ইঁদুরের মতো ছোট ডাইনোসর কখনো ছিল না কেন
· Prothom Alo

কোনো ডাইনোসরের কথা ভাবো তো। কল্পনাতে কি বিশাল কোনো টি-রেক্স বা দৈত্যাকৃতির ডাইনোসের কথা মনে এল? নাকি অন্য কোনো ছোট প্রাণীর কথা?
আদিমকালের এই ডাইনোসরগুলো আকারে অনেক বড় হতো। তবে পাখি বাদ দিলে এদের খুব একটা ছোট চেহারায় দেখা যেত না। যেমন ইঁদুরের মতো ছোট আকারের ডাইনোসরের কোনো জীবাশ্ম প্রায় পাওয়া যায় না বললেই চলে।
Visit newsbetting.club for more information.
কারণটা ঠিক কী, তা জানতে একদল গবেষক কাজ শুরু করেন। তাঁরা প্রাণীদের দেহ কেন খুব বড় বা খুব ছোট হয়, সেই বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। অবশেষে বিজ্ঞানীরা জানতে পেড়েছেন, কেন ছোট ডাইনোসর এত কম ছিল। গবেষণাটি ‘ইভোলিউশন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক রজার বেনসন বলেন, বিশাল আকারের ডাইনোসর দেখতে সবাই পছন্দ করে। তবে আমরা ভাবনাটা একটু ঘুরিয়ে এর উল্টো দিকটা নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই। ছোট ডাইনোসর কেন দেখা যেত না—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাটাও কিন্তু বিশাল ডাইনোসরদের জানার মতোই রোমাঞ্চকর।
ডাইনোসর দেখতে কেমন ছিল, বিজ্ঞানীরা কীভাবে জানলেনট্রায়াসিক যুগে ডাইনোসরদের জন্ম থেকে শুরু করে ৬ দশমিক ৬ কোটি বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে নিশ্চিহ্ন হওয়া পর্যন্ত এরা পুরো পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে। এরা প্রায় ১৮ কোটি বছর টিকে ছিল। আর মানুষেরা মাত্র ৩ লাখ বছর ধরে আছে।
শিল্পীর কল্পনায় ডাইনোসরদীর্ঘ সময়ে টিকে থাকলেও, পাখি ছাড়া অন্য প্রজাতির সবচেয়ে ছোট ডাইনোসরটার ওজনও কিন্তু ৪০০ গ্রামের নিচে ছিল না। এটা প্রায় একটি ফুটবল বলের ওজনের সমান। শুনতে হয়তো ছোট মনে হচ্ছে, কিন্তু আজকের দিনের সবচেয়ে ছোট পাখি, ইঁদুর বা টিকটিকির তুলনায় সেই ডাইনোসরটি কিন্তু ২০০ থেকে ৩ হাজার গুণ বড় ছিল।
গবেষক রজার বেনসন বলেন, আজকের দুনিয়ার বেশির ভাগ প্রাণীই আকারে বেশ ছোট। আমাদের চেয়ে তো ছোটই, এমনকি সেকালের সবচেয়ে ছোট ডাইনোসরটার চেয়েও অনেক ছোট।
অনেকে ভাবে, হয়তো ছোট ডাইনোসরদের হাড়গোড় খুব পাতলা ছিল বলে মাটির নিচে টিকে থাকেনি। তাই আমরা এদের জীবাশ্ম খুঁজে পাইনি। তবে বিজ্ঞানী রজার বেনসন ও স্টেফানি লেচকি এই কথা একদমই মানেন না। কারণ, ডাইনোসরদের যুগের ছোট ছোট ইঁদুর, টিকটিকি আর ব্যাঙের জীবাশ্ম যদি আজ পাওয়া যেতে পারে, তবে ছোট ডাইনোসরের হাড় কেন পাওয়া যাবে না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুলতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রাণীর শরীরের গঠন আর আকৃতি পরীক্ষা করে দেখেন। এরপর একটি প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য কতটা খাবার বা শক্তি খরচ করে, তার ওপর ভিত্তি করে একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেন।
পৃথিবীতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ কত ডাইনোসর ছিলমডেলটি পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী ও কচ্ছপের শরীরের আকারের হিসাব সঠিকভাবে মেলাতে পেরেছে। তবে টিকটিকি, সাপ, কুমির ও উড়তে পারে না এমন পাখির ক্ষেত্রে প্রকৃতির বাস্তব আকারের সঙ্গে হিসাবের কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে।
সবচেয়ে দ্রুতগামী ডাইনোসর কম্পসোগনাথাসগবেষক দলটি মনে করেন, তৈরি করা গাণিতিক মডেলটি কেবল তখনই কাজ করে, যখন কোনো প্রাণীর শরীরের ভেতরের কারণগুলো এদের আকার ঠিক করে দেয়। তবে টিকটিকি ও ডাইনোসরের ক্ষেত্রে হিসাবটি না মেলার কারণ হলো পরিবেশের কিছু বাইরের প্রভাব। থাকার জায়গার অভাব কিংবা অন্য প্রাণীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, যা এদের একটা নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে বেশি ছোট বা বড় হতে দেয়নি।
তবে নতুন এই গবেষণা বলছে, সাধারণত মনে করি, যেকোনো লড়াইয়ে বড় বা শক্তিশালী প্রাণীই সব সময় জেতে। কিন্তু ছোট আকারে বেঁচে থাকার লড়াইটা পুরোপুরি ভিন্ন। মাটির গর্তে লুকিয়ে থাকা, ঝোপঝাড়ে চলাফেরা করা কিংবা অল্প খাবার খুঁজে বেঁচে থাকার দৌড়ে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ছিল দারুণ ওস্তাদ।
কুমিরের ক্ষেত্রে হিসাব না মেলার কারণ হলো, বর্তমানে কুমিরের প্রজাতির সংখ্যা অনেক কম। তাই অন্যান্য প্রাণীদের মতো এদের মধ্যে আকারের নানা ধরন দেখা যায় না।
গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসর বিলুপ্ত হলেও যেভাবে অন্য প্রাণীরা রক্ষা পেয়েছিলগবেষকেরা জানান, বর্তমানে বেঁচে থাকা কুমিরগুলো এদের আগের হারিয়ে যাওয়া জাতের তুলনায় আকারে বেশ বড়। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাচীন কুমিরদের অনেক ধরনের আকার ছিল, যার খুব সামান্য ধরন আজকের কুমিরদের মধ্যে দেখা যায়।
গবেষণার সহলেখক স্টেফানি লেচকি বলেন, সম্ভবত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীরা লড়াইয়ে ছোট ডাইনোসরদের পেছনে ফেলে দিয়েছিল, যার কারণে ডাইনোসররা অত ছোট হতে পারেনি। একইভাবে, বড় বড় ডাইনোসরগুলো লড়াইয়ে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের হারিয়ে দেওয়াতেই স্তন্যপায়ীরা বড় শরীর গড়ার সুযোগ পায়নি।
তবে যে প্রাণীরা ছোট ও বড় দুই ধরনের শরীর নিয়ে টিকে থাকতে পেরেছিল, এরা হলো পাখি। বিশেষ করে উড়ার ক্ষমতার কারণেই পাখিরা পরিবেশের সব সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক ছোট আকারের শরীর নিয়ে সহজেই টিকে থাকতে পেরেছিল।
সূত্র: আইএফএল সায়েন্সডাইনোসর যুগের যে মাছ এখনো বাংলাদেশে আছে