১৩ বছর বয়সে সীমান্ত পাড়ি কিশোরীর, ফিরল এক বছরের সন্তান নিয়ে

· Prothom Alo

এক বছর আগে দালালের মাধ্যমে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিল বাংলাদেশি এক কিশোরী। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। ভারতে গিয়ে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় সে। সেখানে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর এক বছরের কারাবাস শেষে সন্তানসহ দেশে ফিরেছে ওই কিশোরী। তার মতোই ভারতে পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের শিকার আরও ১৫ কিশোর–কিশোরীসহ মোট ১৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে যশোর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরে। ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ‘রাষ্ট্রীয় ট্রাভেল পারমিট’–এর মাধ্যমে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। সবাইকে পুনর্বাসনের জন্য বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’–এর জিম্মায় হস্তান্তর করেছে।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার এ বি এম মুহিত হোসেন বলেন, ‘ভারত থেকে ফেরত আসা নারী ও শিশুদের বেনাপোলে আমাদের সংস্থার একটি নিজস্ব শেল্টার হোমে (নিরাপদ আশ্রয়) রাখা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুবিধাজনক সময়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

সাইফুল ইসলাম, ওসি, বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ফেরত আসা শিশুদের অনেকেরই মা–বাবা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার কারও কারও মা–বাবা আগে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরে এলেও সন্তানেরা ভারতের কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে আটকা পড়েছিল।

ইমিগ্রেশন পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা এক বছরের সন্তানসহ এক কিশোরীর জীবনকাহিনি অত্যন্ত করুণ। মাত্র ১৩ বছর বয়সে খুলনার নিজ এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। পরে সামাজিক লজ্জা ও লোকলজ্জার ভয়ে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই সে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে ভারতের একটি স্থানীয় এনজিওর সহায়তায় সন্তানসহ ওই কিশোরীকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার পর রাষ্ট্রীয় পারমিটের ভিত্তিতে আজ তাকে অন্যদের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ভারতের বন্দিদশা থেকে ফেরত আসা ১৮ জনের মধ্যে মাত্র দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। বাকি ১৬ জনই শিশু–কিশোর। তিনি বলেন, ফেরত আসা শিশুদের অনেকেরই মা–বাবা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার কারও কারও মা–বাবা আগে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরে এলেও সন্তানেরা ভারতের কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে আটকা পড়েছিল। আজ সমন্বিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Read full story at source