শরণখোলা-খুলনা রুটে পরিবহন–সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

· Prothom Alo

শরণখোলা-খুলনা রুটে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পরিবহন–সংকট এখন চরম দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবিকা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

Visit mwafrika.life for more information.

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে এই রুটে প্রায় ১৪টি বাস চলাচল করলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪টিতে, তা–ও আবার জরাজীর্ণ বিআরটিসি বাস। ফলে অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিরাপদ যাত্রা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

বাস–সংকটের কারণে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করছেন, যা তাঁদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

প্রায় দেড় বছর আগে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাস মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা এবং বিআরটিসি বাস বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখনো দেখা যায়নি।

বর্তমানে দেশে নির্বাচিত সরকার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাই এখন এই দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান প্রত্যাশা করা জনগণের ন্যায্য অধিকার।

শরণখোলা-খুলনা রুটটি এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রুটে পরিবহন–সংকট অব্যাহত থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।

অতএব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রতি জোরালো আহ্বান—অবিলম্বে এই রুটে পর্যাপ্তসংখ্যক বাস চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। প্রয়োজনে বেসরকারি পরিবহন সংযোজন এবং নতুন রুট পারমিট প্রদান করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিআরটিসি বাসের সংখ্যা ও মান উন্নয়ন করাও জরুরি।

জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

Read full story at source