পশ্চিমবঙ্গে নতুন নির্বাচনের দাবি মমতার
· Prothom Alo

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হারেনি, বরং চক্রান্ত ও ইভিএম ‘হাইজ্যাক’ করে দলটিকে হারানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ জন্য বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করে পুরোনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানায় পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
Visit h-doctor.club for more information.
নির্বাচনে পরাজয়ের পাঁচ মাস পর শনিবার এই প্রথম কলকাতার বাইরে রাজনৈতিক সমাবেশ করেন মমতা। পুলিশ সভার অনুমতি না দেওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হুগলির শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘এসআইআর বাতিল করে পুরোনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই এই বাংলায় আবার ভোট নিতে হবে। শুধু বাংলাই নয়—বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানাতেও নতুন করে নির্বাচন করতে হবে। ইভিএম হাইজ্যাক করে এবং এসআইআরের অপব্যবহার করে ওরা ভোটে জিতেছে। ভোটে আমরা হারিনি, বরং চক্রান্ত করে আমাদের হারানো হয়েছে। সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও উপজাতিদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মানুষ এখনো আমাদের সাথেই আছে।’
শ্রীরামপুরে দলীয় সভায় যাওয়ার পথে হুগলির উত্তরপাড়ায় হামলার মুখে পড়ে তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষের গাড়ি। গাড়ির ভেতর থেকে তোলা দৃশ্য। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে জুলুম করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে। জ্ঞানেশ কুমারের নাম ‘ভ্যানিশ কুমার’ তিনিই দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, এই এসআইআরের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ৯২ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে ‘ভ্যানিশ’ (বাদ) করে দেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষক’ হিসেবে কাজ করেছেন দাবি করে অবিলম্বে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। বর্তমানে অন্নপূর্ণা ভান্ডার, রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে অনিয়ম চলছে। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং সর্বত্র চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে।
কুনাল ঘোষের গাড়িতে হামলা
এদিকে শ্রীরামপুরের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় হামলার মুখে পড়েন তৃণমূলের বিধায়ক কুনাল ঘোষ। একদল বিক্ষোভকারী তাঁর গাড়ির সামনে কালো পতাকা প্রদর্শন করে স্লোগান দেয় এবং ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে কুনালের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনি কাঁধে চোট পান বলে দাবি করেন। পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় তিনি কলকাতায় ফিরে যান। এ ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন তিনি। তবে বিজেপির দাবি, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে তাঁর কুশপুত্তলিকা নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। হাজরা মোড়, দক্ষিণ কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কংগ্রেস। সমাবেশ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর চেষ্টা করা হলে পুলিশ তা জব্দ করে।