কীভাবে বুঝবেন আপনি একই সঙ্গে অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী?
· Prothom Alo
আপনার মধ্যে যদি অন্তর্মুখী (ইনট্রোভার্ট) ও বহির্মুখী (এক্সট্রোভার্ট)—দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যই থাকে, তাহলে আপনি হতে পারেন অ্যাম্বিভার্ট। ভেরি ওয়েল মাইন্ড-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ ধরনের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য, সুবিধা ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
Visit afnews.co.za for more information.
কখনো প্রাণবন্ত, আবার কখনো শান্ত অনেকের ভেতর স্বভাবের এমন দুই রকম দিক দেখা যায় যাকে বলে অ্যাম্বিভার্টকখনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে সবার সঙ্গে মিশতে ভালো লাগে। আবার কখনো কারও সঙ্গেই কথা বলতে ইচ্ছা করে না। নিজের মতো একা থাকতে মন চায়। কখনো আপনি প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও মিশুক। আবার কখনো শান্ত, চুপচাপ। অনেকের ভেতর স্বভাবের এমন দুই রকম দিক দেখা যায়। আর এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।
অ্যাম্বিভার্ট কারা?
সুইস মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কার্ল ইয়ুং অ্যাম্বিভার্টের ধারণা জনপ্রিয় করেন। অন্তর্মুখী মানুষেরা সাধারণত একা সময় কাটিয়ে মানসিক শক্তি ফিরে পান। অন্যদিকে বহির্মুখী মানুষেরা মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্দীপনা অনুভব করেন।
অ্যাম্বিভার্টদের মধ্যে এ দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়। তাঁরা যেমন বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে উপভোগ করেন, তেমনি কখনো একা থাকতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাঁদের সামাজিক হওয়ার ইচ্ছা ও নির্জনতার প্রয়োজনীয়তা পরিস্থিতি, সময়, মানসিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে বদলাতে পারে।
আপনি কি অবিবাহিত? তাহলে পেতে পারেন বিনা খরচে ফিনল্যান্ড ঘুরে আসার সুযোগঅ্যাম্বিভার্টরা কখনো মানসিক প্রশান্তির জন্য একটু একা থাকতে চানকীভাবে বুঝবেন, আপনি অ্যাম্বিভার্ট?
আপনার মধ্যে নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো থাকলে আপনি অ্যাম্বিভার্ট হতে পারেন।
১. সামাজিকতা ও একাকিত্ব—দুটোই পছন্দ। কখনো দলে মিশতে ভালো লাগে, আবার কখনো ঘরে বসে নিজের মতো সময় কাটাতে ইচ্ছা করে।
২. পরিস্থিতি অনুযায়ী আচরণ বদলায়। পরিচিত মানুষের সঙ্গে আপনি প্রাণবন্ত, কিন্তু নতুন পরিবেশে প্রথমে কিছুটা চুপচাপ থাকেন।
৩. কথা বলতে যেমন ভালো লাগে, শুনতেও ভালো লাগে। নিজের মতামত প্রকাশের পাশাপাশি অন্যের কথা মন দিয়ে শোনেন।
৪. বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর পরও কখনো মানসিক প্রশান্তির জন্য একটু একা থাকতে চান।
৫. মানুষের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন। ভিন্ন স্বভাবের মানুষের সঙ্গে পরিস্থিতি বুঝে যোগাযোগ করতে পারেন।
অনেক সময়ই অ্যাম্বিভার্টদের কাছের মানুষেরা ভাবেন যে, তাদের এড়িয়ে চলা হচ্ছেঅ্যাম্বিভার্ট হওয়ার সুবিধা কী?
অ্যাম্বিভার্টদের অন্যতম শক্তি হলো, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো কথা বলায় সক্রিয় হন, আবার কখনো অন্যের কথা শুনে পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করেন। কর্মক্ষেত্র, বন্ধুত্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে এ নমনীয়তা তাঁদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে।
অ্যাম্বিভার্টদের সঙ্গে সম্পর্কে কেন ভুল-বোঝাবুঝি হয়?
অ্যাম্বিভার্টদের কখনো কখনো কাছের মানুষও বুঝতে পারেন না। যেমন কোনো দিন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানোর পরদিন তাঁরা একা থাকতে চাইতে পারেন। সঙ্গী বা বন্ধু তখন ভাবতে পারেন, তাঁকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে। এ ধরনের ভুল-বোঝাবুঝি কমাতে নিজের প্রয়োজন স্পষ্ট করে বলা জরুরি। আপনি যে একা থাকতে চাইছেন, তার অর্থ এই নয় যে অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানো আপনার ভালো লাগে না। বরং কিছুটা নিরিবিলি সময় পেলে আপনি আবার স্বাচ্ছন্দ্যে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারবেন।
নিজেকে বুঝুন
আপনি অন্তর্মুখী, বহির্মুখী নাকি অ্যাম্বিভার্ট—বোঝার জন্য খেয়াল করুন, কোন পরিস্থিতিতে আপনি স্বস্তি পান এবং কোন পরিস্থিতিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। প্রতিদিন একই রকম সামাজিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। কখনো মানুষের সঙ্গ, কখনো নিজের সঙ্গে সময় কাটানো—দুটোই স্বাভাবিক চাহিদা।
নিজেকে কোনো একটি পরিচয়ের মধ্যে আটকে না রেখে নিজের প্রয়োজন বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিজের স্বভাবকে গ্রহণ করতে পারলে সম্পর্কের প্রত্যাশা ও ব্যক্তিগত সীমারেখা নির্ধারণ করাও সহজ হয়।
সূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড
জাপানিরা আদর্শ সন্তান গড়ে তুলতে যে ৩ কৌশল বেছে নেন