আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি না
· Prothom Alo
গ্যাংস্টার, ফিরব বলে, তাঁহার খোঁজে অচিনপুরে, অভিমান, আস্কারা—একের পর এক জনপ্রিয় নাটক দিয়ে তরুণ দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন নির্জন নাহুয়েল। তাঁর এক দশকের পথচলার গল্প শোনাচ্ছেন মনজুরুল আলম
মাসে খুব বেশি দিন শুটিং করেন না নির্জন নাহুয়েল। ১২ থেকে ১৬ দিন ক্যামেরার সামনে আসেন। প্রতিটি নাটকের জন্য রাখেন তিন থেকে চার দিন। ফলে হাতে অনেক অবসর থাকার কথা। কিন্তু তারপরও নির্জন নাহুয়েলকে ফোনে পাওয়া একটু কঠিন। কারণ, শুটিংয়ের বাইরের প্রায় পুরো সময়টাই চিত্রনাট্য লেখায় চলে যায়। নির্জন বলেন, ‘আমার প্রায় ৯০ শতাংশ নাটকের চিত্রনাট্যই নিজের লেখা। শুটিংয়ের বাইরে পুরো সময় আমি চিত্রনাট্য লিখি। এখানে অনেক সময় চলে যায়।’
Visit biznow.biz for more information.
নির্জন নাহুয়েলশুধু অভিনয় বা লেখালেখি নয়, পরিচালনার অভিজ্ঞতাও নির্জনের রয়েছে। আসলে নির্মাণ দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা। প্রায় এক দশক আগে, ২০১৬ সালে শুরু হয় এই যাত্রা। তখন বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতেন। সেসব কনটেন্ট তৈরির প্রায় সব দায়িত্ব একাই সামলাতেন। এসব কাজের মধ্য দিয়েই পরিচালনা, সম্পাদনা ও কালারের মতো বিষয়গুলো শেখার চেষ্টা করেছেন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।
পরিচালক থেকে অভিনেতা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে নির্জন বলেন, ‘আমার পছন্দের কাজ ছিল সম্পাদনা। সম্পাদক হতে চেয়েছিলাম। সেখান থেকে পরিচালক হয়ে গেলাম, পরে অভিনয়ে নাম লেখালাম।’ ২০২২ সাল থেকে নিয়মিত অভিনয় করছেন, ‘ভবিষ্যতে শিল্পের অন্য কোনো দিক ভালো লাগলে হয়তো সেদিকে চলে যাব।’
নির্জন নাহুয়েলভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করেন না নির্জন। তাঁর উপলব্ধি, ‘আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি না। পরিকল্পনা করে অনেক কিছুই করতে চেয়েছি, কিন্তু সেগুলো থেকে ভালো কিছু হয়নি। আবার পরিকল্পনা না করেও অনেক ভালো কিছু পেয়েছি। এ কারণে এখন যেটা ভালো লাগছে, সেটাই করব।’
নির্জনের বেশির ভাগ নাটকই অল্প সময়ের মধ্যে ৫০ লাখ ভিউয়ের মাইলফলক ছুঁয়েছে। অভিমান ও আসকারা নাটকের ভিউ তো তিন কোটির বেশি। এই সাফল্যের পেছনে দর্শকের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় কারণ মনে করেন নির্জন, ‘একশ্রেণির দর্শক নিয়মিত আমার নাটক দেখেন। এটাও শুনি, অনেকে আমার নতুন নাটকের জন্য অপেক্ষা করেন।’
ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে কাজের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও মানের সঙ্গে আপস করতে চান না নির্জন, ‘চাইলে বেশি কাজ করতে পারি, বেশি কাজ করতেও চাই। কিন্তু যে কাজটি করব, সেটি ভালোভাবে ও সময় নিয়ে করতে চাই। আমার অভিনীত নাটকের গল্প, চরিত্র, ফ্রেমিং ও উপস্থাপনা দেখলেই বোঝা যাবে, কাজ নিয়ে আমি কতটা সিরিয়াস।’
বিরতির পর যেভাবে ফিরছেন অপূর্ব-নীহা জুটিনির্জন নাহুয়েলনির্জনের নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য অ্যাকশন। নির্জন বলেন, ‘কনটেন্ট তৈরি করার সময় থেকেই ভাবতাম, নাটকের মধ্যেই কীভাবে সিনেম্যাটিক অনুভূতি দেওয়া যায়। সেখানে আবেগ থাকবে, অ্যাকশনও থাকবে। সব মিলিয়ে দর্শক বাণিজ্যিক বিনোদনের স্বাদ পাবেন। হয়তো এই জায়গায় কিছুটা সফল হয়েছি বলেই দর্শক আমার নাটক দেখেন।’
জুটিপ্রথা বিষয়ে নির্জন বলেন, ‘জুটি হিসেবে দর্শক পছন্দ করায় অনেক পরিচালক ঘুরেফিরে একই শিল্পীদের নেন। কখনো তাঁরা আমার পরামর্শ চান, তবে বেশির ভাগ সময় সিদ্ধান্তটা তাঁদের ওপরই ছেড়ে দিই।’
শোবিজ দুনিয়ায় এক দশকের যাত্রা বিষয়ে নির্জনের মূল্যায়ন, ‘অপ্রাপ্তি খুব একটা নেই। সবাই ভালোবাসেন। একসময় পরিবার হয়তো বলত, এসব বন্ধ করে আগে স্নাতক শেষ করো। এখন তাঁরাও আমাকে সমর্থন করেন। বাইরে বের হলে দর্শকেরা বলেন, “আপনার সব কাজ দেখি, আপনার অভিনয় ও সংলাপ ভালো লাগে।” এগুলোই তো অর্জন। দর্শকের এই ভালোবাসা আমাকে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।’