সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে সাত শ্রেণির কোম্পানি
· Prothom Alo

শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির দুয়ার খুলছে। এখন থেকে সরকারি, বেসরকারি, বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি চাইলেই প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর বদলে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এ জন্য নতুন খসড়া বিধিমালা অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আজ মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কমিশন সভায় এ খসড়া বিধিমালা অনুমোদন করা হয়েছে। সভা শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসইসি।
Visit sportnewz.click for more information.
বিএসইসি জানিয়েছে, খসড়া বিধিমালাটি খুব শিগগির জনমত যাচাইয়ে দেওয়া হবে। এ জন্য এটি বিএসইসির ওয়েবসাইট ও পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে। খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে চাইলে ওই কোম্পানির মালিকানা থাকায় ব্যক্তি বা শেয়ারধারীদের ন্যূনতম ১০ থেকে ২০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। বিএসইসি বলছে, বিধিমালাটি চূড়ান্ত হলে আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে কোম্পানি তালিকাভুক্তির সুযোগ তৈরি হবে।
সরাসরি তালিকাভুক্তিসংশ্লিষ্ট খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারের শতভাগ মালিকানাধীন বা সংখ্যাগরিষ্ট মালিকানাধীন কোম্পানি এবং যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারের মালিকানায় থাকবে, সেসব কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে। সরকারি কোম্পানির বাইরে সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ট বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিও সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এ ছাড়া সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে ৩০০ কোটি টাকা মূলধনের টেলিকম খাত ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি এবং ৩ বছরের বেশি কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ বা লেনদেন আছে এমন কোম্পানিও এই বিধিমালার আওতায় আইপিওর বাইরে সরাসরি তালিকাভুক্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। সেই সঙ্গে বিএসইসির নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপজিটরি ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি নির্ধারিত শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে শেয়ারবাজারে।
বিএসইসি–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পুঁজিবাজারে দেশি-বিদেশি ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে সরকারি,বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানাধীন সব শ্রেণির কোম্পানির জন্য এ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত দিন শুধু সরকারি কোম্পানি ছাড়া বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানির ক্ষেত্রে এ সুযোগ ছিল না। স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি আইনে এ পদ্ধতিতে সরকারি, বেসরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিধান থাকলেও তা বিএসইসির নির্দেশনার কারণে বেসরকারি খাতের কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না। এখন এ সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এ জন্য বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্র জানায়, স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি আইনে সব ধরনের কোম্পানির জন্য এ সুযোগ থাকার পরও নতুন বিধিমালা করা হচ্ছে মূলত জনমত গ্রহণের স্বার্থে। এ ধরনের বড় নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিএসইসি–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিতে আগ্রহী। এ জন্য নতুন করে খসড়া বিধিমালা করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, সাত শ্রেণির কোম্পানি এ সুবিধা পাবে।
সরাসরি তালিকাভুক্তি কী
সরাসরি তালিকাভুক্তি হচ্ছে এমন একটি বিধান যেখানে কোম্পানিকে আইপিও প্রক্রিয়ায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হয় না। তালিকাভুক্তির আগে শেয়ারের মালিকানা যাদের হাতে থাকে, তারা তাদের নিজস্ব শেয়ারের সবটুকু বা নির্দিষ্ট পরিমাণ বিএসইসির অনুমোদনসাপেক্ষে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে আইপিওর মতো শেয়ারের বিক্রয়মূল্য ফেসভ্যালুর মাধ্যমে নির্ধারিত থাকে না। কোম্পানির সম্পদ মূল্যায়নের ভিত্তিতে একটি রেফারেন্স বা ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়। সেটির ওপর ভিত্তি করে বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে শেয়ারের দাম নির্ধারিত হয়। সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে শেয়ার বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা যুক্ত হয় শেয়ার বিক্রেতা কোম্পানির মালিকদের হিসাবে। এ অর্থ সরাসরি কোম্পানির হিসাবে যুক্ত হয় না। সরাসরি তালিকাভুক্তিতে সময় লাগে কম। আবার শেয়ারের ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ভালো কোম্পানিগুলোর কাছে এই পদ্ধতিটি বেশ আকর্ষণীয়।