মহাশূন্যে নভোচারীরা লেখালেখি করেন যে ধরনের কলম দিয়ে

· Prothom Alo

মহাশূন্য গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে নভোচারীদের জন্য সাধারণ কলম বা পেনসিল ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অভিকর্ষহীন শূন্যতায় কালি কাজ না করা বা পেনসিলের গ্রাফাইট ভেঙে সংবেদনশীল যন্ত্রপাতির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও ছিল তখন। মহাশূন্যে লেখার জন্য বিশেষ ফিশার স্পেস পেন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে তৈরি করা হয়। অ্যাপোলো সেভেনের মিশন কমান্ডার ওয়াল্টার শিরা কলমটির ওজনহীনতা প্রদর্শন করেন। মহাকাশ জাদুঘরে এবং নিউইয়র্কের আধুনিক শিল্প জাদুঘরে এখনো এই কলম সংরক্ষণ করা আছে।

ফিশার পেন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা পল ফিশার আগে থেকেই একটি প্রেশারাইজড কলম নিয়ে কাজ করছিলেন। সেই কলমই ব্যবহার করে থাকেন নাসার নভোচারীরা। পল ফিশারের ছেলে কেরি ফিশার জানান, বলপয়েন্টের কালি বের হয়ে শুকিয়ে যেত। সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁর বাবা একটি সিল করা কার্টিজ নিয়ে কাজ করছিলেন। কার্টিজের ওপরের অংশে নাইট্রোজেন গ্যাস কালিকে পিস্টনের দিকে ঠেলে দিত। তবে অতিরিক্ত চাপের কারণে কলম থেকে কালি বের হতো। আর তাই নাসা এমন একটি কলমের খোঁজ করছিল, যার জন্য মাধ্যাকর্ষণের প্রয়োজন হয় না। নাসার আগ্রহে তিনি কালিতে রেজিন যোগ করেন। ফলে কালি থিক্সোট্রপিক রূপ নেয়। কলমের ডগার বলের ঘর্ষণে কালি তরল হয়। তিনি এর নাম দেন ‘এজি সেভেন’। তিনি বেশ কয়েকটি কলম নাসার কাছে পাঠান। নাসার ম্যানড স্পেসক্রাফট সেন্টার কলমগুলোর ব্যাপক পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় দেখা যায়, সেই কলম সব অবস্থানে কাজ করে। নাসার চাহিদার চেয়ে বেশি কালি ছিল কলমটিতে।

Visit extonnews.click for more information.

মহাকাশে পাঠানোর পর পল সেই কলমের নাম রাখা হয় ‘স্পেস পেন’। কলমটির বিষয়ে পল ফিশারের ছেলে কেরি ফিশার জানান, বাবা ভেবেছিলেন, নামটি খেলনার মতো শোনায়। তবে তাঁর বাবা সঠিক ছিলেন। অ্যাপোলো সেভেনের পর থেকে নাসার প্রতিটি মানববাহী মিশনে কলমগুলো ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বর্তমানে ডজন ডজন কলম রয়েছে। স্পেস পেন প্রায় ৮০টি মডেল রয়েছে। সামরিক বাহিনী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিমান প্রস্তুতকারক এবং তেলশ্রমিকদের মধ্যে এগুলোর চাহিদা বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—উভয় দেশই মহাকাশযানে পেনসিল ব্যবহার করেছিল। নাসার দ্বিতীয় মানব মহাকাশ কর্মসূচি প্রজেক্ট জেমিনির শুরু থেকে কমান্ড মডিউলের দেয়ালে প্রত্যাহারযোগ্য সুতার সঙ্গে পেনসিল যুক্ত ছিল। নভোচারীরা মিশন রিপোর্ট লেখার পাশাপাশি পোস্ট মিশন বিশ্লেষণের সময় এই কলম ব্যবহার করতেন।

নোটপ্যাড এবং পেনসিল নভোচারী জন গ্লেনের জন্য দেওয়া হয়েছিল। ১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্রেন্ডশিপ সেভেনের ফ্লাইটে তিনি বিভিন্ন কাজ ও পরীক্ষা চালান। সহজে ব্যবহারের জন্য তাঁর হাঁটুতে যুক্ত ছিল বিশেষ প্যাড। শূন্যতায় পেনসিল ভেসে যাওয়া রোধ করতে এটি নাইলন কর্ড দিয়ে প্যাডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে নাসা অ্যাপোলো সেভেন মিশনের জন্য প্রতিটি ছয় ডলার মূল্যে ৪০০ কলম কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। মহাকাশে ব্যবহারের জন্য নাসা সেগুলোতে ভেলক্রো জড়িয়ে দেয়। ফলে নভোচারীরা তাঁদের স্যুট বা দেয়ালে সহজে কলমটি যুক্ত করতে পারেন।

সূত্র: নাসা ও স্মিথসোনিয়ান

Read full story at source