স্টেশনে এসে ‘ফোন ধরিস না কেন’ বলেই ট্রেনকর্মীদের থাপড়াতে থাকেন যুবদল নেতা

· Prothom Alo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফোন না ধরায় কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক ও বুকিং ক্লার্ককে চড়থাপ্পড়ের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এ ঘটনা ঘটে। এতে আড়াই ঘণ্টা টিকিট কাউন্টার বন্ধ রাখা হয়, দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

মারধরের শিকার ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলপথে চলাচলকারী তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে সজীব ও বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেন। অভিযুক্ত যুবদল নেতার নাম নাজমুল হুদা ওরফে সানি। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

Visit moryak.biz for more information.

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, কে বা কারা এসে তাঁদের (টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক ও ক্লার্ক) চড়থাপ্পড় মেরে চলে যান। পরে তিতাস কমিউটারের লোকজন কাউন্টার বন্ধ করে ফেলেন। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঢাকায় কথা বলে কাউন্টার খুলে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। ভুক্তভোগীরা এখনো কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত তিতাস কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে পাঁচটায় জেলার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে যাত্রী নিয়ে কমিউটার ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি আবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বিকেল ছয়টায় ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উদ্দেশে ট্রেনটি আবার ছেড়ে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত ভাড়া ৭৫ টাকা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিতাস কমিউটার ট্রেন সরকারি হলেও চলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। এই ট্রেনের টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য কার্যক্রম চলে ইজারার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম–আহ্বায়ক নাজমুল হুদা ওরফে সানি

স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার দিকে তিতাস কমিউটার ট্রেনের বুকিং ক্লার্ক কাউসার স্টাফ কক্ষ থেকে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের উদ্দেশে রওনা হন। যাওয়ার পথে স্টেশন এলাকায় অজ্ঞাত কয়েকজন কালোবাজারি টিকিটের জন্য তাঁকে মারধর ও হেনস্তা করেন। পরে তিতাস কমিউটার ট্রেন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কিছুক্ষণ কাউন্টার বন্ধ করে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যুবদল নেতা নাজমুল হুদা স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ ও বুকিং ক্লার্ক কাউসারকে চড়থাপ্পড় মারেন।

তিতাস কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ১১টার দিকে বুকিং ক্লার্ক কাউসারকে ফোন করে দুটি টিকিট চান যুবদল নেতা সানি (নাজমুল হুদা)। টিকিটের জন্য তাঁর দুজন লোক পাঠাবেন বলে জানান। কিছুক্ষণের জন্য কাউন্টার বন্ধ আছে, এখন টিকিট দেওয়া অসম্ভব; তাই লোককে পরে পাঠাতে বলে বুকিং ক্লার্ক ফোন রেখে দেন।

ঘটনার বর্ণনায় মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্টেশনে এসে কাউন্টার থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে কাউসারকে চড়থাপ্পড় মারেন সানি ভাই। এগিয়ে গিয়ে আমি এর কারণ জানতে চাই। তিনি তখন আমাকেও চড় মারেন আর বলতে থাকেন, “ফোন ধরিস না কেন।” পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। পরে নিরাপত্তাহীনতায় আমরা দুইটা পর্যন্ত কাউন্টার বন্ধ রাখি। সানি ভাই প্রায়ই লোক পাঠিয়ে টিকিট নেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের এজেন্টশিপ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু ট্রেনের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাতে সাড়া দিচ্ছে না।’

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা নামজুল হুদা। প্রথম আলোর কাছে তিনি দাবি করেন, কমিউটার ট্রেনের লোকজনকে অনেক মাস ধরে বলা হচ্ছে, বাইরে যেন টিকিন না বিক্রি করে। তারা ৭৫ টাকার টিকিট বাইরে বেশি দামে কালোবাজারিসহ নিজের লোকের কাছে ১৫০ টাকা করে বিক্রি করে। বাইরে সেই টিকিট ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। কালোবাজারের লোকদের কাছে টিকিট বিক্রির বিষয়ে চাপ দেওয়ায় আজ কাউন্টার বন্ধ করে দেয়।

যুবদল নেতার অভিযোগ প্রসঙ্গে কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন কেউ যদি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনে নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করে, এতে আমাদের কী করার আছে। আমরা বেশি দামে বাইরে টিকিট বিক্রি করি না, অভিযোগ সত্য না। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করেছি।’

Read full story at source