গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সাবেক মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নামঞ্জুর

· Prothom Alo

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার মামলায় সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর পুলিশের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। সাদিকের আইনজীবী আল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী এইচ এম আল আমিন দাবি করেন, ‘আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই। তাই তাঁর কারামুক্তিতে বাধা নেই। আশা করছি, খুব শিগগির তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।’

Visit freshyourfeel.org for more information.

গাড়ি পোড়ানো এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জ্যোতির্ময় মন্ডল বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় সাদিকুলকে গ্রেপ্তার দেখাতে ৭ আগস্ট আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত আসামির উপস্থিতিতে আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেন গত সোমবার। সেদিন মেজর সাদিকুলকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিতে সাদিকুলের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন প্রশ্ন তোলেন, ‘ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ান?’ পরে আদালত ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. চাঁদ আলীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চান। আজ তাঁরা আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন।

পুলিশের লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়, সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশের কেবি কনভেনশন হলে গোপন সভা করেন সাদিকুল। সেখানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং দল দুটির কার্যক্রম গতিশীল করতে ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় গত বছরের ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়, যাতে তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় সাদিকুলকে আসামি করা হয়।

ব্যাখ্যায় আরও দাবি করা হয়, সাদিকুল ‘প্রধান প্রশিক্ষক’ ও ‘কানেক্টর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। রূপগঞ্জের সি-সেল রিসোর্ট, কাঁটাবনের একটি রেস্তোরাঁ, মিরপুর ডিওএইচএস, উত্তরা ও প্রিয়াংকা সিটিতে নিজ ফ্ল্যাটে স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনসহ একাধিক গোপন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেন তিনি। সেখান থেকেই পলাতক নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীকালে সাদিকুলের দেওয়া পূর্বপরিকল্পনা, অর্থায়ন ও নির্দেশনার অংশ হিসেবে মামলার ঘটনার দিন বাদীর গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যা পর্যালোচনা শেষে আদালত সাদিককে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নামঞ্জুর করেন।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-আ.লীগ নেতা–কর্মীদের ‘গোপন বৈঠক’ ঘিরে গ্রেপ্তার ২২, সেনা হেফাজতে এক মেজর

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাতে ভাটারা থানার বিটুমিন গেটের সামনে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তির প্রাইভেট কারে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। মনির হোসেন পরে জানতে পারেন, আওয়ামী লীগের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাড়িটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর সাদিকুলকে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড দিলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ভাটারা থানার অপর একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এবার গুলশান থানার মামলায় মেজর সাদিকুলের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো

Read full story at source