নজরুলবর্ষ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ
· Prothom Alo

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভা। নজরুলবর্ষ উপলক্ষে ৫ নভেম্বর মোহাম্মাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, সৃজনশীল চিন্তাশক্তির উন্মেষ এবং শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। রংতুলির আঁচড়ে শিশুদের কল্পনা, সৃজনশীলতা ও ভাবনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। প্রতিযোগিতা শেষে নির্বাচিত ছয়জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
Visit betsport24.es for more information.
পুরস্কার বিতরণ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রকৌশলী রঞ্জিত কুমার সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা প্রদীপ সাহা, সাধারণ সম্পাদক হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল শেখ, অর্থ সম্পাদক নাঈম শেখ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আলহাম রবিন, ম্যাগাজিন সম্পাদক আশিষ বিপ্লব, বন্ধু রুবেলসহ অন্য সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
অতিথিরা শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, একটি শিশুর পরিপূর্ণ মানসিক ও মানবিক বিকাশের জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও সংস্কৃতিচর্চারও প্রয়োজন রয়েছে। চিত্রাঙ্কনের মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের কল্পনাশক্তি, মননশীলতা, ধৈর্য, নান্দনিক বোধ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে।
অতিথিরা আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন কবিই নন, তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানুষের মুক্তির অনন্য প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। শিশুদের মধ্যে নজরুলের মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত হলে তারা ভবিষ্যতে একটি সুন্দর, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
বন্ধুসভার উপদেষ্টা প্রদীপ সাহা বলেন, শিশু-কিশোরদের মেধা ও মননের বিকাশে নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশুই প্রশংসার দাবিদার। পুরস্কার পাওয়াই প্রতিযোগিতার একমাত্র সাফল্য নয়; বরং অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন কিছু শেখা, নিজের প্রতিভা প্রকাশ করা এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করাই এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বন্ধুসভার সদস্যরা শিশুদের উৎসাহিত এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে এ ধরনের ইতিবাচক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রশিক্ষণ সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভা