প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। প্রশ্নগুলো বর্ণনামূলক, উত্তরও বড়

· Prothom Alo

প্রাথমিক বিজ্ঞান: বর্ণনামূলক প্রশ্ন

অধ্যায়–২

Visit likesport.biz for more information.

প্রশ্ন: খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ কীভাবে পরিবেশের জড় উপাদানের ওপর নির্ভরশীল, তা তিনটি বাক্যে ব্যাখ্যা করো। খাদ্য আহরণ ছাড়া মানুষ আর কোন কোন প্রয়োজনে উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে?

উত্তর: উদ্ভিদ জড় উপাদানের ওপর নির্ভর করে নিজের খাদ্য তৈরি করে। উদ্ভিদ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে বায়ু থেকে কার্বন ডাই–অক্সাইড গ্রহণ করে এবং মাটি থেকে পানি শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করাজাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। যেহেতু আলো, বাতাস, পানি ও মাটি সবই জড় উপাদান, তাই বলা যায় উদ্ভিদ খাদ্য তৈরিতে সম্পূর্ণরূপে পরিবেশের জড় উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।

খাদ্য আহরণ ছাড়া মানুষ যেসব প্রয়োজনে উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে, তা হলো—

১. উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যে অক্সিজেন ত্যাগ করে, মানুষ শ্বাসকার্যের জন্য তা গ্রহণ করে বেঁচে থাকে।

২. বিভিন্ন ধরনের রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ উদ্ভিদ থেকে তৈরি হয়।

৩. মানুষের বসবাসের ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরির প্রধান উপাদান কাঠ আমরা উদ্ভিদ থেকে পাই।

প্রশ্ন: শ্বাসকার্যের জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের ওপর কীভাবে নির্ভরশীল, তা তিনটি বাক্যে লেখো। মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণী পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন, তা তিনটি বাক্যে ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণীর শ্বাসকার্যের আদান-প্রদান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। প্রাণী শ্বাসকার্যের সময় যে কার্বন ডাই–অক্সাইড গ্যাস ত্যাগ করে, উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির জন্য তা গ্রহণ করে। অন্যদিকে উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের ফলে যে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়, প্রাণীরা সেই অক্সিজেন শ্বাস গ্রহণের সময় ব্যবহার করে বেঁচে থাকে।

মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ মাটিতে মিশে পচে যায় এবং প্রাকৃতিক সারে পরিণত হয়। এর ফলে মাটিতে পুষ্টি উপাদান বৃদ্ধি পায়, যা সবুজ উদ্ভিদকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। এভাবে প্রকৃতিতে পুষ্টির চক্রাকার আবর্তন বজায় রাখার জন্য তথা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণী গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রশ্ন: উদ্ভিদ ও প্রাণী মানুষের ওপর নির্ভরশীল কেন? উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রতি মানুষের দুটি করে দায়িত্ব উল্লেখ করো। 

উত্তর: মানুষের ওপর প্রাণী ও উদ্ভিদ নানাভাবে নির্ভরশীল। যেমন বনায়নের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি এবং টিকে থাকার জন্য অনেক ক্ষেত্রে উদ্ভিদ ও প্রাণী মানুষের ওপর নির্ভরশীল। 

উদ্ভিদের প্রতি মানুষের দুটি দায়িত্ব হলো—

১. নিয়মিত পানি দেওয়া

২. উদ্ভিদ প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে বনায়ন করা।

প্রাণীর প্রতি মানুষের দুটি দায়িত্ব হলো—

১. খাদ্য সরবরাহ করা।

২. নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা।

প্রশ্ন: খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে? উৎপাদক ও খাদকের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। তিনটি প্রথম স্তরের খাদকের উদাহরণ দাও।

উত্তর: খাদ্য ও খাদকের মধ্যে যে পর্যায়ক্রমিক সম্পর্ক বিরাজ করে, তাকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে।

উৎপাদক ও খাদকের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো— 

১. উৎপাদক অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। কিন্তু খাদক তা পারে না। 

২. উৎপাদক খাদ্য তৈরির জন্য সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল। অপর দিকে খাদক খাদ্যের জন্য উৎপাদক বা অন্য প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল।

তিনটি প্রথম স্তরের খাদক হলো— 

১. ঘাসফড়িং, ২. গরু ও ৩. ছাগল। 

প্রশ্ন: খাদক কী? খাদককে কয়টি স্তরে ভাগ করা যায় ও কী কী? প্রতিটি স্তরের খাদকের একটি করে উদাহরণ দাও। 

উত্তর: প্রাণী নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না; বরং খাদ্যের জন্য সবুজ উদ্ভিদ বা অন্য প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল বলে প্রাণীদের খাদক বলে। খাদককে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়, যথা— 

১. প্রথম স্তরের খাদক।

২. দ্বিতীয় স্তরের খাদক ও 

৩. তৃতীয় স্তরের খাদক।

প্রথম স্তরের খাদকের উদাহরণ হলো হরিণ। দ্বিতীয় স্তরের খাদকের উদাহরণ হলো ব্যাঙ। তৃতীয় স্তরের খাদকের উদাহরণ হলো সাপ।

অভাবে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত। মূলত উদ্ভিদ ছাড়া মানুষের শ্বাসকার্য ও খাদ্য সংস্থান কোনোটিই সম্ভব নয়।

মানুষ চাষাবাদের মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি ও ফলাফলের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে। উদ্ভিদের সঠিক বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য জমিতে প্রয়োজনীয় সার ব্যবহার করে এবং রোগবালাই থেকে উদ্ভিদকে রক্ষা করতে, আগাছা দমন করে ও নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করতে পারে। বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষ নতুন নতুন বৃক্ষরোপণ করে উদ্ভিদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। এভাবে যত্ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে মানুষ উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

প্রশ্ন: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন কেন? ভারসাম্য নষ্ট হলে কী কী সমস্যা হতে পারে? 

উত্তর: পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। মানুষ ও সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন।

পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে নিম্নোক্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে— 

১. জলবায়ু পরিবর্তন, ২. খরা, ৩. ফসলহানি এবং ৪. খাদ্যজাল ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।


রমজান মাহমুদ, সিনিয়র শিক্ষক, গবর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুল, ঢাকা

Read full story at source