সব চেষ্টা করেও সংসার বাঁচাতে পারিনি! স্বামীর মদ্যপান নিয়ে মুখ খুললেন ‘ভাবিজি’ অভিনেত্রী
· Prothom Alo

হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভাঙ্গী আত্রে, যিনি ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়!’–এ ‘অঙ্গুরি ভাবি’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত, সাবেক স্বামী পীযূষ পুরের মদ্যপানের আসক্তি কীভাবে তাঁদের ২২ বছরের দাম্পত্য ভেঙে দিয়েছে, সে বিষয়ে আবারও মুখ খুলেছেন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ ২২ বছরের সংসারের ইতি টানেন শুভাঙ্গী ও পীযূষ। বিচ্ছেদের মাত্র দুই মাস পর লিভার সিরোসিসে মারা যান পীযূষ। এর আগে শুভাঙ্গী জানিয়েছিলেন, স্বামীর অ্যালকোহলে আসক্তিই তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
Visit turconews.click for more information.
সম্প্রতি হটারফ্লাইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শুভাঙ্গী বলেন, বিয়ের শুরুর দিকে তিনি স্বামীর আসক্তির গভীরতা বুঝতে পারেননি।
‘জানতাম, ও মদ খেতে পছন্দ করত। পার্টিতে আমিও কখনো কখনো পান করতাম। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন আসক্তি বাড়তে শুরু করল, তখন বুঝতেই পারিনি পরিস্থিতি কতটা গুরুতর হয়ে উঠেছে,’ বলেন শুভাঙ্গী।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, পীযূষ এতটাই দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি লুকিয়ে রাখতেন যে অনেক সময় তিনি বুঝতেই পারতেন না স্বামী মাতাল কি না।
‘ভাবতাম, হয়তো খুব ক্লান্ত বা ঘুম পাচ্ছে। কিন্তু পরে সেই আসক্তির প্রভাব ওর শরীরেও পড়তে শুরু করে,’ বলেন শুভাঙ্গী।
‘তখনই বুঝেছিলাম, এটা আর সুস্থ সম্পর্ক নয়’
স্বামীর আসক্তি তাঁদের দাম্পত্যে কী প্রভাব ফেলেছিল, সে প্রসঙ্গে শুভাঙ্গী বলেন, পীযূষ কিছুটা খিটখিটে হয়ে উঠেছিলেন, তবে কখনো তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেননি।
তবু শুভাঙ্গী উপলব্ধি করেছিলেন, এই সম্পর্ক আর সুস্থভাবে এগোচ্ছে না। ‘আমার কাছে বিয়ে মানে একসঙ্গে মানসিক, আর্থিক, আধ্যাত্মিক ও ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে যাওয়া। আমি সব সময় পীযূষকে বলতাম, নিজের উন্নতি আর সুখের জন্য কাজ করতে। কিন্তু ধীরে ধীরে ও নিজের কাজের প্রতিই আগ্রহ হারিয়ে ফেলল। আসক্তিই ওর জীবনের কেন্দ্র হয়ে গেল। তখনই মনে হয়েছিল, এভাবে আর চলতে পারে না,’ বলেন তিনি।
সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে
শুভাঙ্গী জানান, একসময় পুরো পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও তাঁর ওপর এসে পড়ে। তিনি বলেন, বিচ্ছেদ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই হয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত নিতে তাঁদের প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে।
‘সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছিল আমার কারণেই। আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না যে সংসার ভেঙে যাবে। চেয়েছিলাম, আমার মেয়ে যেন একই ছাদের নিচে মা–বাবাকে নিয়ে বড় হতে পারে। আমি এমন পরিবার থেকে এসেছি, যেখানে বিয়েকে অত্যন্ত পবিত্র ও আজীবনের সম্পর্ক হিসেবে দেখা হয়,’ বলেন অভিনেত্রী।
‘সফল হওয়ার কারণে আমি সংসার ছাড়িনি’
বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন, অভিনয়জীবনে সফল হওয়ার পরই তিনি স্বামীকে ছেড়ে গেছেন। তবে সেই ধারণা আগেই নাকচ করেছিলেন শুভাঙ্গী।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে শুভাঙ্গী বলেছিলেন, ‘মানুষ ভেবেছিল, আমি সফল হওয়ার পর স্বামীকে ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু তা একেবারেই সত্য নয়।’ তিনি জানান, সংসার বাঁচানোর জন্য তিনি সব ধরনের চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি পীযূষকে পুনর্বাসনকেন্দ্রেও (রিহ্যাব) পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রচেষ্টাই তাঁদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারেনি।
শুভাঙ্গীর মতে, ২০১৮–১৯ সালের দিকে পীযূষের আসক্তি আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং সেখান থেকেই সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। দীর্ঘ চেষ্টা-সংগ্রামের পর ২০২৫ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। মাত্র দুই মাস পর লিভার সিরোসিসে মারা যান পীযূষ।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ ২২ বছরের সংসারের ইতি টানেন শুভাঙ্গী ও পীযূষ।