.click for more information.

উপকার জানা থাক

আদা, মধু ও কালিজিরা—এই তিন উপাদানই প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সকালে এ ধরনের উপাদান গ্রহণ করলে অনেকে সতেজ অনুভব করেন।
এসব উপাদান গ্রহণে ক্ষুধারও খানিকটা উপশম হয়। পরে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাটা সহজ হয়। ওজন কমাতে সহায়তা করতে পারে এসব উপাদান। তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো কখনোই নাশতা বা মূল খাবারের বিকল্প নয়।

অপহৃত হয়ে ৮৪ দিনের বন্দী জীবন কাটানো নূর ইসলামের গল্প যেভাবে সিনেমা হলো

আদা ও কালিজিরা হজমে সহায়তা করে। এই দুই উপকরণেই অ্যাসিডিটির প্রবণতা কমে। চুল ও ত্বকের জন্যও কালিজিরা ভালো। মাসিকের ব্যথা প্রশমনে কাজে আসে আদা।
মধু অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। দেহকে ভেতর থেকে তরুণ রাখতে সাহায্য করে মধু। ত্বকের সতেজতা বজায় রাখতেও কাজে আসে মধু।

তবে সত্যিই কি প্রয়োজন

আমাদের দেশে সাধারণত যে ধরনের খাবার রান্না করা হয়, সেগুলোয় আদার ব্যবহার হয় বেশ। তাই এর উপকার পেতে আলাদাভাবে রোজ আদা গ্রহণ না করলেও ক্ষতি নেই।
কালিজিরাও খাওয়া হয় নানাভাবে। আচার বা চাটনির মতো পদেও অনেক সময় কালিজিরা দেওয়া হয়। তাই এটিও যে রোজই আলাদাভাবে খেতে হবে, তেমনটা নয়।
মৌসুমভেদে উপযোগিতার দিকটাও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। মধু আমাদের দেহে তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। গরমের সময় মধু খেলে তাই বেশি গরম লাগতে পারে।
বরং মধু খেলে শীতের সময় আরাম পাবেন। তা ছাড়া শীতকালে ও মৌসুম পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা–কাশির মতো সমস্যায়ও কাজে আসে মধু।

শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন

ভালোমন্দের হিসাব–নিকাশ

আদা, মধু বা কালিজিরা—কোনোটাই আদতে কোনো জাদুকরি উপাদান নয়, যা আমাদের পুরোপুরি সুস্থ রাখবে। রোজ সকালে কেবল আদা, মধু ও কালিজিরা খেলেই আপনি সুস্থ থাকবেন না। সুস্থতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবনধারা। মনের সতেজতা, সারা দিনের স্বাস্থ্যকর খাবারদাবার ও রাতের পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি বিষয়।
আপনি যদি এ ধরনের কোনো উপাদান গ্রহণ করতে চান, তাহলে অবশ্যই সেটির পরিমাণ রাখুন পরিমিত। মনে রাখবেন, অল্প পরিমাণে গ্রহণ করলেই আপনি এসব উপাদানের উপকার পেয়ে যাবেন। বাড়তি পরিমাণের কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
মধুতে থাকা বাড়তি ক্যালরি আবার ওজন নিয়ন্ত্রণে বাধাও হতে পারে। এটির কারণে বাড়তে পারে রক্তের সুগার। যাঁদের ডায়াবেটিস আছে এবং যাঁরা ওজন কমাতে চাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মধুর পরিমাণের দিকটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
যাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে কোনো রোগের জন্য ওষুধ খান, তাঁদের জন্য রোজ আদা, মধু ও কালিজিরা গ্রহণ করাটা নিরাপদ না–ও হতে পারে। তাঁরা রোজকার জীবনে এ ধরনের কোনো চর্চা করতে চাইলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।
তবে যেকোনো সুস্থ ব্যক্তির জন্যও একটানা দীর্ঘদিন আদা, মধু ও কালিজিরা গ্রহণ না করাই ভালো; বরং তিনি এগুলো গ্রহণে স্বস্তি পেলেও মাঝেমধ্যেই কিছুদিন বিরতি দেওয়া উচিত।

Read full story at source