শিশুদেরকে গোসল করাতে যে বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল করতে হবে

· Prothom Alo

শিশুদেরকে গোসল করানোর সময় পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শিশুর আরামের বিষয়টি খেয়াল করতে হবে।

Visit rhodia.club for more information.

শিশুদেরকে গোসল করানোর সময় কিছু বিষয় খেয়াল না রাখলে বিপদ ঘটতে পারে। ছোট বাচ্চাদেরকে আমরা সাধারাণয় টাব বা বোলের পানিতে রেখে গোসল করাই। এক্ষেত্রে যিনি গোসল করাচ্ছেন, তাঁকে বেশ সতর্ক থাকতে হবে। এক সেকেন্ডের জন্যও শিশুকে গোসলের পানিতে একা ফেলে যাবেন না। কারণ মাত্র দুই-তিন ইঞ্চি পানিতেও একটি শিশু খুব দ্রুত ডুবে যেতে পারে। শিশুকে গোসল করানোর জন্য আগে থেকে ভালো প্রস্তুতি, নিরাপদভাবে ধরে রাখা এবং পানির তাপমাত্রার প্রতি বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, যাতে গোসলের সময়টি শিশুর জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়।

কী কী করবেন না

কখনো শিশুকে একা রেখে যাবেন না

ফোন ধরতে, তোয়ালে আনতে বা অন্য কোনো শিশুর খোঁজ নিতে গিয়েও বাথরুম থেকে বের হবেন না।

পানিতে কল খোলা অবস্থায় শিশুকে রাখবেন না

শিশু পানিতে থাকা অবস্থায় কখনো কল খুলে বোলে গরম পানি ভরবেন না। কারণ পানির তাপমাত্রা দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে শিশুর চরম ক্ষতি করতে পারে।

অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না

শিশুর ত্বক বড়দের তুলনায় অনেক পাতলা ও সংবেদনশীল, তাই খুব সহজেই পুড়ে যেতে পারে।

পানির তাপমাত্রার প্রতি বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, যাতে গোসলের সময়টি শিশুর জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়

কটন বাড ব্যবহার করবেন না

শিশুর কানের ভেতরের অংশ বা নাকে কখনো কটন বাড বা তুলার কাঠি ঢোকাবেন না।

শিশুর মুখের ওপর সরাসরি পানি ঢালবেন না

এতে শিশুর শ্বাসকষ্ট, দম বন্ধ হওয়ার ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।

রাসায়নিকযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন

বড়দের সাবান, বাবল বাথ বা অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত পণ্য ব্যবহার করবেন না। এগুলো শিশুর ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করতে পারে।

শিশুকে গোসল করানোর ধাপে ধাপে নিয়ম

পরিবেশ প্রস্তুত করুন

পানি ভরার আগে প্রয়োজনীয় সব জিনিস হাতের কাছে রাখুন। যেমন নরম কাপড়, মৃদু শিশুর সাবান, পানি ঢালার কাপ, পরিষ্কার ডায়াপার এবং মাথা ঢাকার তোয়ালে।

গোসলের পর যাতে শিশুর ঠান্ডা না লাগে, ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক হওয়া উচিত

ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখুন

গোসলের পর যাতে শিশুর ঠান্ডা না লাগে, ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক হওয়া উচিত।

পানির তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন

বোলে ২ থেকে ৪ ইঞ্চি পানি নিন। পানির তাপমাত্রা কবজি ডুবিয়ে পরীক্ষা করুন। পানি কুসুম গরম অনুভূত হওয়া উচিত। আদর্শ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শিশুকে নিরাপদভাবে ধরার কৌশল

শক্তভাবে ধরে রাখুন

আপনার যে হাত কম ব্যবহার করেন, সেই হাত দিয়ে শিশুর মাথা ও ঘাড় ধরে রাখুন। অন্য হাত দিয়ে তাকে পরিষ্কার করুন।

প্রথমে পা পানিতে দিন

শিশুকে ধীরে ধীরে পা আগে পানিতে নামান। এতে তার মনে হবে না যে সে পড়ে যাচ্ছে।

পুরো গোসলের সময় শিশুর সঙ্গে শারীরিক যোগাযোগ বজায় রাখুন।

সবসময় একটি হাত শিশুর গায়ে রাখুন

পুরো গোসলের সময় শিশুর সঙ্গে শারীরিক যোগাযোগ বজায় রাখুন।

প্রথমে চোখ পরিষ্কার করুন

সাবান ছাড়া পরিষ্কার ভেজা কাপড় দিয়ে চোখের ভেতরের কোণ থেকে বাইরের দিকে আলতো করে মুছুন। প্রতিটি চোখের জন্য কাপড়ের আলাদা অংশ ব্যবহার করুন।

মুখ ও মাথা পরিষ্কার করুন

শুধু পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ মুছুন। মাথার ত্বকে অল্প পরিমাণে চোখ জ্বালাপোড়া না করা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু ধোয়ার সময় হাত দিয়ে শিশুর কপাল ঢেকে রাখুন, যাতে পানি চোখে না যায়।

ত্বকের ভাঁজগুলো পরিষ্কার করুন

ঘাড়ের ভাঁজ, বগল, কানের পেছনে এবং হাত-পায়ের আঙুলের মাঝের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। এসব জায়গায় দুধের অংশ ও আর্দ্রতা জমে থাকতে পারে।

সবশেষে প্রাইভেট পার্ট পরিষ্কার করুন

ডায়াপার পরার অংশটি সবশেষে পরিষ্কার করুন। সংক্রমণ ঠেকাতে সবসময় সামনে থেকে পেছনের দিকে পরিষ্কার করুন।

গোসলের পর যত্ন

সঙ্গে সঙ্গে তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে নিন

শিশুকে সাবধানে পানি থেকে তুলুন। মনে রাখবেন, ভেজা শিশু খুব পিচ্ছিল হয়। এরপর নরম তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে জড়িয়ে নিন।

নরম তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে জড়িয়ে নিন শিশুকে

ঘষবেন না, আলতো চাপ দিয়ে শুকান

ত্বক ঘষে না মুছে আলতো করে চাপ দিয়ে শুকিয়ে নিন। বিশেষ করে ত্বকের ভাঁজগুলো ভালোভাবে শুকানো জরুরি।

ময়েশ্চারাইজার ও পোশাক পরিয়ে দিন

ত্বক শুষ্ক হলে হালকা, সুগন্ধিবিহীন শিশুর লোশন ব্যবহার করতে পারেন। এরপর দ্রুত ডায়াপার ও পোশাক পরিয়ে দিন, যাতে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে।

অভিভাবকদের জন্য সাধারণ পরামর্শ

শুরুর দিকে স্পঞ্জ বাথ দিন

নাভির নাড়ির অবশিষ্ট অংশ পড়ে গিয়ে পুরোপুরি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত (সাধারণত জন্মের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে) শিশুকে শুধু স্পঞ্জ বাথ দেওয়া ভালো।

প্রতিদিন গোসল করানোর প্রয়োজন নেই

নবজাতকের সপ্তাহে মাত্র ২ থেকে ৩ বার পুরো গোসল করালেই যথেষ্ট। বেশি গোসল করালে শিশুর কোমল ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

শিশু যখন জেগে থাকে এবং শান্ত থাকে, তখন গোসল করান

সঠিক সময় বেছে নিন

শিশু যখন জেগে থাকে এবং শান্ত থাকে, তখন গোসল করান। খাওয়ানোর পরপরই বা যখন শিশু খুব ক্ষুধার্ত কিংবা ক্লান্ত থাকে, তখন গোসল করানো ঠিক নয়।

সূত্র: এন এইচ এস, রেইজিং বেবি নেটওয়ার্ক

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

Read full story at source