চাঁদের উদ্দেশে ২ এপ্রিল ভোরে যাত্রা করবে আর্টেমিস ২, মিশনের ওরিয়ন ক্যাপসুলে কী থাকছে

· Prothom Alo

সায়েন্স ফিকশন মুভি বা গল্পের সেই বিশাল আকৃতির মহাকাশযানগুলোর কথা ভুলে যাও। চাঁদে মানুষের ফিরে যাওয়ার আয়োজনটি আসলে বেশ ছোট। ওরিয়ন ক্যাপসুলটি আকারে ছোট হলেও এটি খুব শক্তিশালী ও কাজের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এই মিশনে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি বসানো থাকবে নাসার তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের (এসএলএস) একেবারে মাথায়। এটিই চার নভোচারীকে চাঁদের ওপারে নিয়ে যাবে। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় পর এটিই হতে যাচ্ছে মানুষের এমন প্রথম কোনো মহাকাশ অভিযান।

Visit chickenroadslot.pro for more information.

ওরিয়ন ক্যাপসুল ঠিক কতটুকু? নাসার তথ্য অনুযায়ী, ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরে থাকার জায়গা মাত্র ৩৩০ ঘনফুট বা প্রায় ৯ ঘনমিটার। বিভিন্ন সূত্রে এই আয়তন কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। আর্টেমিস ২ মিশনের জন্য এর সঠিক মান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আয়তন যেমনই হোক না কেন, এর ভেতরের জায়গাটি বড়জোর একটি চলন্ত ভ্যানগাড়ির সমান হবে। এইটুকু ছোট জায়গায় নভোচারীদের পুরো মিশন শেষ করতে হবে।

বসার আসন ও স্পেস স্যুটগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় গুছিয়ে রাখলে মাঝখানের অনেকটা জায়গা ফাঁকা হয়ে যাবে

তুমি যদি ৩ মিটার লম্বা, ৩ মিটার চওড়া ও ৩ মিটার উঁচু একটি ঘরের কথা ভাবো, তবে সেটি খুব একটা ছোট মনে হবে না। কিন্তু সমস্যা হলো, এই একটি ছোট জায়গায় তোমার শোবার ঘর, রান্নাঘর, খাবার ঘর ও বাথরুম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। শুধু তা–ই নয়, এই একই জায়গায় কাজও করতে হবে। আবার তোমার সঙ্গে আরও তিন নভোচারী থাকবেন। সব মিলিয়ে চারজন মানুষের জন্য এই সামান্য জায়গাটি সত্যিই খুব ছোট।

আমাদের মাথায় মহাকাশের বর্জ্য পড়ার আশঙ্কা কতটা

ওরিয়ন ক্যাপসুলের নকশা যাঁরা করেছেন, তাঁদের মতে এটি দেখতে এর আসল আকারের চেয়ে বড় মনে হয়। মহাকাশযানটি কক্ষপথে পৌঁছানোর পর এর ভেতরের বিভিন্ন অংশ নতুন করে সাজিয়ে নেওয়া যাবে। এতে ভেতরের অল্প জায়গাকেই সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। বসার আসন ও স্পেস স্যুটগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় গুছিয়ে রাখলে মাঝখানের অনেকটা জায়গা ফাঁকা হয়ে যাবে।

অভিযানে নাসার চার নভোচারী

এই অভিযানে নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন অংশ নেবেন। তাঁরা মহাকাশে মোট ১০ দিন কাটাবেন। এ সময়ে তাঁরা চাঁদ নিয়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ চালাবেন। তাঁরা চাঁদের এমন কিছু এলাকা সরাসরি দেখবেন, যা এর আগে কোনো মানুষ কখনো দেখেনি।

আর্টেমিস ২ মিশনের চার নভোচারী এমন এক অভিযানে যাচ্ছেন, যা আগের সব অভিযানের চেয়ে আলাদা। ওরিয়ন মহাকাশযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, এর উন্নত টয়লেট বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। আগের অ্যাপোলো মিশনগুলোয় এমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে মহাকাশযানের ভেতরে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার মতো বিব্রতকর ও কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো, যা অ্যাপোলো ১০ মিশনের কাজে দুবার বাধা দিয়েছিল।

আর্টেমিস-২ মিশনে চাঁদের এত কাছে গিয়েও কেন অবতরণ করবেন না নভোচারীরাএই মিশনে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি বসানো থাকবে নাসার তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের (এসএলএস) একেবারে মাথায়

ওরিয়নের কারিগরি তথ্য অনুযায়ী, এই মহাকাশযানে একটি পূর্ণাঙ্গ কমোড বা শৌচাগার রয়েছে। এটি অল্প বা মাঝারি সময়ের মহাকাশ অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থায় নভোচারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি গোপনীয়তা ও আরাম পাবেন। এতে প্রস্রাব জমা রাখার জন্য একটি ছোট ট্যাংক আছে, যা পরে মহাকাশে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর শক্ত বর্জ্য জমা রাখার জন্য আলাদা ক্যানিস্টার বা পাত্র রয়েছে, যা প্রয়োজনে বদলে ফেলা যায়।

নাসার ব্যবস্থাপনা দল আর্টেমিস ২ মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সংকেত দিয়েছে। সব ঠিক থাকলে এটি ১ এপ্রিল, যা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ২ এপ্রিল ভোরে মহাকাশে উড়বে। এর আগে বিভিন্ন কারিগরি ও প্রস্তুতির কারণে কয়েকবার এই অভিযানের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল। তবে এবার চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে মিশনটি শুরু হওয়ার পথে আর কোনো বাধা নেই।

সূত্র: আইএফএল সায়েন্স, স্পেস ডটকমআইসক্রিম খাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা মহাকাশ

Read full story at source