১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উষ্ণতা বৃদ্ধি ঠেকানো অসম্ভব—জাতিসংঘ
· Prothom Alo

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমছে না। জাতিসংঘ বলছে, প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এখন আর সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে কী ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করেছেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমছে না। বিভিন্ন দেশের সরকারও জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
Visit h-doctor.club for more information.
জাতিসংঘের সর্বশেষ ‘এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট’-এ বলা হয়েছে, এখন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য ধরে রাখার একমাত্র উপায় হলো সাময়িকভাবে এই সীমা অতিক্রম করতে দেওয়া। পরে শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীকে শীতল করার মাধ্যমে তাপমাত্রা আবার কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। সরাসরি বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহের মতো প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেক বিজ্ঞানীর। তাঁদের মতে, প্রয়োজনীয় হারে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমিয়ে আনার জন্য যে বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তিগত ও প্রাকৃতিক সহায়তা প্রয়োজন হবে, তা নিশ্চিত করা কঠিন।
শিশু কথা বলছে, কিন্তু ঠিকভাবে বলছে তোউষ্ণতা কমিয়ে আনা কি সম্ভব
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উষ্ণতা বৃদ্ধির সবচেয়ে কম সম্ভাব্য সীমার কথা বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এরপর তাপমাত্রা কমতে কমতে ২১০০ সালের মধ্যে আবার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফিরে আসার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ।
এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ১৮ শতাংশ, ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৬৯ শতাংশ কমাতে হবে। কিন্তু বর্তমান জলবায়ু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ কমার সম্ভাবনা মাত্র ৫ থেকে ৮ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে কমতে পারে ১১ থেকে ১৫ শতাংশ।
অর্থাৎ উষ্ণতা বৃদ্ধিকে যতটা সম্ভব সীমিত রাখতে যে পরিমাণ নিঃসরণ কমানো প্রয়োজন, বিশ্বের দেশগুলো এখনো তার ধারেকাছেও নেই।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার ইমেরিটাস অধ্যাপক ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তসরকার প্যানেলের সাবেক চেয়ারম্যান বব ওয়াটসনও এই পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পৃথিবীর তাপমাত্রা একবার বেড়ে যাওয়ার পর তা আবার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এ কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবিত প্রযুক্তিগুলো আদৌ কার্যকর হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
গত বছরের এমিশনস গ্যাপ রিপোর্টেও জাতিসংঘ জানিয়েছিল, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়া এখন প্রায় অনিবার্য। এবারের প্রতিবেদনে সেই সীমা সাময়িকভাবে অতিক্রম করার পর তাপমাত্রা আবার কমিয়ে আনার বিভিন্ন সম্ভাব্য পথ তুলে ধরা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, যতটা সম্ভব কম সময়ের জন্য এবং যতটা সম্ভব কম মাত্রায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করা।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, উষ্ণতা বৃদ্ধির এই সীমা সাময়িকভাবে অতিক্রম করার অর্থ হাল ছেড়ে দেওয়া নয়। যতটা সম্ভব এই বৃদ্ধি সীমিত রাখা এবং শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা আবার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
সন্তানকে কঠিন কাজের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠাচ্ছেন চীনা অভিভাবকেরা, কেনপ্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান
জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতিমালা অনুসরণ করলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিভিন্ন দেশ তাদের দেওয়া সব জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়াতে পারে।
গত বছরের প্রতিবেদনে দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণের ভিত্তিতে উষ্ণতা বৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল ১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নতুন প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস বেড়ে ২ দশমিক ১ ডিগ্রি হয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘের জলবায়ু প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক জোয়েরি রোজেলজের মতে, ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করাকে এমন একটি ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত, যা সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। তাঁর মতে, এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আরও বেশি উষ্ণতা বৃদ্ধির অনুমতি দেওয়া ঠিক হবে না।
বিশ্বের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করাই তাপমাত্রা বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়লেও যতটা সম্ভব এর কাছাকাছি থাকা জরুরি।
সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট
মার্কিন নাগরিকদের কী নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভয়, জানা গেল জরিপে