হেদায়েতের পথে অবিচল থাকার ৩ উপায়
· Prothom Alo

হেদায়েত আল্লাহ–তাআলার এক বিশেষ দান, যা অর্জনের জন্য মানুষকে আত্মিক ও বাস্তব প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। যে অন্তর সততা, খোদাভীতি ও বিনয় নিয়ে কোরআনের মুখোমুখি হয়, শুধু সে অন্তরই কোরআনের আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারে।
Visit extonnews.click for more information.
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে মানবকুল, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরের রোগব্যাধির নিরাময়, আর মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫৭)
হেদায়েত লাভের সহায়ক বিষয়
কোরআনের আলোয় জীবন আলোকিত করতে হলে হৃদয়ের জমিনকে উপযুক্ত ও উর্বর করতে হবে। হেদায়েতের এই মহাসমুদ্র থেকে শুধু তারাই উপকৃত হতে পারে, যাদের নিরহংকার অন্তর আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে ব্যাকুল থাকে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার আছে অনুভাবুক অন্তর কিংবা যে শ্রবণ করে পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে।’ (সুরা ক্বাফ, আয়াত: ৩৭)
হেদায়েত লাভের সহায়ক অনেক বিষয় রয়েছে।
১. খোদাভীতি: কোরআনের হেদায়েত লাভের প্রধান ও প্রথম শর্ত হলো তাকওয়া বা অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত রাখা। তাকওয়া মানুষের হেদায়েত গ্রহণের মানসিক সক্ষমতা তৈরি করে। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তার জন্য হেদায়েতের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যায়।
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২)
সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৯আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।হেদায়েত পাওয়ার ৩ আলামত২. কোরআন অনুধাবনের চেষ্টা: শুধু তোতা পাখির মতো পাঠ করলে কোরআনের বাণী হৃদয়কে স্পর্শ করে না। কোরআনের এক-একটি আয়াত নিয়ে গভীর অনুধাবন মানুষের অন্তরকে সত্যের সামনে অবনত হতে বাধ্য করে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তবে কি তারা কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?’ (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত: ২৪)
৩. সত্য গ্রহণের ব্যাকুলতা: সত্য অনুসন্ধানে যে ব্যক্তি বিনয়ী হয়, আল্লাহ নিজ দায়িত্বে তাকে পথ দেখান। এ বিষয়ে আল্লাহ–তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, ‘আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৯)
হেদায়েতের ওপর অবিচল থাকার উপায়
হেদায়েত লাভ করার পর তার ওপর অবিচল থাকা বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। সহজ ৩টি করণীয় পালন করতে পারলে তার ওপর অবিচল থাকার আশা করা যায়।
১. আল্লাহর নির্দেশ মেনে আমল করা: কোরআনে বর্ণিত আল্লাহর নির্দেশাবলি বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা হেদায়েতের ওপর থাকার অন্যতম উপায়। এরূপ করলে আল্লাহ হেদায়েত বাড়িয়ে দেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর যারা সৎপথে চলে, আল্লাহ তাদের হেদায়েত আরও বৃদ্ধি করেন এবং তাদের দান করেন তাকওয়া।’ (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত: ১৭)
সহিহ বুখারি, হাদিস : ২১০১সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ মেশক বিক্রেতা ও কর্মকারের হাপরের ন্যায়। আতর বিক্রেতার থেকে তুমি হয়আতর কিনবে, না হয় তার সুঘ্রাণ পাবে। আর কর্মকারের হাপর হয় তোমার ঘর বা তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তার দুর্গন্ধ পাবে।আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীজির প্রতি বিশেষ হেদায়েত২. একনিষ্ঠ চিত্তে প্রার্থনা করা: হেদায়েত লাভ করা যত সহজ তার ওপর অবিচল থাকা ততই কঠিন। হেদায়েত পাওয়ার জন্য যেমন আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা জরুরি, তেমনি হেদায়েতের পথে অবিচল রাখার জন্যও বিনম্র চিত্তে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা বান্দাদের এই শিক্ষাই দিয়েছেন। বলা হয়েছে, আমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন। (সুরা ফাতিহা, আয়াত: ৬)
কোরআনে ভাষায় হেদায়াতের ওপর অবিচল থাকার জন্য মুমিনদের দোয়া, ‘হে আমাদের প্রতিপালক সরল পথ দেখানোর পর আপনি আমাদের অন্তরকে সত্যচ্যুত করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের একান্ত অনুগ্রহ দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।’ (সুরা আলে–ইমরান, আয়াত: ৮)
৩. নেককার মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করা: মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ মেশক বিক্রেতা ও কর্মকারের হাপরের ন্যায়। আতর বিক্রেতার থেকে তুমি হয়আতর কিনবে, না হয় তার সুঘ্রাণ পাবে। আর কর্মকারের হাপর হয় তোমার ঘর বা তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তার দুর্গন্ধ পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২১০১)
মাহমুদ হাসান ফাহিম : শিক্ষক, বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স, টঙ্গী