কসমেটিক সার্জারিতে কাজ হবে না, পাকিস্তানকে সমস্যার মূলে যেতে বললেন মিসবাহ
· Prothom Alo

সাত খেলোয়াড়, দুই কোচ—ইংল্যান্ড সিরিজের মাঝপথে একসঙ্গে নয়জনকে দল থেকে সরিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমন পাইকারি পরিবর্তন করা হয়েছে এমন সময়ে, যখন সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে খুব বেশি কিছু পাওয়ার নেই, প্রথম দুই টেস্টেই সিরিজ হেরে বসেছে পাকিস্তান।
এভাবে বারবার পরিবর্তন করে পাকিস্তান ক্রিকেটের সমস্যার সমাধান হবে না। বরং যা কিছু ঠিকঠাক আছে, সেটিও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আছে বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। দুনিয়া নিউজের পডকাস্টে পাকিস্তান ক্রিকেটের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিসবাহ বলেছেন, চাপের মুখে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘কসমেটিক সার্জারি’ করার কোনো অর্থ নেই।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
লর্ডসে পাকিস্তান দলের ১৯৪ রানে হারের সময় মিসবাহ ছিলেন দলের নির্বাচক। এরপর বোর্ডের নেওয়া বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। পাকিস্তানের আসলে কী করণীয়, এমন প্রশ্নে মিসবাহ বলেন, ‘প্রথমত, আপনাকে দল হিসেবে কাজ করতে হবে, আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। সিদ্ধান্তে ধারাবাহিক থাকতে হবে। আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। বিষয়গুলো ঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। শুধু কসমেটিক সার্জারির জন্য পরিবর্তন আনা যাবে না। কসমেটিক সার্জারিতে কোনো লাভ নেই।’
২০১৭ সালে খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় বলা মিসবাহ পরবর্তী সময়ে দলের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। চাপে পরিকল্পনা না বদলে ভারতের উদাহরণ টেনেছেন তিনি, ‘সারা বিশ্বেই কিন্তু এমনটা (ভালো খেলা, খারাপ খেলা) হয়। কিন্তু তারা মূলত নিজেদের বিশ্লেষণ করে, এরপর সিদ্ধান্ত নেয়-রোহিত শর্মা খেলবে কি না, বিরাট কোহলি খেলবে কি না। কে খেলবে, কত দিন খেলবে, কে খেলতে চায় না। এসব বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা ‘বিশৃঙ্খল অবস্থায় অভ্যস্ত’, বললেন হেসনতাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলও খারাপ সময় এলে সমর্থক, গণমাধ্যম কিংবা সমালোচকদের চাপের কাছে পরিকল্পনা বদলে ফেলে না। পাকিস্তানকেও সেই ধৈর্য দেখাতে হবে, ‘পারফরম্যান্স ওঠানামা করতেই পারে। যতই শব্দ হোক, যতই সমালোচনা হোক, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও তাদের পরিকল্পনা দেখে। আমাদেরও সেটাই করা উচিত।’
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাকেই পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে মিসবাহর কথা, ‘আমরা যখন প্রতিক্রিয়াশীল সিদ্ধান্ত নিই, অনেক সময় এমন হয় যে যা ভাঙা ছিল না, সেটাও ভেঙে ফেলি। এরপর সেটার ক্ষতি আমাদেরই বহন করতে হয়।’
হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে ও লর্ডসে ১৯৪ রানে হেরে যাওয়া পাকিস্তান সিরিজের শেষ টেস্ট খেলতে নামবে ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে।
পিসিবিই পাকিস্তানকে হাসির পাত্র বানিয়েছে: নাসের হুসেইন