দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভোটে বিজেপির জয়জয়কার

· Prothom Alo

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডিইউএসইউ) নির্বাচনে বিজেপির ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জয়জয়কার। মোট চারটি পদের তিনটিতেই তারা জয় পেল। সভাপতি, সচিব ও যুগ্ম সচিব পদে জিতলেও সহসভাপতি পদে এবিভিপি হেরেছে কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন এনএসইউআইয়ের টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র হয়ে দাঁড়ানো দীপাংশ শোকিন।

Visit freshyourfeel.com for more information.

যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, দেশজুড়ে তেলাপোকা পার্টির নেতাদের শিক্ষা আন্দোলন ও সত্য নিকেতনে পড়ুয়াদের হোস্টেল ভাঙার ঘটনার পর দিল্লিতে এটাই ছিল প্রথম ভোট। দেখা গেল, এই ভোটে তেলাপোকা পার্টি সিজেপির আন্দোলনের তেমন কোনো প্রভাবই পড়েনি। এই ভোটের ফল নিঃসন্দেহে শাসক বিজেপির কাছে সন্তোষজনক।

সভাপতি পদে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এবিভিপির যশ দাবাসের সঙ্গে এনএসইউআইয়ের বিজয় মিনার। ১৪ রাউন্ড পর্যন্ত গণনায় মিনা এগিয়ে থাকলেও শেষ ৬ রাউন্ডের গণনায় দাবাস তাঁকে পেছনে ফেলে দেন। দাবাস পান ২৫ হাজার ৫৭৬ ভোট, মিনা পেয়েছেন ২২ হাজার ৫২৩। এই পদে বামপন্থী নন্যা রাতুরি পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৭৭ ভোট।

সচিব পদ জিতেছেন এবিভিপির রিয়া চাউড়ি। তিনি পেয়েছেন ২১ হাজার ৬৫০ ভোট। ১৪ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন এনএসইউআইয়ের নম্রতা চৌধুরী। বাম প্রার্থী পেয়েছেন ৮ হাজার ৭৩৪ ভোট।

যুগ্ম সচিব পদটিও জিতেছে এবিভিপি। তাদের প্রার্থী লক্ষ্যরাজ সিং পান ১৬ হাজার ৬১৫ ভোট। এসএসইউআইয়ের প্রার্থী গোপাল চৌধুরী পেয়েছেন ১৫ হাজার ২০৬ ভোট।

সহসভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন এনএসইউআইয়ের দিপাংশু শোকিন। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্ব তাঁকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলেন। দিপাংশু রাজি হননি। তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে পান ৩০ হাজার ৬১৫ ভোট। এবিভিপির ইশু মৌরিয়া দ্বিতীয় হন ১৬ হাজার ৯১০ ভোট পেয়ে। ওই পদে এনএসইউআইয়ের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৩১৩ ভোট। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর এমন জয় বিরল।

এই ভোটের ফলাফল নানা কারণে বিজেপির কাছে খুবই সন্তোষজনক। প্রথমত, যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভের পর এটাই দিল্লির প্রথম নির্বাচন। দ্বিতীয়ত, সত্য নিকেতনের হোস্টেল ভেঙে পড়ার ঘটনা। ওই তল্লাটের ছাত্রাবাসগুলোয় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই থাকেন। প্রচারের সময় সব পক্ষই এই বিষয় বড় করে তুলে ধরেছিল। সরকারি ঔদাসীন্যতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল সিজেপি, কংগ্রেস ও বামপন্থীরাও। তৃতীয়ত, ছাত্রসমাজকে সজাগ করে তুলতে দেশের সর্বত্র সমাবেশ করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। আজ শনিবার যে সময় ফল প্রকাশিত হচ্ছে, তখন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ছাত্র সমাবেশ করছেন রাহুল। এই প্রতিকূল পরিবেশে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের সমর্থন লাভ বিজেপির পক্ষে যথেষ্টই উৎসাহজনক। তারা বলতে পারবে, যুবসমাজের সমর্থন এখনো তাদের প্রতি রয়েছে।

এই জয়ের ফলে দেখা গেল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণপন্থী ছাত্রসমাজের মধ্যে বিজেপির প্রভাব কমেনি। গতবারও ছাত্রসংগঠনের নির্বাচনে এবিভিপির প্রার্থীরা এই তিন পদের ক্ষমতা দখল করেছিলেন। এবারও দেখা গেল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিট কেলেঙ্কারি, দেশজুড়ে জেনজির বিক্ষোভ সত্ত্বেও রাজধানীর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সিংহভাগের সমর্থন রয়েছে শাসক বিজেপির প্রতি।

Read full story at source