‘আমাকে ১০ জন চেয়ারম্যান উপহার দেন, আপনাদের উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দেব’
· Prothom Alo

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর আপনাদের সেবা করবার জন্য আমাকে আস্থায় নিয়ে ভোট দিয়েছেন। আমি যাতে আপনাদের সেবা করতে পারি, সে জন্য ১০টি ইউনিয়নে আপনারা যদি আমাকে ১০ জন চেয়ারম্যান উপহার দেন, আমি আপনাদের ইনশা আল্লাহ উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দেব।’
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সখীপুর উপজেলা ডাকবাংলো চত্বরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আযম খান এ কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে সখীপুর উপজেলা বিএনপি। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার।
Visit biznow.biz for more information.
সভায় আহমেদ আযম খান বলেন, ‘সামনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আসছে। এই নির্বাচন হবে জনগণের ভোটের নির্বাচন। আমরা গত তিনটা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দেখেছি। আওয়ামী লীগ নমিনেশন দেয় আর কেন্দ্রে গিয়ে সিল মেরে পাস করিয়ে আনে। আর কোনো যোগ্য প্রার্থীর সুযোগ থাকে না। এবার নির্বাচন হবে ডিসেম্বর, জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এবার কোনো সিল হবে না, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা।’
সখীপুর ও বাসাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আমার দল বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেবে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল অথবা নিরপেক্ষ ব্যক্তি সেই নির্বাচনে অংশ নেবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে আপনারা প্রিয় সখীপুরবাসী ভোট দেবেন। আমি বলব, আমার দলের ভেতর থেকে যারা মেধাবী, যাঁরা শিক্ষিত, যাঁরা জনপ্রিয়, তাঁদের মধ্য থেকে আমরা আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করবার জন্য চেয়ারম্যান নমিনেশন দেব।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দলের ঐক্য বিনষ্ট করা যাবে না। নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। আমরা দেখে শুনে বুঝে মনোনয়ন দেব। সেখানে কেউ দলের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না। সরকার তখনই শক্তিশালী, যখন দল ঐক্যবদ্ধ। কেউই অধৈর্য হবেন না। কেউই দলের বাইরে চিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকলে সকলের সামনে সুযোগ আসবে। কিন্তু আপনারা যদি অস্থির হয়ে যান, অধৈর্য হয়ে যান, দল দুর্বল হয়ে যাবে, সরকার দুর্বল হবে।’
সখীপুরবাসীর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে গেলাম। আমার হাতকে যদি আপনারা শক্তিশালী করেন, তাহলে আমি উন্নয়নকে শক্তিশালী করতে পারব। যদি দেখা গেল একটা ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান নেই, আমি উন্নয়ন দিলাম আর চেয়ারম্যান ওটা ভিন্ন খাতে রাতের আঁধারে অন্য কিছু করে ফেলল। বঞ্চিত ওই ইউনিয়নবাসী হবে। আমি চাই, আমার ১০টি ইউনিয়ন এবং এই পৌরবাসী আগামী পাঁচ বছর বঞ্চিত না হোক।’
সখীপুরের আটিয়া বন আইন বাতিলের বিষয়েও কথা বলেন আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, ‘আমরা আটিয়া বন আইনের কারণে নির্যাতিত এবং পর্যুদস্ত। আমি ইতিমধ্যে পার্লামেন্টে দুবার কথা বলেছি, বনমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি।’ স্বৈরশাসক এরশাদ সখীপুরবাসীকে নির্যাতন করার জন্য ১৯৮২ সালে এই আইন করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যত দূর সম্ভব এই আইন বাতিল করে সখীপুরবাসীকে আমি মুক্তি দেব। আমি সব সময় আপনাদের পাশে আছি। বিএনপি জনগণের দল, সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।’