‘“গুলি করি, মরে একটা” বলা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল হত্যা বন্ধের চেষ্টা করেননি’

· Prothom Alo

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসানকে (তাইম) হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।

যুক্তিতর্কের প্রথম দিনে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেছেন, ঘটনার সময় কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে কথাও বলেনি। তারপরও পুলিশের সদস্যরা তাইমকে গুলি করেন। এমনকি তাইমকে একজন উদ্ধার করার চেষ্টা করেছেন, তাঁকেও গুলি করে পুলিশ। তারপর সেই ব্যক্তি তাইমকে রেখে প্রাণভয়ে দৌড় দেন।

Visit grenadier.co.za for more information.

তাইমকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলার আসামিদের একজন হলেন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখিয়ে ইকবাল হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, “গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না।” যুক্তিতর্কের সময় এই ভিডিও আজ দেখানো হয়।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ আজ সোমবার এই মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথমে প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষ) পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে ইমাম হাসান (তাইম)। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ইমাম হাসান যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী–সেতুর কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ইমাম নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

ইকবাল হোসাইন প্রসঙ্গে যুক্তিতর্কে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল, তা ইকবাল জানতেন। ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না,’ ইকবালের এ কথার মাধ্যমে বোঝা যায়, হত্যা চলছে। হত্যা বন্ধ করার জন্য কোনো চেষ্টা ইকবাল করেননি।

এই মামলার ১১ আসামির মধ্যে ৯ জন পলাতক। তাঁরা হলেন ডিএমপি সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন, ডেমরা অঞ্চলের সাবেক উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান, ওয়ারী অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শামীম, সাবেক সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসাইন, সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক ও সাবেক উপপরিদর্শক সাজ্জাদ উজ জামান।

কারাগারে আছেন দুই আসামি। তাঁরা হলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় ২৪ ডিসেম্বর। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। এই মামলায় ২৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

Read full story at source