রাজশাহী মেডিকেলে দ্বিতীয় দিনের মতো ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, রোগীদের ভোগান্তি
· Prothom Alo
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনেও চলছে। এতে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসক না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
Visit turconews.click for more information.
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দেখা যায়নি। নার্স ও মেডিকেল কর্মকর্তারা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে রোগীর চাপের কারণে তাঁদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সভা হওয়ার কথা। সেখানে দাবির বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি হলে তাঁরা কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত বদলাবেন। অন্যথায় কর্মবিরতি চলবে।
নওগাঁর আত্রাই থেকে হাসপাতালে এসেছেন মো. মোয়াজ্জেম। তাঁর স্ত্রী হৃদ্রোগে আক্রান্ত। মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ডাক্তার নেই, চিকিৎসা নেই। শুধু নার্স এসে দেখছে। আমার স্ত্রীর হার্টের সমস্যা। গতকাল বুধবার সকালে একবার ডাক্তার এসেছিল। পরে আর আসেননি।’
কুষ্টিয়া থেকে এসেছেন মগরব মণ্ডল। তাঁর নাতি তামিম পেটের পীড়ায় ভুগছে। নাতিকে তিনি হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়েছেন। মগরবের অভিযোগ, হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক নেই। নার্সদের কাছে গেলেও তাঁরা চিকিৎসা দিতে পারছেন না।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে প্রায় ২৫২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন। গতকাল তাঁরা পুরো দিন কাজে আসেননি। আজ সকাল ১০টা পর্যন্তও কাজে যোগ দেননি। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
কর্মবিরতি চলছে জানিয়ে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি শাহাদাত মাহমুদ বলেন, আজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের সভা হওয়ার কথা আছে। সেখানে দাবির বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি হলে তাঁরা কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত বদলাবেন। অন্যথায় কর্মবিরতি চলবে।
চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন এক দম্পতি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরাজশাহী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, চিকিৎসাসেবা ব্যাহতগতকাল চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট, নিরাপত্তাসহ পাঁচ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন রাজশাহী মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। দাবির মধ্যে আছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার, রোগীর স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা।
কর্মবিরতির মধ্যেও রোগীদের সেবা চালু রাখতে মেডিকেল কর্মকর্তা, সহকারী রেজিস্ট্রার এবং সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন ও রোগীদের নিয়মিত ফলোআপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামিম আহম্মেদ। আজ সকাল ১০টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বসেছিলেন হাসপাতালের পরিচালক। আজও আলোচনা হবে।