রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে স্পিডবোটের সঙ্গে বাল্কহেডের সংঘর্ষ, নিহত ২

· Prothom Alo

রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে স্পিডবোট নিয়ে ছুটেছিলেন এক তরুণ ও এক যুবক। পরে রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে তাঁদের আর নিজেদের বাড়ি ফেরা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণে একই হাসপাতালে তাঁদের ফিরতে হয় লাশ হয়ে।গতকাল সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

গতকাল রাত ১০টার দিকে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালিয়া নদীতে স্পিডবোট ও স্টিলের বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষে ওই দুজনের মৃত্যু হয়।

Visit mchezo.life for more information.

তাঁরা হলেন একই উপজেলার চাতলপাড় গ্রামের দয়াল ভূঁইয়া (২৬) ও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বরারচর গ্রামের সজিব মিয়া (২৩)।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে ফুলকারকান্দি এলাকার রোগী চান বানুকে (৫০) নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিকে রওনা হন স্পিডবোট চালক সজিব। রোগীকে সেখানে পৌঁছে দিয়ে স্পিডবোট নিয়ে আবার চাতলপাড়ের দিকে ফিরছিলেন। তখন এতে সজিব ও দয়ালসহ তিনজন ছিলেন। পথে ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালিয়া নদীতে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী স্টিলের বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙে পড়েছেন দয়ালের বাবা রায়হান ভূঁইয়া। তিনি আক্ষেপ করে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ইউরোপে পাঠাবেন। এ জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়ার কাজও সম্পন্ন হয়েছিল। সেই স্বপ্ন এখন শুধু স্মৃতি হয়ে রইল।

স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দয়াল ও সজিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে আনার আগেই দয়াল ও সজিবের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপর আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দয়াল

দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙে পড়েছেন দয়ালের বাবা রায়হান ভূঁইয়া। তিনি আক্ষেপ করে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ইউরোপে পাঠাবেন। এ জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়ার কাজও সম্পন্ন হয়েছিল। সেই স্বপ্ন এখন শুধু স্মৃতি হয়ে রইল।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Read full story at source