অবৈধভাবে পার্কিং করায় জরিমানা, অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অবরোধে রোগীদের দুর্ভোগ

· Prothom Alo

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা অ্যাম্বুলেন্স ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে জরিমানার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চালক-শ্রমিকেরা। বিক্ষোভের সময় হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনের সড়কে অ্যাম্বুলেন্স রেখে আটকে দিলে দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও সাধারণ মানুষ।

প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর পুলিশ সড়ক থেকে অবরোধ সরিয়ে দিলেও হাসপাতাল এলাকার সব চালক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স না চালানোর ঘোষণা দেন। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা। পরে অবরোধে প্রায় ৩ ঘণ্টা পর প্রশাসনের দাবি মানার আশ্বাসে অ্যাম্বুলেন্স চালানো শুরু করেন চালকেরা।

Visit moryak.biz for more information.

পুলিশ ও আন্দোলনকারী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঢাকা মেট্রো-গ ১৪৪৯০৩ নম্বরের একটি অ্যাম্বুলেন্সকে জরিমানা করা হয়। এর প্রতিবাদে আড়াআড়িভাবে অ্যাম্বুলেন্স রেখে বেলা ২টা থেকে সড়ক আটকে দেন অ্যাম্বুলেন্সচালক ও শ্রমিকেরা। এতে নগরের চরপাড়া মোড় থেকে মাসকান্দা এলাকা পর্যন্ত সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়ক অবরোধ থাকায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্য গাড়ি এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। হেঁটে অনেককে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

পরে বেলা সোয়া ৩টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেন। রোগী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা ভেবে সড়ক ছেড়ে দিলেও হাসপাতাল এলাকা থেকে সব অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ করে দেন অ্যাম্বুলেন্সের চালকেরা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. সোহেল মিয়া বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সড়কের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জায়গা দেওয়া হলেও এখন নতুন প্রশাসন জায়গা দিচ্ছে না। বরং ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে গাড়ি জব্দ ও মামলা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আজও এক চালক রাস্তায় অল্প সময় দাঁড়ালেও মামলা দিয়ে তাঁকে আটক করে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিদিন মামলা ও জরিমানা করায় চালক ও শ্রমিকেরা মিলে সড়ক অবরোধ করেন।

ভালুকা থেকে ময়মনসিংহ শহরে ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘সড়ক অবরোধ থাকায় মাসকান্দা পর্যন্ত হেঁটে যাচ্ছি। অ্যাম্বুলেন্সচালকেরা সড়ক অবরোধ করায় আমরা কষ্টে পড়েছি।’

জেলার হালুয়াঘাট থেকে অসুস্থ মাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে আসেন এরশাদ মিয়া। অবরোধে যানবাহন চালাচল করতে না পারায় হাসপাতালের গেটে এসে দ্রুত অবরোধ ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানাতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টা ধরে অসুস্থ মাকে নিয়ে আটকে আছি। অ্যাম্বুলেন্স সড়কে রাখতে না দেওয়ায় সড়ক আটকে দিয়েছে। আমরা দ্রুত সমাধান চাই।’
অ্যাম্বুলেন্স শ্রমিক সমিতির সাবেক সহসম্পাদক মো. সজীব বলেন, তাঁদের হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে অ্যাম্বুলেন্স রেখে ব্যবসা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সড়কে অ্যাম্বুলেন্স রাখলে মামলা দিচ্ছে, গাড়ি পুলিশ লাইনসে নিয়ে যাচ্ছে। গত ঈদের আগে থেকে এই অবস্থা চলছে, আজকেও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে শ্রমিক ও মালিক সবাই মিলে গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অ্যাম্বুলেন্স রাখার স্থায়ী জায়গা না দিলে তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স চালাবেন না। সব অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকবে। হাসাপাতাল এলাকায় এক শর বেশি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।

মায়ের লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষা

শেরপুর সদর উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের আনোয়ারা খাতুন (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার দুপুরে মারা যান। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মায়ের লাশ ট্রলিতে রেখে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষা করছিলেন দুই ছেলে ও স্বজনেরা।

মায়ের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় ছেলে। রোববার বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

আনোয়ারা খাতুনের ভগ্নিপতি মঞ্জু বেপারী বলেন, হাসপাতালেন ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আনোয়ারা খাতুন বেলা ১টার দিকে মারা যান। পরে হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে নিচে লাশ নিয়ে এসে দেখে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিকেল ৪টা পর্যন্ত মায়ের মরদেহের পাশে বসে ছিলেন ছোট ছেলে মো. আলীম। আর বড় ছেলে আনার আলী মায়ের লাশ কীভাবে বাড়ি নেবেন সে জন্য দিগ্‌বিদিক ছুটছিলেন। আনার আলী বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় লাশ নিতে পারছি না। কীভাবে লাশ নেব সে নিয়ে চিন্তা করছি।’

পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান হাসপাতাল এলাকায় এসে চালক–শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আজ বেলা সোয়া ৪টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’

এদিকে অবরোধে প্রায় ৩ ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাভিক হয়। অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন আগামীকাল (মঙ্গলবার) দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সময় নিয়েছে। সিটি করপোরেশন ও পুলিশ আলোচনা করে আমাদের জায়গা দিবে। তাই আজ বেলা পৌনে ৫ টা থেকে আমরা স্বাভাভিক কার্যক্রম শুরু করেছি।’

Read full story at source