সমকালীন বাংলার দুর্ভিক্ষপীড়িত শিল্পকলা

· Prothom Alo

চিত্রকলা বা শিল্পকলা অথবা যেকোনো সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির প্রতিই আমাদের নিদারুণ অনাগ্রহ! এই যে অনাগ্রহ কিংবা অবজ্ঞা, তার কারণ যদি আমরা অনুসন্ধান করতে যাই, তাহলে আমাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা কিছু গৎবাঁধা বিপত্তির কথা বলবেন। আর যদি তাঁদের প্রস্তাবিত বিপত্তিগুলো অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে আরও একদফা একেবারে অবাস্তব বাক্যবিন্যাস করবেন এবং অবশেষে সার্বিক শিল্পকলার প্রতি আমাদের আগ্রহ আরও তলানিতে নেমে যাবে; অন্তত বিগত আড়াই শ বছরের ইতিহাস আমাদের তা–ই বলছে। আদতে আমাদের চিত্রকলাকে বলা যেতে পারে দুর্ভিক্ষপীড়িত চিত্রকলা। কেননা সমকালীন বাংলায় চিত্রকলার দুই ধারা, অর্থাৎ পাশ্চাত্য শৈলী ও লোকজ শৈলী। এই দুটি ধারাই তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে আত্মরক্ষার তাগিদে। ফলে এই চিত্রকলাকে দুর্ভিক্ষপীড়িত অসহায় শিল্পীদের বেঁচে থাকার আকুতি বলে চিহ্নিত করা যায়, যার সঙ্গে অভাবী মানুষের সংযোগ থাকলেও স্বভাবী মানুষের ক্রমাগত দূরত্বই রচিত হয়। এই লেখার শিরোনামে শিল্পকলা থাকলেও এর কেন্দ্রবিন্দু বাংলার চিত্রকলা। তাই চিত্রকলাকে কেন্দ্র করে বিষয়টিকে যাচাই করে দেখা যেতে পারে।

Visit newsbetsport.bond for more information.

‘ম্যাডোনা’, জয়নুল আবেদিন, ১৯৪৩

চিত্রকলায় ১৮ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে (১৭৭০-১৮৫০) ইংরেজ আমলে বাংলা অঞ্চলে সূচনা হয় কোম্পানি শৈলীর, যা মোগল ও রাজপুত মিনিয়েচার এবং ইউরোপীয় কৌশলের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছিল। কোম্পানি শৈলী ১৭৫০-১৭৭০ সাল নাগাদ শুরু হয়ে ১৯ শতকের মাঝামাঝি (প্রায় ১৮৫০) পর্যন্ত চলে। ভারতীয় ও পারসিক শিল্পীদের মিলিত উদ্যমে সৃষ্ট মোগল চিত্রকলা (১৫৫০-১৭৫০) শতাধিক বছর মোগল দরবারে আনুকূল্য লাভের পর আওরঙ্গজেবের শাসনকালে মোগল শিল্পীদের কারখানার ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। পৃষ্ঠপোষকতা হারিয়ে অসহায় শিল্পী দল নতুন প্রতিপালকের আশায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন। বাংলার নবাবদের ছত্রচ্ছায়ায় মোগল শৈলীর পরম্পরায় উদ্ভূত মুর্শিদাবাদ শৈলী এগারো শ ছিয়াত্তরের (১৭৬৯ খ্রি.) মন্বন্তরের ধাক্কায় ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়ে যায়। দুর্ভিক্ষের প্রকোপে শিল্পীদের অনেকেই প্রাণ হারালেন অনাহারে, অনেকে হলেন দেশান্তরি। তাঁদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত যাঁরা ইংরেজদের আশ্রয়ে জীবন রক্ষায় সক্ষম হলেন, তাঁদের হাতেই মূলত মোগল ও পাশ্চাত্য চিত্ররীতির মিশ্রণে সৃষ্টি হয়েছিল এক নতুন শৈলী, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোম্পানি স্কুল’ বা কোম্পানি শৈলী। সাধারণ বণিক থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর মুর্শিদাবাদে বহু ইংরেজের সমাগম হলো। মুর্শিদাবাদের শিল্পীরা নতুন পৃষ্ঠপোষকের আশায় ইংরেজদের দ্বারস্থ হলেন; সারা ভারতেই শুরু হলো কোম্পানি শৈলীর নতুন চিত্রকলা। নতুন পৃষ্ঠপোষকদের রুচির অনুকূলে শিল্পীরা নিজস্ব ধারার সঙ্গে পাশ্চাত্য রুচির সংযোগ ঘটাতে বাধ্য হলেন।

১৭৬৪-৬৫ সালে বাংলা ও বিহার থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাজস্ব আদায়ের ভার গ্রহণের পর প্রথম বছরে, অর্থাৎ ১৭৬৫-৬৬ সালে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বেড়ে হয় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনসাধারণের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের বিষয়ও আমাদের জানা। একদিকে ব্যবসার নামে কোম্পানির অবাধ লুণ্ঠন ও ক্রমবর্ধমান হারে রাজস্ব আদায় চলতে থাকে, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত উৎকোচ গ্রহণের পরিমাণও। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট নিযুক্ত অনুসন্ধান কমিটি কর্মচারীদের উৎকোচ গ্রহণের যে তালিকা প্রস্তুত করে, তাতে দেখা যায় ১৭৫৭ থেকে ১৭৬৬ সাল পর্যন্ত কোম্পানির কর্মচারীদের বাংলা ও বিহার থেকে উৎকোচ গ্রহণের মোট পরিমাণ ছিল ৬০ লাখ পাউন্ড (১৭৫০ থেকে ১৭৭০ সালের সমসাময়িক সময়ে ৬০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য তত্কালীন স্থানীয় মুদ্রায় ছিল প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা)। রাজস্বের বাইরে এই বিশাল অঙ্কের উৎকোচের টাকায় তারা এ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে। এ দেশের জনগণের টাকায় পণ্য কিনে ইউরোপের বাজারে বিক্রি তারা অবিশ্বাস্য মুনাফা অর্জন করতে থাকে। বাংলাকে শোষণে-শাসনে শ্মশানে পরিণত করে নিয়মিত ফুলেফেঁপে উঠতে থাকে ইংল্যান্ড। ‘ইন্ডিয়া অফিস রেকর্ডস’ থেকে জানা যায়, ১৭৭০–এর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দুর্ভিক্ষে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় এক কোটি মানুষের মৃত্যু হয় এই দুর্ভিক্ষে; এর প্রধান কারণ ছিল অস্বাভাবিক রাজস্ব ও ঘুষ প্রদানে বাধ্য করা। তত্কালীন গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস কোম্পানির পরিচালকদের চিঠি লিখে জানান, এমন ভয়ংকর বিপর্যয়ের সময়ে মানুষের ঘরে খাদ্যের জোগান না থাকলেও, এমনকি চাষাবাদ কমে যাওয়া সত্ত্বেও রাজস্ব আদায় কমে যায়নি, বরং আগের বছরগুলো থেকে আরও বেড়েছে। কেননা তিনি অত্যন্ত হিংস্র ও নির্দয়ভাবে রাজস্ব আদায় করেছেন। হেস্টিংস ৩ নভেম্বর ১৭৭২ সালে লিখেছেন, ‘প্রদেশটির অধিবাসীদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু এবং তার ফলে কৃষিকাজের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও ১৭৭১ সালের নিট রাজস্ব আদায় ১৭৬৮ সালের আদায়কেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।’ হেস্টিংসের জন্য গভর্নর পদে বহাল থাকার জন্য কোম্পানির পরিচালকদের সন্তুষ্টিবিধান ছিল জরুরি।

টিলি কেটলের আঁকা ওয়ারেন হেস্টিংসের প্রতিকৃতি

হেস্টিংস ছিলেন একজন পণ্ডিত ব্যক্তি, ভাষাবিদ, সংস্কৃতিমান ও চিত্রশিল্পের যোগ্য সমঝদার। তিনি বুঝতে পারেন, এখানে শাসন-শোষণকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে ভিন্ন পথে হাঁটতে হবে। ১৭৮১ সালে তিনি মুসলমানদের জন্য কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা এবং ১৭৮২ সালে হিন্দুদের জন্য বারানসিতে সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭৮৪ সালে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় প্রাচ্যবিদ্যার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’। হেস্টিংসের সময়ে ইংল্যান্ড থেকে উইলিয়াম জোনস, চার্লস উইল কিন্স, নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ও হেরি পিটস ফরস্টারের মতো বহু ভাষাবিদ, পণ্ডিত ও গবেষকদের আগমন ঘটে। এর ফলাফল আমরা দেখতে পাই বাংলার ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ সার্বিক জ্ঞান কাঠামোর রন্ধ্রে রন্ধ্রে। বাংলার মানুষ কী পড়বে, কী খাবে, কী বলবে, কীভাবে হাঁটবে—সব কিছু শিখিয়ে–পড়িয়ে দেওয়ার জন্য দলে দলে ব্রিটিশ জ্ঞানীগুণীদের আগমন ঘটতে লাগল ভারতবর্ষে। ব্রিটিশ ভারতবিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক নাথানিয়াল ব্রাসি হ্যালহেড তাঁর ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ’ গ্রন্থে বাঙালিদের জানিয়েছেন, বাংলা ভাষাটা কেমন করে পড়তে, লিখতে ও বলতে হয়! ভাষার ধরন, গঠন ইত্যাদি কেমন হওয়া ‘উচিত’ তা হ্যালহেড সাহেব জানেন! জানে না বাঙালি, যা তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা!

হেস্টিংস ছিলেন একজন পণ্ডিত ব্যক্তি, ভাষাবিদ, সংস্কৃতিমান ও চিত্রশিল্পের যোগ্য সমঝদার। তিনি বুঝতে পারেন, এখানে শাসন-শোষণকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে ভিন্ন পথে হাঁটতে হবে। ১৭৮১ সালে তিনি মুসলমানদের জন্য কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা এবং ১৭৮২ সালে হিন্দুদের জন্য বেনারসে সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

ধূর্ত ইংরেজ অতি সহজেই বুঝতে পারে, এ অঞ্চলের মানুষের ব্যবহার, আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, শিল্প-সাহিত্য, মনস্তত্ত্ব—সবই জানতে হবে তাদের। এই প্রয়োজনীয়তাকে ভিত্তি করেই তারা শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, দর্শন, ভাষা ও ইতিহাসের অধ্যয়ন শুরু করে। এশিয়াটিক সোসাইটির বিপুল পরিমাণ গবেষণায় রচিত হতে থাকে মানচিত্র, প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং সংস্কৃত, আরবি, ফারসি থেকে ইংরেজিতে অনূদিত বইপত্র। ১৮৩৫-৩৬ সালের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের ‘রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন আর্টস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচার্স’ নামের অফিশিয়াল নথি থেকে জানা যায়, ব্রিটিশ রয়্যাল একাডেমির প্রখ্যাত ভাস্কর স্যার রিচার্ড ওয়েস্টম্যাকট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতীয় ভাস্কর্য নিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ভারতীয় ভাস্কর্যগুলো খোদাইয়ের দিক থেকে বিচার করলে অত্যন্ত নিম্ন মানের এবং এতে কোনো শারীরবৃত্তীয় অনুপাত বজায় রাখা হয় না। গ্রিক ভাস্কর্যের তুলনায় ভারতীয় ভাস্কর্যকে তিনি পুরোপুরি অকেজো ও কুরুচিপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। ১৮৮০ সালে ব্রিটিশ শিক্ষা কাউন্সিল ও সাউথ কেনসিংটন মিউজিয়ামের পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতীয় শিল্পকলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য রচিত হয় ‘দ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টস অব ইন্ডিয়া’ নামের একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ। লেখক জর্জ বার্ডউড তাঁর সুবৃহৎ গবেষণাগ্রন্থে অবলীলায় বলে ফেলতে পারেন, ‘ভারতে ভাস্কর্য ও চিত্রকলা চারুশিল্প হিসেবে ছিল অপরিচিত।’ গবেষণার নামে স্থানীয় সব বিষয়কে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে সর্বৈব মিথ্যা ও অপমানজনক নথিপত্রের বিশাল ভান্ডার তৈরি হতে থাকে ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়ন ও প্রণোদনায়।

ইতালীয় শিল্পী ওলিনতো গিলার্দির একটি চিত্রকর্ম

এর সঙ্গে মাঠে অবতীর্ণ হন অন্য খেলোয়াড়েরা। কলকাতার ‘বেথুন সোসাইটি’তে ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী কর্নেল গুডউইনের প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে কলকাতার তত্কালীন কয়েকজন বিশিষ্ট বাঙালি ও ইংরেজ ব্যক্তিত্বের উদ্যোগে ১৮৫৪ সালের মে মাসে গঠিত হয় ‘শিল্পবিদ্যোত্সাহিনী সভা’ (সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্ট)। এই সভার উদ্যোগে ১৮৫৪ সালের ১৬ আগস্ট গঠিত হয় ‘দ্য ক্যালকাটা স্কুল অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্ট’। ১৮৬৪ সালে এটি সরকার অধিগ্রহণ করে ‘দ্য ক্যালকাটা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্ট’ নামকরণ করে। ইংল্যান্ড থেকে হেনরি হোভার লক দ্য ক্যালকাটা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টে যোগদান করেন ২৯ জুন ১৮৬৪ সালে। হেনরি হোভার লক ছিলেন লন্ডনের সাউথ কেনসিংটন মিউজিয়ামের স্কুল অব ডিজাইনের চিত্রকলা বিভাগের ছাত্র। অধ্যক্ষ লক সিলেবাসকে ‘ব্যবহারিক শিল্প’ ও ‘চারুশিল্প’ নামে দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন। তিনি কলকাতা আর্ট স্কুলে লন্ডনের সাউথ কেনসিংটন স্কুলের শিক্ষণপদ্ধতি চালু করেন। এটি ছিল জোশুয়া রেনল্ডসের প্রবর্তিত শৈলীর অনুসরণে একটি ধারা। লন্ডনের এই আর্ট (বর্তমানে ‘রয়্যাল কলেজ অব আর্ট’) স্কুলটি অত্যন্ত রক্ষণশীলতার সঙ্গে রোকোকো আমলের শিল্পগুরু জশুয়া রেনল্ডস প্রবর্তিত পাঠ্যক্রম অনুকরণ করত। অর্থাৎ এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মোগল-মুর্শিদাবাদ-কোম্পানি শৈলী হয়ে সরাসরি পাশ্চাত্য শিল্পের অনুকরণের বন্দোবস্ত হয়ে গেল এ দেশের প্রাতিষ্ঠানিক চিত্রকলার ঘরানায়। লকের আমল থেকেই গ্রিক, রোমান ও রেনেসাঁ যুগের ভাস্কর্যের ছাঁচ এবং সম্পূর্ণ পাশ্চাত্য রীতিতে আর্ট স্কুলে চিত্র-ভাস্কর্য নির্মাণের প্রবর্তন শুরু হয়। লকের মৃত্যুর (২৫ ডিসেম্বর ১৮৮৫) পর এম শ্যামবুর্গ অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ১৮৮৬ সালে সহকারী অধ্যক্ষের পদ সৃষ্টি করা হয় এবং এ পদে ২৯ জানুয়ারি ১৮৮৬ সালে যোগদান করেন ইতালীয় শিল্পী ওলিনতো গিলার্দি। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষক গিলার্দি কিছু ক্লাসে ভারতীয় পরম্পরার শিল্পশৈলী অনুসরণের চেষ্টা করেন। পূর্বতন অধ্যক্ষের মৃত্যুর পর নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে ১৮৯৬ সালের ৬ জুলাই অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন আর্নেস্ট বিনফিল্ড হ্যাভেল; ছিলেন ১৯০৫ পর্যন্ত। তার নেতৃত্বে ‘বেঙ্গল স্কুল’ নামের ধারার সূচনা হয়। হ্যাভেল আর্ট স্কুলে যোগ দিয়ে শিক্ষাক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেন, যা গিলার্দি কিছুটা সূচনা করেছিলেন। হ্যাভেল লক প্রবর্তিত পাশ্চাত্য চিত্র-ভাস্কর্যের অনুকরণপদ্ধতি বিসর্জন দিয়ে ভারতীয় চিত্র-ভাস্কর্য অনুকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একই পথের অনুসারী হিসেবে গিলার্দির অবসরের পর হ্যাভেলের আমন্ত্রণে আর্ট স্কুলে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন ১৫ আগস্ট ১৯০৫ সালে, স্বপদে বহাল ছিলেন ১৯১৫ পর্যন্ত। হ্যাভেলের অসুস্থতার কারণে কিছুকাল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ চালিয়ে যান অবনীন্দ্রনাথ। ১২ জানুয়ারি ১৯০৯ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অবনীন্দ্রনাথ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন পার্সি ব্রাউন। তিনি ১৯২৭ সাল পর্যন্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। পার্সি ব্রাউন আবার পাশ্চাত্য একাডেমিক ব্যবস্থা চালু করেন। পার্সি ব্রাউনের আমলে কলকাতা আর্ট স্কুলে এক অদ্ভুত নিয়ম প্রবর্তন করা হয়। ফাইন আর্ট বিভাগকে দ্বিখণ্ডিত করে ফাইন আর্ট বা পাশ্চাত্য রীতির শিল্প এবং ভারতীয় রীতির শিল্পকলা বিভাগ প্রবর্তন করা হয়। এই বিভাজনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হলো ভারতীয় শিল্প ফাইন আর্টবহির্ভূত ব্যাপার। এরই মধ্যে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের আদেশে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়। সারা দেশে এর তীব্র বিরোধিতা দানা বেঁধে ওঠে; অবনীন্দ্রনাথ ১৯০৫ সালেই আঁকেন তাঁর বিখ্যাত ছবি ‘ভারতমাতা’। তাই অবনীন্দ্রনাথের হাতে আর্ট স্কুলকে নিরাপদ মনে করেনি ব্রিটিশ সরকার। ফলে পার্সি ব্রাউনের আগমন এবং যথারীতি পাশ্চাত্য সিলেবাসে ফিরে যাওয়া। তীব্র আন্দোলনে মুখে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ হয় এবং একই দিনে কলকাতা থেকে ব্রিটিশ রাজধানী নয়াদিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়।

১৯৪৩ সালে জয়নুলের দুর্ভিক্ষের চিত্রকলা বাংলার চিত্রকলা ও দুর্ভিক্ষকে প্রত্যক্ষভাবে সামনে নিয়ে আসে। যদিও জয়নুল আবেদিন দুর্ভিক্ষের চিত্র এঁকেছেন, কিন্তু চিত্রের দুর্ভিক্ষ তিনি আঁকেননি। কিন্তু বাংলার চিত্রকলাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, এই চিত্রকলা মূলত দুর্ভিক্ষপীড়িত। দুর্ভিক্ষের প্রকোপ শিল্পীদের মোগল-মুর্শিদাবাদ-কোম্পানি শৈলী হয়ে পুরোপরি পাশ্চাত্য শৈলীতে রূপান্তরিত হতে প্ররোচিত ও বাধ্য করেছে।

পার্সি ব্রাউনের পর মুকুল দে ছিলেন কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফট (দ্য ক্যালকাটা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্ট)-এর প্রথম ভারতীয় অধ্যক্ষ। মুকুল দে ১৯২৮–৪৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষের সময় জয়নুল আবেদিন কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৩৮ সালে স্নাতক শেষ করার পর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত (দেশভাগের আগে) তিনি সেখানে শিক্ষকতা করেন। ১৯৪৩ সালে জয়নুলের দুর্ভিক্ষের চিত্রকলা বাংলার চিত্রকলা ও দুর্ভিক্ষকে প্রত্যক্ষভাবে সামনে নিয়ে আসে। যদিও জয়নুল আবেদিন দুর্ভিক্ষের চিত্র এঁকেছেন, কিন্তু চিত্রের দুর্ভিক্ষ তিনি আঁকেননি। কিন্তু বাংলার চিত্রকলাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, এই চিত্রকলা মূলত দুর্ভিক্ষপীড়িত। দুর্ভিক্ষের প্রকোপ শিল্পীদের মোগল-মুর্শিদাবাদ-কোম্পানি শৈলী হয়ে পুরোপরি পাশ্চাত্য শৈলীতে রূপান্তরিত হতে প্ররোচিত ও বাধ্য করেছে। পাশ্চাত্য সিলেবাসে শিক্ষিত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে ১৯৪৮ সালের ১৫ নভেম্বর পুরান ঢাকার জনসন রোডের ন্যাশনাল মেডিক্যাল স্কুলের একটি জীর্ণ কক্ষে গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউটে (যা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়, যেখানে এখনো পাশ্চাত্য রেনেসাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত শিক্ষা কার্যক্রম চলমান।

অন্তিম যাত্রা, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯১৩

একদিকে আমাদের বাংলার প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা পুরোপুরি পাশ্চাত্যের চাকচিক্যের নেশায় বুঁদ হয়ে আছে, অন্যদিকে অনেকটা নিভৃতে পশ্চিমেরই প্ররোচনা ও প্রযোজনায় রচিত হচ্ছে বাংলার লোকশিল্প। ১৮৪৬ সালের ২২ আগস্ট হাউস অব লর্ডস লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক এবং লেখক উইলিয়াম জন থমস লন্ডনের বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘দ্য অ্যাথেনিয়াম’-এ প্রকাশিত একটি চিঠিতে প্রথম ‘ফোকলোর’ শব্দটি ব্যবহার করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯ শতকের শেষের দিকে এই মূল শব্দ থেকেই ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান শিল্পের ক্ষেত্রে ‘ফোক আর্ট’ (লোকশিল্প) শব্দবন্ধটি একটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরি হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বাংলা অঞ্চলের ওরাল ট্র্যাডিশন বা মৌখিক লোককাহিনি সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রথম পথপ্রদর্শক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন ১৯ শতকের এক ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক জেলা প্রশাসক জি এইচ ড্যামন্ট। তিনি উত্তরবঙ্গ থেকে গ্রামীণ উপকথাগুলো সংগ্রহ করে বিখ্যাত ‘ইন্ডিয়ান অ্যান্টিকুয়ারি’ পত্রিকায় ১৮৭২ থেকে ১৮৭৯ সালের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেন। এটিই ছিল বাংলার লোককাহিনির প্রথম ইংরেজি নথিবদ্ধকরণ; বাংলার লোককাহিনির পথপ্রদর্শক একজন ইংরেজ জেলা প্রশাসক! ‘ইন্ডিয়ান অ্যান্টিকুয়ারি’ ছিল ১৯ ও ২০ শতকের প্রথমার্ধে প্রকাশিত দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষণার ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রথম সারির একটি আন্তর্জাতিক একাডেমিক জার্নাল। ১৮৭২ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত টানা ৬২ বছর ধরে এই সাময়িকী প্রাচ্যতত্ত্ব, প্রত্নতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে হাজার হাজার প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। জার্নালটির উপশিরোনামই ছিল, ‘আ জার্নাল অব ওরিয়েন্টাল রিসার্চ ইন আর্কিওলজি, হিস্ট্রি, লিটারেচার, ল্যাঙ্গুয়েজেস, ফিলসফি, রিলিজিয়ন, ফোকলোর, অ্যান্ড সেক্টা’। জার্নালটি প্রকাশের পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু একাডেমিক লক্ষ্য ছিল। এশিয়াটিক সোসাইটি বা বিভিন্ন ছোটখাটো প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থার কার্যবিবরণীতে যেসব মূল্যবান তথ্য ও লিপি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকত, সেগুলোকে একত্র করে একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে নথিবদ্ধ করা। ১৯ শতকের শেষ ভাগে ও ২০ শতকের প্রথমার্ধে (মূলত ১৯১০ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে) ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিপরীতে নিজেদের ‘সাংস্কৃতিক স্বাজাত্যবোধ’ বা শিকড়ের সন্ধান করতে গিয়েই রেভারেন্ড লালবিহারী দে (১৮২৪-১৮৯৪), দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯), অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭১-১৯৫১), গুরুসদয় দত্ত (১৮৮২-১৯৪১), যামিনী রায় (১৮৮৭-১৯৭২), জসীমউদ্‌দীন (১৯০৩-১৯৭৬), বিনোদ বিহারী মুখোপাধ্যায় (১৯০৪-১৯৮০), অজিত মুখোপাধ্যায় (১৯১৫-১৯৯০) প্রমুখের হাত ধরে বাংলায় লোকশিল্প চর্চার এই একাডেমিক বাঙালি-যাত্রা শুরু হয়েছিল। এর ভিত্তি ধীরে ধীরে, প্রায় শত বছর ধরে অসংখ্য গবেষণাপ্রবন্ধের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে ছিল সুচতুর ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’, ‘ইন্ডিয়ান অ্যান্টিকুয়ারি’ এবং বিভিন্ন স্বতন্ত্র কলোনিয়াল গবেষকদের সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টায়। মূল ধারার শিল্পকলাকে নিচু মানের, জ্ঞানবিজ্ঞানের সংযোগহীন, অনুপাত-পরিপ্রেক্ষিতহীন, ফাইন আর্ট হয়ে ওঠার অযোগ্য ইত্যাদি বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করে, তাকে পরিত্যাজ্য ঘোষণা করার মাধ্যমে দৃষ্টিসীমার বাইরে ছুড়ে ফেলা হয়; এবং পাশাপাশি একটি অত্যন্ত অপ্রশিক্ষিত, অদক্ষ ও অসৃজনশীল ধারাকে ক্রমাগত বন্দনা করার মাধ্যমে সামনে নিয়ে আসা হয়। ঘটনাগুলো খুবই সুদক্ষভাবে সম্পাদিত শত বছরের গবেষণার ছদ্মবেশে উপস্থাপন করা হয়। ফলে আমাদের স্বদেশের শিকড়সন্ধানীরা অবশেষে যা খুঁজে পান, সেটি না পাওয়াই হতে পারত জাতির জন্য অধিক মঙ্গলময়।

জয়নুল আবেদিন

উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক কলকাতায় (আনুমানিক ১৮০০ থেকে ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ) কালীঘাট মন্দির–সংলগ্ন এলাকায় গ্রামীণ পটুয়াদের হাত ধরে গড়ে ওঠে কালীঘাট পটচিত্র। গ্রামীণ দীর্ঘ জড়ানো পটের ঐতিহ্যকে ভেঙে কলকাতার দ্রুতগতির জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শিল্পীরা আমদানি করা মিলের সস্তা একক কাগজে টেম্পেরা পদ্ধতিতে জলরং ও জোরালো রেখার সাহায্যে এই চিত্রশৈলীর বিকাশ ঘটান। দেবী কালী বা পৌরাণিক বিষয়বস্তুর আদি পর্যায় পেরিয়ে ১৮৫০ থেকে ১৮৯০ সালে কালীঘাট চিত্রকলার সুবর্ণ যুগে এই চিত্রকলা তত্কালীন কলকাতার ভণ্ড, বিলাসী ও বাবু সংস্কৃতির তীব্র সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র ও বাস্তব ঘটনার এক অনন্য চাক্ষুষ দলিলে পরিণত হয়। ১৯৩০-এর দশক পর্যন্ত চলে এই ধারা এবং স্বাজাত্যবোধের শিকড়সন্ধানী বোদ্ধামহল নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী চিত্রকলার সন্ধান লাভ করেন কালীঘাটসহ বিভিন্ন গ্রামীণ চিত্রকলায়!

জয়নুল আবেদিনের আরেকটি স্কেচ, ১৯৪৩

বাংলার চিত্রকলার এই দুই ধারাই সরাসরি পাশ্চাত্যের শিখিয়ে–পড়িয়ে দেওয়া বুলি। এর পেছনে অনুঘটকের কাজ করেছে ব্রিটিশ কোম্পানি ও সরকার প্রযোজিত ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, তেতাল্লিশের মন্বন্তরসহ বাংলার সাতটি দুর্ভিক্ষ। বাংলার চিত্রকলায় এই দুর্ভিক্ষের একটি ধারাবাহিক ছাপ রয়েছে, যেখানে খাবারের সন্ধান পাওয়া গেছে, শিল্পীরা সেই দিকেই ছুটেছেন। এখানো বিভিন্ন ফর্মে একই ধারা চলমান। ফলে এই দেশ তার নিজস্ব আত্মার ডাক শুনতে পায়নি, অন্তত আড়াই শ বছর ধরে তার নিজের চেহারা শিল্পকর্মের ভেতর দিয়ে দেখার সৌভাগ্য এই দেশের হয়নি। এখানে শিল্পীরা কেবলই খাবারের পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছেন, যেদিকে খাবারের সম্ভাবনা দেখা যায়, সেদিকেই ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে বেড়ান। খাবারই তাঁর একমাত্র প্রণোদনা, অন্য কোনো উদ্দেশ্য কিংবা লক্ষ্য একেবারেই বিলীন হয়ে গেছে। কেননা তাঁরা দুর্ভিক্ষপীড়িত; মন-মগজ-বুদ্ধি-ভবিষ্যৎ—এমন বহুবিধ দুর্ভিক্ষে জর্জরিত; তাঁদের শিল্পকলা দুর্ভিক্ষের শিল্পকলা।

Read full story at source