শিল্প বাঁচাতে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত দরকার

· Prothom Alo

চট্টগ্রামের শিল্পকারখানাগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গ্যাসের সংকটে অনেক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কোনো কোনোটি বন্ধও রয়েছে। এর প্রভাব শুধু শিল্পমালিকদের ওপর নয়, কর্মসংস্থান, সরবরাহব্যবস্থা, বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও পড়ছে।

Visit afsport.lat for more information.

আমি নিজেও এই সংকটের ভুক্তভোগী। আমার সয়াবিন বীজ ভাঙানোর কারখানা স্বাভাবিকভাবে চলছে না। প্রিমিয়ার সিমেন্ট ও ন্যাশনাল সিমেন্টের কারখানাতেও গ্যাসের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকার শিল্পকারখানাগুলোতে একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। একটি কারখানা বন্ধ থাকা মানে শুধু উৎপাদন বন্ধ থাকা নয়। এর সঙ্গে শ্রমিকের কর্মসংস্থান, কাঁচামাল সরবরাহ, পরিবহন ও ব্যাংকঋণ পরিশোধের বিষয়ও জড়িত।

চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানকার শিল্পকারখানায় গ্যাসের সংকট হলে এর প্রভাব শুধু চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ থাকে না। ভোজ্যতেল, সিমেন্ট, কাচ কারখানা, ইস্পাতসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন কমলে পুরো সরবরাহব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়ে। শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়ে বাজার ও ভোক্তার ওপর। গ্যাসের সংকটে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পে। কারণ, সেখানে বয়লার চালাতে হয়।

এখন প্রশ্ন হলো এই সংকট কেন তৈরি হলো? প্রথমত, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননে যথেষ্ট গুরুত্ব দিইনি। ১৯৯৭-৯৮ সালের পর নতুন কূপ খননে ধারাবাহিক উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে দেশি গ্যাসের উৎপাদন না বাড়িয়ে আমরা ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছি। দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও কিছু সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে। ওই সময় তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। সেটি বাতিল না হলে আজ সেই গ্যাস উৎপাদনে ব্যবহার হতো। তাতে বর্তমান সংকটের একটি অংশ সামাল দেওয়া যেত। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির চুক্তিও বাতিল করেছেন। একই সময়ে গ্যাস আমদানির সুযোগও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দেশি গ্যাসের উৎপাদন কমছে, এই অবস্থায় এলএনজি আমদানির সক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে না পারলে শিল্পের জ্বালানিসংকট আরও বাড়বে।

এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কয়েকটি বিষয়ে কাজ করতে হবে। প্রথমত, সারা দেশে যেখানে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে হবে। শিল্পকারখানাকে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি কয়লাকেও বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, এলএনজি অবকাঠামোর সক্ষমতা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। শিল্প সচল রাখতে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

শিল্পকারখানা আজ চালু, কাল বন্ধ; এভাবে কোনো ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই গ্যাসের সংকটকে শুধু জ্বালানি খাতের সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। এটি জাতীয় অর্থনীতির সমস্যা। তাই শিল্প সচল রাখতে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ ধরে রাখতে এখনই কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

মোহাম্মদ আমিরুল হক, সভাপতি, চট্টগ্রাম চেম্বার

Read full story at source