সুপারহিরোদের সুপার ফিজিকস
· Prothom Alo

কল্পনার ডানা মেলতে ভালোবাসে মানুষ। কল্পনার সবচেয়ে জমজমাট ক্যানভাস হলো কমিকস বইয়ের পাতা। স্পাইডারম্যানের দেয়াল বেয়ে তরতর করে ওঠা, সুপারম্যানের এক লাফে বহুতল ভবন টপকে যাওয়া কিংবা দ্য ফ্ল্যাশের আলোর চেয়েও দ্রুতবেগে ছুটে চলা—পাঠক বুঁদ হয়ে উপভোগ করেন। পাঠক পড়েন বটে, হয়তো সিনেমার পর্দায় দেখেও রোমাঞ্চিত হন, তাই বলে কি সুপারহিরোদের অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানা বিশ্বাস করেন? করার কোনো কারণ নেই। কেউ কেউ তো এককাঠি সরেস—বলেন, এসব স্রেফ গাঁজাখুরি, বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। কিন্তু আসলেই কি তাই? কমিকসের লেখকেরা কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এগুলো লেখেন বা এঁকেছেন? নাকি তাঁদের অজান্তেই সেখানে ঘাপটি মেরে বসে আছে পদার্থবিজ্ঞানের নিখুঁত সব সূত্র?
কমিকস মানেই পদার্থবিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখানো নয়। পাঠকের চিরায়ত ভুল ধারণা ভাঙিয়ে কমিকস আর পদার্থবিজ্ঞানের ভেতর জুড়ে থাকা অদৃশ্য সেতুটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন মার্কিন পদার্থবিদ জেমস ক্যাকালিওস, তাঁর লেখা অনন্য এক জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বই দ্য ফিজিকস অব সুপারহিরোজ-এ।
Visit biznow.biz for more information.
আপেক্ষিকতার গভীরেস্পাইডারম্যানের দেয়াল বেয়ে তরতর করে ওঠা, সুপারম্যানের এক লাফে বহুতল ভবন টপকে যাওয়া কিংবা দ্য ফ্ল্যাশের আলোর চেয়েও দ্রুতবেগে ছুটে চলা—পাঠক বুঁদ হয়ে উপভোগ করেন।
জেমস ক্যাকালিওস যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জটিল মেকানিকস আর সমীকরণ শেখাতে গিয়ে তিনি এক অভিনব উপায় বেছে নিয়েছিলেন। গতানুগতিক কপিকলের অঙ্ক বাদ দিয়ে তিনি ক্লাসরুমে হাজির করেছিলেন সুপারহিরোদের। সুপারম্যান আকাশচুম্বী দালান ডিঙোয় কীভাবে? এ সময় তার পায়ে ঠিক কত নিউটন বল তৈরি হতে হয়? কিংবা স্পাইডারম্যানের কথা ধরা যাক। তার প্রেমিকা গোয়েন স্টেসি অনেক ওপর থেকে পড়ে যাচ্ছে, তাকে বাঁচাতে জাল ছুড়ছে স্পাইডারম্যান। তখন জালের আকস্মিক টানে স্টেসির ঘাড়ের ওপর কতখানি ভরবেগ ও ঘাত বল প্রযুক্ত হয়েছিল?
গল্পচ্ছলে ব্ল্যাকবোর্ডে এসবের বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদ করেন ক্যাকালিওস। তাতে শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর লেকচার তাই নিছক কাঠখোট্টা বক্তৃতা থাকে না। বরং সুপারহিরোদের সঙ্গে অভিযানে নেমে তারা পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্বানুসন্ধান করে, তা-ও আবার দারুণ আনন্দের সঙ্গে। ক্যাকালিওসের সেই বিখ্যাত লেকচার দুই মলাটে বন্দী হয়ে বাজারে এসেছে আগেই—ইংরেজি ভাষায়, দ্য ফিজিকস অব সুপারহিরোজ নামে। সম্প্রতি সেই বইয়ের আংশিক বাংলা রূপান্তর করেছেন লেখক ইশতিয়াক চৌধুরী, ফিজিকস অব সুপারহিরোজ নামে।
গণিতে হিরো হতে চাইলেফিজিকস অব সুপারহিরোজ বইয়ের প্রচ্ছদএকনজরে
ফিজিকস অব সুপারহিরোজ
মূল: জেমস ক্যাকালিওস
রূপান্তর: ইশতিয়াক চৌধুরী
প্রচ্ছদ: আবুল বাসার
প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন
পৃষ্ঠা: ১৪৪
দাম: ৩৮০ টাকা
অজানা পৃথিবীর খোঁজেকমিকভক্ত যেকোনো পাঠকের জন্য এই বই অবশ্যপাঠ্য এবং পরম প্রাপ্তি। এ কথা যেমন ইংরেজি বইয়ের পাঠকদের জন্য সত্যি, রূপান্তরের পর বাংলাভাষী পাঠকদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।
ক্যাকালিওস পুরো বইটিকে সাজিয়েছেন বেশ কয়েকটি মূল ভাগে। চিরায়ত বলবিদ্যা, তাপগতিবিদ্যা, তড়িৎ ও চুম্বকত্ব থেকে শুরু করে আধুনিক কোয়ান্টাম মেকানিকস—সবই তিনি বুঝিয়েছেন সুপারহিরোদের কার্যকলাপের ব্যবচ্ছেদ করে। আটলান্টিসের গভীরে অ্যাকুয়াম্যানের বেঁচে থাকার রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ফ্লুইড ডায়নামিকসের জটিল সব সমীকরণ রূপকথার মতো সহজ করে তুলেছেন। এমনকি অ্যান্টম্যানের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র রূপ ধারণের পেছনের পারমাণবিক ঘনত্বের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন সহজ-সাবলীল ভাষায়। হ্যাঁ, এই বইয়ে অল্পবিস্তর গণিতের ব্যবহার আছে। তবে জটিল গাণিতিক সমীকরণে জেরবার করেননি বইটাকে। তাই পাঠক সহজেই সুপারহিরোদের চোখধাঁধানো কার্যকলাপের বৈজ্ঞানিক কারণ অনুসন্ধান করতে করতেই অনুভব করে ফেলেন পদার্থবিজ্ঞানের মূল সুর।
কমিকভক্ত যেকোনো পাঠকের জন্য এই বই অবশ্যপাঠ্য এবং পরম প্রাপ্তি। এ কথা যেমন ইংরেজি বইয়ের পাঠকদের জন্য সত্যি, রূপান্তরের পর বাংলাভাষী পাঠকদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।
বইটির বাংলা রূপান্তর প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন। মজবুত বাঁধাই, উন্নত কাগজে স্পষ্ট ছাপা এ বইটি পাওয়া যাচ্ছে সারাদেশের বইয়ের দোকানে। ঘরে বসে কিনতে পারবেন অনলাইন বুকশপগুলো থেকেও।
অধ্যাপক জামাল নজরুল ও তাঁর বিজ্ঞানী-জীবন