ইফতারে পানীয় হিসেবে কী খাবেন
· Prothom Alo
রোজার ইফতার শুরু হয় পানীয় দিয়ে। আমরা চিনিযুক্ত পানীয় খেতে অভ্যস্ত, যা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। বরং ইফতারে পানীয় হিসেবে ঘরে তৈরি ফলের জুস খেতে পারেন, যা স্বাস্থ্যবান্ধব। ফলের জুসের মধ্যে বেল, আনারস, পেঁপে, তরমুজ, স্ট্রবেরি ও তেঁতুলের শরবত অন্যতম।
Visit milkshakeslot.online for more information.
ফলে কিছুটা শর্করা, খুব সামান্য প্রোটিন, সামান্য ফ্যাটসহ সব ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলস থাকে। পাকা পেঁপেতে ১১, পেয়ারায় ১৫, আনারসে ১৪, তেঁতুলে ৬০ ও বেলে ৩০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থাকে। এ ছাড়া বিটা ক্যারোটিন, ব্রমোলিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, জিংক, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজসহ শরীরের প্রয়োজনীয় সব উপাদান পাওয়া যায় ফলগুলোতে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ফাইবার ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে পানি। প্রতিটি ফলের জলীয় অংশের পরিমাণ গড়ে ৭৫ শতাংশ।
উপকারিতা
সারা দিন না খেয়ে থাকার ফলে শরীরের সুগার লেভেল কমে যায়। ফলের সুগার খুব ধীরে ধীরে রক্তের গ্লুকোজ লেভেল বাড়িয়ে শক্তি জোগাবে।
ফলের পটাশিয়াম সারা দিনের ক্লান্ত স্নায়ুগুলোকে সতেজ করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
ফলের জলীয় অংশ শরীরের প্রতিটি কোষকে কর্মক্ষম রাখে, শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। ফলের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট শরীরে ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি হতে বাধা দেয়, মৃত কোষ অপসারণ করে।
ফলের ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের মতো সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
গরমে ইফতার বা সাহ্রিতে বেশি বেশি পানি পান করলেই হবে না, তার কিছু অংশ শরীরে ধরেও রাখতে হবে। ফলের ফাইবার এই কাজ খুব সুন্দরভাবে করে।
ফলের আয়রন, ভিটামিন সি, জিংক, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ত্বক ও চুলের সুরক্ষা দেয়। বিটা ক্যারোটিন চোখের রেটিনার সুরক্ষা দেয়। ফল শরীরে মন্দ চর্বি এলডিএল, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ কমিয়ে ভালো চর্বি এইচডিএলের পরিমাণ বাড়ায়।
সতর্কতা
ডায়াবেটিক ব্যক্তি সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকা সাপেক্ষে ফলের রস খাবেন। কিডনি রোগীরা অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ফল বাছাই করবেন।
ফল জুস করে খাওয়ার চেয়ে খোসাসহ চিবিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ বেশি পাওয়া যায়।
ইফতারের ৫-১০ মিনিট আগে ফলের জুস তৈরি করতে হবে। আগে তৈরি করে রাখলে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে।
অ্যাসিডিটি থাকলে তেঁতুলের শরবত এড়িয়ে চলাই উত্তম।
মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম
ক্যানসার রোগী কি রোজা করতে পারবেন